জেলা 

 হলদিয়ায় শ্রমিক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি :  ফের কর্মী ছাঁটাই এর প্রতিবাদে কাজ বন্ধ করে দিল শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই ঘটনা ঘিরে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল হলদিয়া বন্দরে। পরে জইদুল আলি এবং সাকির হোসেন নামে দুই শ্রমিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায় হলদিয়া থানার পুলিশ। এরপর থেকে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় ঘন্টা তিনেক ধরে কয়েকশ শ্রমিক বিক্ষোভ দেখায় হলদিয়া থানার সামনে।
গণ্ডগোলের সুত্রপাত- এদিন সকালে হলদিয়া বন্দরে ঢুকতে গিয়ে বেশ কয়েক জন শ্রমিক বাধা পায় বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে- তারা একটি বেসরকারি পরিবহন সংস্থায় অস্থায়ী ভাবে কাজ করতো। কিন্তু, এদিন তারা বন্দরের বার্থে রেক খালাস করতে গেলে নির্ধারিত গেট পাশ ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শ্রমিকরা জানিয়েছে- অনেকে গেট পাশ দিয়ে দিলেও অধিকাংশ রা আপত্তি জানায়। তার যেতে এদিন লোহা খাস বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিক্ষোভ দেখায় তারা। কিচ্ছুক্ষন বাদে হলদিয়ার চিরঞ্জীবপুরে একটি খাওয়ার দোকানে ঢুকে জইদুল এবং সাকির নামে দুজনকে ধরে নিয়ে যায় হলদিয়া থানার পুলিশ। অভিযোগ – তারা এদিন পন্য খালাসের কাজে বাধা দেয়। এদিকে দুই সহকর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে হলদিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় প্রায় শ তিনেক শ্রমিক। তাদের দাবি- অবিলম্বে সব শ্রমিককে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করতে হবে। প্রায় তিন ঘন্টা বিক্ষোভ চলার পর আটক দুই শ্রমিককে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, এদিন যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছিল তারা হলদিয়া বন্দরে লোহা মাটি খালাস করে। তার জন্য ঠিকাদার সংস্থার তরফে গেট পাশ দেওয়া হয়। প্রতি মাসে তা নবীকরন করতে হয়। শ্রমিকদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে- প্রতি মাসে ২৬ দিনের মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েক দিন কাজ পাই। এতে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে যায়। তাসত্বেও, কর্ণপাত করেনি কোনো পক্ষ। জইদুলের দাবি-আমরা সবাই তৃণমুল প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠন করি। আমাদের যেভাবে কাজ না দিয়ে ঝুলিয়ে দেয়াও হচ্ছিল তার প্রতিবাদ করেছিলাম। তাই পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল। এদিকে শ্রমিকদের ছেড়ে দেওয়া হলেও, তারা এদিন কাজে যোগ দেয় নি বলে সুত্রের খবর। এ ব্যাপারে হলদিয়া বন্দরের প্রশাসনিক ম্যানেজার অমল কুমার দত্ত জানান-আমি কলকাতা অফিসে রয়েছি। এখন কিছু বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। এ বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা আই এনটিটিইউসি র কার্যকরী সভাপতি শিবনাথ সরকার বলেন- গন্ডগোলের খবর পেয়েছি। তবে এর সঙ্গে দল বা সংগঠনের কেউ জড়িত নয়। শ্রমিকদের দাবি- তাদের ছাঁটাই করতে হলে শ্রম আইন মেনে অনেক ক্ষতিপুরন দিতে হবে। তাই ছাঁটাই না করে এমন বঞ্চিত করে রাখা হয় বছর বছর। এদিকে, শ্রমিকদের ধরপাকড়ের ব্যাপারে হলদিয়ার এসডিপিও তন্ময় মুখোপাধ্যায় জানান- বন্দরে কাজ করা নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়েছিল। তাই দুজনকে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment