কলকাতা 

মমতা সরকারকে হারানোর ছক কষতে গিয়ে প্রথম বৈঠকেই ভেস্তে গেল পরিকল্পনা ; দলে দুজন নেতা সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করছেন অভিযোগ করে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন মুকুল ! বিজেপির বাংলা জয় কী স্বপ্নই থেকে যাবে?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : ২০২১-এ বাংলা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বিজেপি । অথচ বিজেপি দলের সেনাপতিরা একে অপরের সঙ্গে লড়াই করছেন । এর বিরুদ্ধে ওর বিরুদ্ধে কূমন্তব্য করেই চলেছে । তাহলে কোন পথে বিজেপি । বাংলা জয়ের স্বপ্ন কি ধুলিসাৎ হয়ে যাবে ? মমতা সরকারকে বাংলা থেকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে দিল্লিতে চলছে বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠক । সেই বৈঠকে সবার আগে ডাক পেয়েছিলেন মুকুল রায় । তিনি মঙ্গলবারই দিল্লি যান । বুধবার দিল্লিতে এক কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতার বাড়িতে বসে সাংগঠনিক আলোচনা ।

কেন্দ্রীয় নেতা শিবকুমার বুধবারের বৈঠকের শুরুতেই রাজ্য বিজেপির নেতাদের বলেন , সমীক্ষা অনুযায়ী এখনই ভোট হলে আমরা ১৯০ টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসব ।  এরপর অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ মুকুল রায় নাকি বলেন , প্রতিটি বুথে এজেন্ট দেওয়ার ক্ষমতা কি আমাদের আছে ? সেটা আগে ভাবতে হবে । মমতার সঙ্গে লড়তে গেলে প্রতিটি বুথে এজেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে । দিলীপ ঘোষ বলেন , আমরা ১৯০ টি আসন কম করে পাচ্ছি । এনিয়ে ভাবার কোনো বিষয় নেই । এরপরেই নাকি বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন মুকুল রায় আর দিলীপ ঘোষ। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই মুকুল রায় বলেন , দিলীপ ঘোষ আর সুব্রত চ্যাটার্জি রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক দলের সংগঠনকে কুক্ষিগত করে রেখেছে ।

এরপর বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মুকুল রায় । তিনি দিল্লির বাড়িতে চলে যান । পরের দিন বৃহস্পতিবার বৈঠক হলেও সেই বৈঠকে মুকুল রায় যোগ দেননি । তিনি বৃহস্পতিবার সারাদিন দিল্লিতেই ছিলেন তা সত্ত্বে বৈঠকে যোগ দেননি । শুক্র বার তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন । সাংবাদিকদের বলেন , তাঁর চোখে ইঞ্জেকশন নেওয়ার জন্য তিনি কলকাতায় ফিরে এসেছেন । কিন্ত প্রশ্ন উঠেছে চোখে ইঞ্জেকশন তো দিল্লিতেও নেওয়া যেত তাহলে কলকাতা কেন ? বিজেপির নেতারা কিছু সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন , দিল্লিতে এই বৈঠকের পরেই নাকি বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হবে ।কিন্ত দেখা গেল বৈঠকের শুরুতেই ভেস্তে গেল ।

ডিজিটাল আনন্দবাজার পত্রিকার খবর অনুযায়ী বৃহস্পতিবারের বৈঠকে মুকুল রায়ের যোগ না দেওয়া এবং শুক্রবার তাঁর কলকাতায় ফিরে আসা ঘিরে দলের অন্দরে গুঞ্জন তুঙ্গে। অমিত শাহের তলব পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লি উড়ে গিয়েছিলেন মুকুল রায়। কেন্দ্রীয় নেতারা মুকুলকে বলেছিলেন, সপ্তাহব্যাপী বৈঠকেও হাজির থাকতে। কিন্তু এক দিন বৈঠক করেই যে ভাবে মুকুল ফিরে এসেছেন কলকাতায়, তাতে জল্পনা ছড়িয়েছে হু হু করে। শুধুমাত্র কয়েকটি বিষয়ে দিলীপের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে মুকুল কলকাতায় ফিরে আসেননি বলে বিজেপির একটি অংশের দাবি। বঙ্গ বিজেপির এক সামনের সারির নেতার বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘‘রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং রাজ্য সংগঠন সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায় কুক্ষিগত করে রেখেছেন গোটা সংগঠন। দু’জন সাধারণ সম্পাদক এবং দু’জন সহ-সভাপতি ছাড়া আর কাউকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তই করা হয়নি। দিল্লি যে নতুন রাজ্য কমিটি অনুমোদন করেছে, তার অধিকাংশ সদস্য-সদস্যাকে এখনও পর্যন্ত কোনও দায়িত্বই দেওয়া হয়নি। বৈঠকে তাঁদের ডেকে শুধু জানিয়ে দেওয়া হয়, কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাঁদের কোনও মতামত নেওয়া হয় না। অন্যান্য দল ছেড়ে বিজেপিতে ঢোকা বড় বড় নামকে কাজই দেওয়া হয়নি।’’ ওই নেতার কথায়, ‘‘অনেক দিন ধরেই এ সব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল। বুধবারের বৈঠক উত্তপ্ত হতেই সে সব নানা প্রসঙ্গে সামনে চলে এসেছে বলে শুনেছি। ফলে বাদানুবাদ চরমে পৌঁছনো অস্বাভাবিক কিছু নয়।’’

মুকুল রায় নিজে কিন্তু এই বাদানুবাদ প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন শুক্রবার। আনন্দবাজার ডিজিটালকে তিনি বলেছেন, ‘‘ও সব কিছু হয়নি।’’ তা হলে বৈঠক অসম্পূর্ণ রেখে কলকাতায় ফিরে এলেন কেন? বৃহস্পতিবার দিল্লিতে থেকেও বৈঠকে যোগ দিলেন না কেন? মুকুল রায় বলেছেন, ‘‘প্রথম দিনের বৈঠকে নীতি নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। আমি তাতে ছিলাম। তার পরের দিন থেকে জেলা ধরে ধরে আলোচনা হওয়ার কথা। সেই বৈঠকে আমার থাকার কোনও অর্থ হয় না। তা ছাড়া আমার চোখে ইঞ্জেকশন নেওয়ার বিষয়টাও ছিল। যে হেতু দিল্লিতে এখন থাকার কোনও প্রয়োজন নেই, আর চিকিৎসাটাও জরুরি, তাই ফিরে এলাম। পরে যখনই কোনও বৈঠকে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন হবে, নেতৃত্ব যখনই আমাকে ডাকবেন, আবার যোগ দেব।’’


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment