দেশ 

‘‘চিন বলতে চাইছে যে, আমাদের সুরে গলা না মেলালে নরেন্দ্র মোদীর সর্বশক্তিমান ভাবমূর্তি গুঁড়িয়ে দেব’’ : রাহুল গান্ধী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক :  ‘‘ক্ষমতায় আসার জন্য মানুষের কাছে নিজের ভুয়ো সর্বশক্তিমান ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এত দিন সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল। কিন্তু দেশের জন্য তাঁর এই ভাবমূর্তিই এখন সবচেয়ে বড় দুর্বলতায় পরিণত হয়েছে।’’ আজ সকালে টুইটারে এভাবে মোদীকে আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ।

এদিন টুইটারে প্রায় দু’মিনিটের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন তিনি। সেই টুইটেই প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিকে দেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই সঙ্গে ওই ভিডিয়োয় লাদাখ পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘‘আগে থেকে পরিকল্পনা না করে কোনও কাজ করে না চিন। নিজেদের মতো করে পৃথিবীর একটা নকশা ছকে ফেলেছে তারা। এখন পৃথিবীকে সেই আকার দেওয়ার চেষ্টাই করছে তারা। গ্বদর, বেল্ট অ্যান্ড রোড তাদের এই পরিকল্পনারই অংশ।’’
রাহুলের ভাষায়, ‘‘হোক দেমচক অথবা প্যাংগং হ্রদ, সুকৌশলে সর্বত্র নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চাইছে চিন। আমাদের তৈরি রাস্তা ওদের চিন্তা বাড়িয়েছে। তাই ওই রাস্তাটিকে অপ্রয়োজনীয় বলে প্রতিপন্ন করতে চাইছে। আর যদি বড় ধরনের কোনও চিন্তাভাবনা থাকে ওদের, তাহলে আগামী দিনে পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে কাশ্মীরেও কিছু না কিছু করতে চাইবে।’’

ভারত ও চিনের মধ্যে এই সঙ্ঘাতকে শুধুমাত্র সীমান্ত বিরোধ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন । তিনি বলেন, ‘‘সীমান্ত বিরোধের নামে আদতে প্রধানমন্ত্রীর উপর চাপ বাড়ানোই লক্ষ্য চিনের। প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিতে আঘাত হানতে চাইছে ওরা। আসলে ওরা বুঝে গিয়েছে, সক্রিয় রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে হলে, যেন তেন প্রকারে ৫৬ ইঞ্চি ছাতির ভাবমূর্তি রক্ষা করতেই হবে নরেন্দ্র মোদীকে। এই ধারণার উপরেই আঘাত হানতে চাইছে চিন। আসলে ওরা বলতে চাইছে যে, আমাদের সুরে গলা না মেলালে নরেন্দ্র মোদীর সর্বশক্তিমান ভাবমূর্তি গুঁড়িয়ে দেব।’’

নিজের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্যই প্রধানমন্ত্রী চিনের সামনে নতি স্বীকার করেছেন বলেও অভিযোগ করেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘‘এখন প্রশ্ন হল, এই চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী কী করবেন? উনি কি রুখে দাঁডি়য়ে বলতে পারবেন যে, আমি প্রধানমন্ত্রী। ভাবমূর্তির পরোয়া করি না। নাকি চিনের সামনে নতিস্বীকার করবেন? কিন্তু আমার আশঙ্কা, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই নতিস্বীকার করেছেন। তাই চিন আমাদের ভূখণ্ডে বসে থাকা সত্ত্বেও উনি বলছেন কেউ নেই। এতেই বোঝা যায়, আসলে নিজের ভাবমূর্তিই নিয়েই যত মাথাব্যথা প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু এ ভাবে তাঁকে ব্যবহার করা যায়, চিনকে যদি এই বার্তা দিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী, তা হলে দেশের জন্য কাজ করছেন না উনি।’’


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment