অন্যান্য 

শুভেন্দু- রাজীব- মহুয়া মৈত্ররাই তৃণমূলের প্রকৃত সম্পদ নেত্রীর সিলমোহরে প্রমাণ হয়ে গেল

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি বারবার রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন , আমার উপর আস্থা রাখুন , বিশ্বাস রাখুন সুবিচার আপনারা পাবেন । আমফানের পর রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের পঞ্চায়েত স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে যে দূনীর্তি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ ওঠে তা নিয়ে বিরোধীরা রাজ্য জুড়ে তোলপাড় করতে থাকে । রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে বিরোধীরা । এমনকি সাধারণ মানুষও প্রতিবাদে সামিল হয় । এরপরেই সক্রিয় হন স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন , কোনো দূনীর্তিকে প্রশয় দেওয়া হবে না । যারা অনৈতিকভাবে ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়েছেন তাদেরকে সেই টাকা ফেরত দিতে হবে । মুখ্যমন্ত্রীর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার কাজ শুরু হয় । তিনি এরপর বার্তা দেন যেসব নিচু তলার কর্মী দূনীর্তিতে যুক্ত আছেন তাদেরকে দল শাস্তি দেবে । সেই মোতাবেক শাস্তি প্রক্রিয়া শুরু হয় ।

পূর্ব মেদিনীপুরের একটি ব্লক নন্দীগ্রামের প্রায় ২০০ জন তৃণমূলের পঞ্চায়েত স্তরে নেতাদেরকে শোকজ করেছিলেন এলাকার বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী । কম করে ২৫ জন কর্মীকে একটি ব্লকেই বহিস্কার করা হয় । তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয় । কিন্ত দেখা গেল দূনীর্তির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার জন্যই শুভেন্দু অধিকারীর দলে প্রমোশন হয়েছে। তিনি রাজ্য তৃণমূল দলের কোর কমিটিতে স্থান পেয়েছেন । যেখানে মাত্র সাতজন প্রথম সারির নেতা রয়েছেন । এথেকে প্রমানিত হয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দূনীর্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রথম সারিতে থাকার জন্য শুভেন্দুকে গুরুত্ব দিলেন ।

রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন শুধু চুনোপুঁটিদের নয় , বরং রাঘব-বোয়াল ইলিশদের বিরুদ্ধেও দূনীর্তির ইস্যুতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত । এই সাক্ষাৎকার প্রচার হওয়ার পর রাজ্য জুড়ে আলোড়ন পড়ে যায় । এক শ্রেণির সমালোচক বলতে শুরু করেন এবার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল ছাড়া হতে হবে । কারণ তিনি মৌচাকে ঢিল মেরেছেন । কিন্ত আমরা বাংলার জনরব পরিস্কার ভাষায় লিখেছিলাম রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করা উচিত নেত্রীর । কারণ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেছেন তা আসলে সত্যি কথা বলেছেন । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত রাজীবের বক্তব্যকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া । সেই সঙ্গে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে বলে আমরা নেত্রীর কাছে আবেদন করেছিলাম । আমরা বলেছিলাম রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়রা প্রকৃত দলের সম্পদ , বাকীরা সব আপদ । নেত্রী বাংলার জনরব-এর আবেদনে সাড়া দিয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্য কমিটিতে ঠাঁই দিয়ে আসলে রাজ্যের হাজার হাজার সৎ তৃণমূল কর্মীকেই যথাযথ মর্যাদা দিলেন ।

মহুয়া মৈত্র কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী হওয়ার পর সংসদে তাঁর প্রথম ভাষণেই  দেশবাসীর প্রশংসা পেয়েছিলেন । যে ভাষায় তিনি মোদী সরকারকে আক্রমণ করেছিলেন তাতে সংসদের অনেক বাঘা বাঘা সাংসদও তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন । এমনকি জাতীয় নিউজ চ্যানেলগুলিও তাঁকে নিয়ে টকশো করতে বাধ্য হয়েছিল । একটি মোদী ভক্ত চ্যানেল তো তাঁর ভাষণকে নকল ভাষণ বলে কটাক্ষ করতে গিয়ে রীতিমত আইনি লড়াইয়ে পড়ে যান । ওই চ্যানেলের এডিটর ক্ষমা চাওয়ার পরও মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি । আইনি লড়াই এখনও চলছে ।

ভাল সাংসদ হলেই যে ভাল সংগঠক হবেন সেটা ঠিক নয় । কিন্ত মহুয়া মৈত্রকে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সভাপতি করে দেওয়ার পরেই তিনি যেভাবে দূনীর্তি নিয়ে মানুষকে সজাগ করতে শুরু করলেন , সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করে তাতে অনেক দূনীর্তিগ্রস্থ তৃণমূল নেতা তাঁর সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন । সমগ্র নদীয়া জেলা জুড়ে তাঁর তীব্র সমালোচনা চলে । দলের অন্দরে অনেকটাই তিনি কোনঠাসা হয়ে পড়েন । তবু তিনি দমেননি । বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও বেশি প্রচার করতে থাকেন । প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনা থেকে শুরু করে আমফানের ক্ষতিপূরণের টাকার কাটমানি না দেওয়ার জন্য তিনি আবেদন করেন । একই সঙ্গে তিনি বলেন , কেউ কাটামানি চাইলে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে । তিনি আরও বলেন , প্রয়োজন হলে এসডিও ও এসপির সঙ্গে কথা বলতে । এভাবে প্রচার চালানোর ফলে মানুষের কাছে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ।

শোনা যায় নদিয়া জেলার অনেক নেতা মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে নাকি তৃণমূল ভবনের কর্তাদের কাছে আসেন । ওই সব নেতারা তৃণমূল ভবনের কর্তাদের বলেন , মহুয়া আসলে এসব প্রচার করে বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছে । প্রমাণ করে দিচ্ছে তৃণমূলের নিচু স্তরে ব্যাপক দূনীর্তি হচ্ছে । অভিযোগ করার পর এই সব নেতা আবার জেলায় ফিরে গিয়ে বলতে থাকেন মহুয়া মৈত্রের দিন শেষ হয়ে আসছে । সেই সময় বাংলার জনরব প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেছিল , মহুয়া মৈত্ররাই তৃণমূলের সম্পদ , বাকীরা আপদ । তাই মহুয়া মৈত্রর মত নেত্রীদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত মমতার । বাংলার জনরব-এর এই আবেদন যে বৃথা যায়নি সেটা আরও একবার প্রমাণ পেল মহুয়া মৈত্রকে সমগ্র নদিয়া জেলার সভাপতি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিলেন তিনি দূনীর্তিগ্রস্থদের মোটেই প্রশয় দেবেন না ।

আপনারা হয়তো ভাবছেন বাংলার জনরব-এর কৃতিত্ব দাবি করায় আমাদের মূল লক্ষ্য, তা নয় । কারণ আমাদের মনে বিশ্বাস আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পারবেন । তিনি স্বচ্ছতা-সততার রাজনীতিকে মূল্য দেন । তাই আমরা আমাদের প্রস্তাব বাংলার জনরব-এর মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করি মাত্র । এতে বাংলার জনরব-এর কোনো কৃতিত্ব নেই , বরং সবটাই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃতিত্ব । আমরা সাংবাদিকতার আদর্শ মেনে সমালোচনার পাশাপাশি কী করলে ভাল হবে রাজ্যের মানুষের সেটা প্রস্তাব আকারে পেশ করি মাত্র ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment