কলকাতা 

রাজ্যের ৩০% মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সব রাজনৈতিক দলই কোটা সিস্টেম রাজনীতি করে থাকে,রাজনীতির স্বার্থেই তাদেরকে ব্যবহার করা হয়: ড. আব্দুস সাত্তার

শেয়ার করুন
  • 504
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ড. আব্দুস সাত্তার – বামফ্রন্ট সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন(২০০৬-১১)। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে তাঁর নেতৃত্বে রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের আমূল পরিবর্তন হয়। তিনি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর এবং মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন গঠনসহ রাজ্যের ৬১৪টি মাদ্রাসাকে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দিয়েছিলেন।সংখ্যালঘু উন্নয়নে আব্দুস সাত্তার সাহেব অনেক কাজ করলেও বাংলার সংখ্যালঘু সমাজ ২০১১র বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টকে সমর্থন করেনি।এমনকি আব্দুস সাত্তারকেও আমডাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রে হেরে যেতে হয়েছিল।

তারপর কেটে গেছে  সাত বছর ড. আব্দুস সাত্তার অভিমানে সিপিএম দলের সদস্য পদ নবীকরন করাননি।নীরবে নিঃশব্দে দলের যাবতীয় কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে এখন কলেজে পড়াচ্ছেন এবং স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে বাস করছেন।ইতিমধ্যে অবশ্য তাঁর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে কাজে লাগিয়ে সংবিধানে প্রদত্ত সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট সংখ্যালঘুদের পক্ষেই রায় দিয়েছে।সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে।আশা করা হচ্ছে কয়েকমাসের মধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংখ্যালঘুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে  সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত রায় প্রদান করবে।এর বাইরে গিয়ে জনাব ড. আব্দুস সাত্তার এবার অভিযোগ করেছেন রাজ্যের ৩০% মুসলিম জনগোষ্ঠীকে রাজনীতির স্বার্থে  ব্যবহার করা হচ্ছে। সিপিএম দলে সাংসদ পদে মুসলিম প্রার্থী করা হলেও, জেলা সম্পাদক পদে মুসলিম নেতাকে নির্বাচন করা হয় না। এই ট্রাডিসন রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই বিদ্যমান। ব্যতিক্রম অবশ্যই কংগ্রেস। এই বহু চর্চিত রাজনৈতিক বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন সেখ ইবাদুল ইসলাম । আজ শেষ কিস্তি ।

প্রশ্ন:এক সময়ে বামেদের বলা হত সংখ্যালঘুদের তোষণ করছে।এখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির অভিযোগ তারা সংখ্যালঘুদের তোষণ করছে। কিন্তু সত্যিই কি সংখ্যালঘু তোষণ হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?

ড.আব্দুস সাত্তার :  আমাদের রাজ্যে সব দলই ৩০%মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নিয়ে রাজনীতি করছে। তাহল, প্রতীকী রাজনীতি বা কোটা সিস্টেম রাজনীতি। বামেরা যা করেছে, তৃণমূলও তাই করছে কোনো ব্যতিক্রম নেই । তবে কংগ্রেস দল এর মধ্যে খানিকটা ব্যতিক্রম।
সিপিএম দলের প্রধান দোষ হল এরা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় সাংসদ পদে প্রার্থী করবে মুসলমানকে।কিন্তু জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য  বা জেলা সম্পাদক কোন মুসলিম নেতাকে করবে না। তৃণমূলের দোষ হলো এরা পঞ্চায়েত স্তরে অনেক মুসলিমকে নেতৃত্বের সুযোগ দিয়েছে । কিন্তু রাজ্য স্তরে কোনো মুসলিম নেতাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। অথচ কংগ্রেস দলে বিরোধী দল নেতা থেকে শুরু করে ওরা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রীও ছিলেন মুসলমান।রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদেও মুসলিম নেতাকে বসানো হয়েছিল। আসলে সংখ্যালঘু তোষণ মানে কিছু ব্যক্তিকে পাইয়ে দেওয়া নয়। সেটা ব্যক্তির লাভ হয় ঠিকই পুরো সমাজের কোন লাভ হয় না। সুতরাং সংখ্যালঘু তোষণ হচ্ছে এই অভিযোগ ঠিক নয়। বরং বলা যেতে পারে,সব রাজনৈতিক দল তাদের নিজেদের স্বার্থে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করেছে। বিনিময়ে সরকারি সুযোগ সুবিধা ছিটেফোটা দিলেও রাজনৈতিক ক্ষমতা তাদের দেওয়া হয়নি। সিপিএমের আমলে সংখ্যালঘুরা যা পেয়েছে মমতার আমলে তার চেয়ে কিছু বেশি পেয়েছে বলে আমার মনে হয়নি।

প্রশ্ন : আপনি কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সমাজের প্রতি দৃষ্টিকোণের প্রশংসা করছেন ? অথচ মমতার তৃণমূলকে বলা হয় আসলে সংখ্যালঘুদেরই রাজনৈতিক দল ? এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া ?

ড. আব্দুস সাত্তার : আসলে বিষয়টি তা নয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রশ্ন । কর্ণাটকে কত মুসলমান বাস করে ? তাদের শতকরা হার কত ? কিন্ত সেখানকার মন্ত্রীসভায় মুসলিম ব্যক্তিকে উচ্চ- শিক্ষামন্ত্রীও করার নজীর রয়েছে। এবার সেই রাজ্যে মন্ত্রীসভা গঠনের সময় কংগ্রেসের মুসলিম বিধায়ককে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি উঠেছিল। আমাদের রাজ্যে এটা কল্পনা করা যাবে? আর দেখুন কংগ্রেস দলের নীতিনির্ধারণ কমিটিতে আহমেদ প্যাটেল,সলমান খুরশিদ,গোলাম নবী আজাদের মত মুসলিম নেতারা আছেন। আছেন শুধু নয়, তাদের যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। রাজ্যসভায় সদস্য পদ বাছাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলির প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়। আমাদের রাজ্যে বর্তমান শাসক দল কিংবা আগের শাসক দলে মুসলিম নেতাদের গুরুত্ব কী তা একটু খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে  যাবে। তাহলে প্রচার এবং বাস্তব আরও সুস্পষ্ট ভাবে মানুষের কাছে ধরা পড়বে।


শেয়ার করুন
  • 504
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment