কলকাতা 

অমিত শাহের প্রশ্নের মুখে রাজ্য বিজেপির নেতারা অসহায় ! সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফলগুলি নিয়ে আলোচনা করার নির্দেশ অমিতের

শেয়ার করুন
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিবেদক : বহু চর্চিত বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর বাংলা সফর আজ থেকে শুরু হয়েছে। কিন্ত প্রথম দিনেই অমিতের প্রশ্নের জবাব দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে দিলীপ-রাহুল-মুকুলদের। কেন এখনও পর্যন্ত সব বুথে কমিটি গঠন করা গেল না তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন অমিত শাহ । ২০২১ নয়,২০১৯-র কথা চিন্তা করে লড়াই করতে হবে বলে সাফ জানিয়েছেন অমিত । তিনি বুধবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে পোর্ট -ট্রাষ্টের গেষ্ট হাউসে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি পরিস্কার বলেন,সন্ত্রাসের অজুহাত নয়, সংগঠনকে ঢেলে নাজাতে হবে। সেটা না করতে পারলে সাফল্য আসবে না। ২২ কিংবা ২৬ নয় একশো শতাংশ আসনকে টার্গেট করে লোকসভা নির্বাচনে ঝাপাতে হবে । আর সেটা করতে পারলে তবেই ৫০ শতাংশ আসন পেতে পারি । বিজেপি নেতাদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে কোন সমঝোতা নয় । গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে বাংলার নির্বাচনে সন্ত্রাস নিয়ে মন্তব্য করেছেন। বিজেপির রাজ্য নেতারা অভিযোগ করেন, শাসক তৃণমূল সন্ত্রাস করে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছে । এমনকি বেশ কিছু জয়ী পঞ্চায়েত সদস্য শাসক দলের ভয়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে আত্মগোপন করে আছে । বিজেপি নেতাদের কাছে এই খবর শুনে তিনি বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ দমদম বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পোর্ট-ট্রাষ্ট গেষ্ট হাউসে পৌছান সেখানে দুপুরের খাবার খাওয়ার পর রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে তিনি দিলীপ ঘোষের জানতে চান ১০০% বুথে কমিটি গড়া হয়নি কেন ? তারপর জানিয়ে দেন আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এখানে ২২ টি আসন পেতে চায় , এর জন্য যা করার রাজ্য নেতৃত্ব করুক । কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সব রকম সাহায্য করবে । এই বৈঠক শেষ করার পর হাওড়া শরৎ সদনে তিনি বিজেপির আইটি সেলের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন । সেখানে তিনি বলেন, অন্য বিজেপি রাজ্যগুলির সঙ্গে এই রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা তুলনামূলক আলোচনা করতে হবে এবং তা সোস্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করতে হবে। কোন সংবাদ মাধ্যম বিজেপির বিরুদ্ধে খবর করলে সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন,বাংলার ঘরে ঘরে যেতে হবে বিজেপির আইটি সেলের কর্মীদের। বাংলা ভাষায় মানুষকে বোঝাতে হবে ,ইন্টারনেটের ব্যবহার শেখাতে হবে সাধারণ মানুষকে ,কেন্দ্রীয় সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির কথা প্রচার করতে হবে।

এরপর তিনি কলকতার বিড়লা সভাঘরে বঙ্গিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্মারক বক্তব্য দেন । সেখানে তিনি কথা সম্রাট বঙ্গিমের রাষ্ট্রবাদী চিন্তাভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রবাদী ভাবনা থেকেই বন্দেমাতরম গান তিনি লিখেছিলেন। এরপর তিনি জাদুঘরে বিজেপি সংগঠনের বিস্তারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলে দেন যেকোনভাবে আমাদেরকে এই রাজ্য থেকে অর্ধেক আসন পেতেই হবে। এদিন গভীর রাত পর্যন্ত বিজেপির রাজ্য নেতাদের সঙ্গে আগামী লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে বিজেপির নীল-নকশা ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।


শেয়ার করুন
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment