অন্যান্য 

সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প কেউ নেই , আর আমাদের নেত্রীর জনপ্রিয়তা-শক্তি -ক্ষমতার সঙ্গে বিজেপির কোনো নেতার তুলনা করা যায় না : ওয়েজুল হক

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শাসক তৃণমূল দলের ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৫৮ জনকে নিয়ে গঠিত হয়েছে কোর কমিটি।  সেই কমিটিতে রাজ্যের কয়েক জন মুসলিম নেতা সুযোগ পেয়েছেন । তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক ওয়েজুল হক অন্যতম । ওয়েজুল হক বাঙালি মুসলিম সমাজের একমাত্র প্রতিনিধি ( ফিরহাদ হাকিম বাদে ) । তরুন –যুবক কলকাতার অভিজাত মহলে পরিচিত মুখ ওয়েজুল হককে রাজ্য কোর কমিটিতে ঠাঁই দেওয়ায় বাঙালি মুসলিম সমাজে খুশির হাওয়া । তৃণমূল নেতা এবং রাজ্য কোর কমিটির সদস্য পদে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পাওয়ার পর বাংলার জনরবকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ওয়েজুল হক ।  সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সেখ ইবাদুল ইসলাম । দুটি কিস্তিতে তা প্রকাশ পাবে । আজ শেষ কিস্তি ।

প্রশ্ন : আমফান দূনীর্তিতে শাসক দল খানিকটা ব্যাকফুটে , করোনা-আমফানের জেরে রাজ্যের হাজার হাজার মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে তাদের জন্য আপনার দল কি কিছু করার চিন্তাভাবনা করছে ?

ওয়েজুল হক : আমফান দূনীর্তি কয়েকটি জায়গায় হয়েছে । কয়েক হাজার গ্রাম-পঞ্চায়েত রয়েছে তাদের মধ্যে দু-একটি জায়গায় এটা হয়েছে , যদিও সেটা কাম্য নয় । তারপর দল দূনীর্তি গ্রস্থদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে । সুতরাং শাসক দল ব্যাকফুটে তা ঠিক নয় । বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন । অন্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও শিক্ষা দিয়েছেন । কেমন করে দূনীর্তি বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হয় তা তিনি প্রমাণ করেছেন ।

আর আমফান এবং করোনা পরিস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষ অসহায় জীবন- যাপন করছে তাদের পাশে তৃণমূল কংগ্রেস আছে এবং থাকবে । আমরা যারা দলের সৈনিক তারা প্রত্যেকে ওই সব অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছি । এখন আমাদের দলেন সুস্পষ্ট নির্দেশ হল , অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর । সেই কাজটি এখন আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করে চলেছি । বাংলার ঐতিহ্য মেনে মানবিক মুখ হয়ে প্রতিটি তৃণমূল কর্মী এই কাজ করছেন । আর কেউ করছে না । আমরা কাজ করি , তাই কথা বলি না । আর বিরোধীরা সংবাদ-মাধ্যমে সমালোচনা করতেই ব্যস্ত । তাই আমাদের মূল কাজ হবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো ।

প্রশ্ন : ২০২১-এ কি আপনার পুনরায় ক্ষমতায় আসবেন ?

ওয়েজুল হক : ক্ষমতায় আসব কিনা সেই সিদ্ধান্ত মানুষ নেবে । কিন্ত একথা বলতেই পারি , মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে উন্নয়ন মূলক কাজকর্ম করেছে তাতে মানুষ নিজে থেকে ভোট দেবে তৃণমূলকে । রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে পানীয় জল প্রকল্প , কন্যাশ্রী-রূপশ্রী-যুবশ্রী-ঐক্যশ্রী এই সব প্রকল্পের মাধ্যমে মমতা সরকার মানুষের ঘরে পৌছে গেছে । ৩৪ বছরে বামেরা যা করতে পারেনি , ১০ বছরে আমরা তা করেছি ।  সুতরাং জয় নিয়ে কোনো সংশয় নেই ।

প্রশ্ন : বিজেপি দাবি করছে কম করে ১৯০টি আসন পেয়ে তারা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতাসীন হতে চলেছে ?

ওয়েজুল হক :  বাংলার মাটি দূর্জয় ঘাঁটি এখানে খুব সহজে  সাম্প্রদায়িক শক্তির ঠাঁই  হয় না । আবুল কালাম আজাদের মাটি , নজরুল-রবীন্দ্রনাথ –সুকান্তের মাটিতে বিজেপি ঠাঁই পাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে । অবশ্য ওরা দাবি করতেই পারে । ক্ষমতায় আসছি বলতেই পারে । তাতে কী আর ক্ষমতায় আসা যায় ! তবে শুনে রাখুন এই বাংলায় বিজেপি ঠাঁই পাচ্ছে না । গুজরাট থেকে বাংলার শাসন চলবে না , বাংলাকে চালাবে বাঙালিরাই । এই রাজ্যে কোনো ভাবেই সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা চাড়া দিতে পারবে না । আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তার সঙ্গে রাজ্যের কোনো বিরোধী নেতার তুলনা চলে না । সুতরাং যারা ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে তাদের স্বপ্ন কোনো দিন সফল হবে না । আর একটা বিষয় লক্ষ্য করুন ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে বিজেপি কোথাও মানুষের ভোটে জিততে পারছে না । তাই মানুষের সমর্থন না পেয়ে বিধায়ক কেনা বেচা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে । এই আদর্শহীন দলকে কী বাংলার মানুষ সমর্থন করতে পারে বলে বিশ্বাস করেন !

প্রশ্ন : বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এটাই নাকি শেষ ২১ জুলাই পালন ? এ নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া ?

ওয়েজুল হক : আবারও বলছি কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলায় ঠাঁই পাবে না । আগে ওরা নিজেদের মধে চলা দ্বন্দ্ব মেটাক তারপর না হয়, বাংলা নিয়ে ভাববে । দিলীপ ঘোষদের ক্ষমতা আছে রাজ্যের সব বুথে এজেন্ট দেওয়ার । যারা সব বুথে এজেন্ট দিতে পারবে  না , তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন না দেখায় ভাল । রাজনীতি জন্যই এসব কথা ওরা বলেন । কিন্ত ওরাও জানেন ,মমতার বিকল্প হওয়ার শক্তি আর ক্ষমতা কোনোটাই বিজেপির কোনো নেতার নেই ।

প্রশ্ন : রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজের কাছে আপনার বার্তা ?

ওয়েজুল হক : রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজের মানুষের কাছে আমার আবেদন এই যে , এখন আমরা একটি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি । একদিকে করোনা ভাইরাস , অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক শক্তির আগ্রাসন । এই অবস্থায় আমাদের প্রধান কাজ হল সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো । আর সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার মত নেত্রী এই মুহুর্তে বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সুতরাং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকে শক্ত করতে হবে ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment