অন্যান্য 

আমরা সংবিধানকে মান্যতা দিয়েই তৈরি করেছিলাম মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন : ড. আব্দুস সাত্তার

শেয়ার করুন
  • 306
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ড. আব্দুস সাত্তার – বামফ্রন্ট সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন(২০০৬-১১)। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে তাঁর নেতৃত্বে রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের আমূল পরিবর্তন হয়। তিনি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর এবং মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন গঠনসহ রাজ্যের ৬১৪টি মাদ্রাসাকে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দিয়েছিলেন।সংখ্যালঘু উন্নয়নে আব্দুস সাত্তার সাহেব অনেক কাজ করলেও বাংলার সংখ্যালঘু সমাজ ২০১১র বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টকে সমর্থন করেনি।এমনকি আব্দুস সাত্তারকেও আমডাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রে হেরে যেতে হয়েছিল।

তারপর কেটে গেছে  সাত বছর ড. আব্দুস সাত্তার অভিমানে সিপিএম দলের সদস্য পদ নবীকরন করাননি।নীরবে নিঃশব্দে দলের যাবতীয় কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে এখন কলেজে পড়াচ্ছেন এবং স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে বাস করছেন।ইতিমধ্যে অবশ্য তাঁর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে কাজে লাগিয়ে সংবিধানে প্রদত্ত সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট সংখ্যালঘুদের পক্ষেই রায় দিয়েছে।সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে।আশা করা হচ্ছে কয়েকমাসের মধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংখ্যালঘুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে  সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত রায় প্রদান করবে।এক সময়কার সিপিআইএম এর সংখ্যালঘু মুখ কেন দল ত্যাগ করলেন? বর্তমান রাজ্য সরকার সংখ্যালঘুদের সার্বিক উন্নয়নে কতটা কাজ করেছে এবং তাঁর গঠিত মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন কেন সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে ?এ নিয়ে বাংলার জনরবের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন সেখ ইবাদুল ইসলাম । কয়েকটি কিস্তিতে তা প্রকাশ করা হচ্ছে ।আজ তৃতীয় কিস্তি।

প্রশ্ন:আপনারা মাদ্রাসাগুলিকে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দিয়েছেন আবার মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন গঠনও করেছেন। আজ সেই সার্ভিস কমিশন সাংবিধানিক অধিকারের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ৫বছর মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ হয়নি ।মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে এর জন্য আপনারা কি দায়ী নন?

আব্দুস সাত্তার :স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ১৯৯৭ সাল থেকে মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছিল।কমিশনের সংরক্ষণ বিধি মেনে জেলা পরিদর্শকরা  পদ পূরণের তালিকা পাঠাতো। ফলে সংরক্ষণের রীতি মেনে আরবি ভাষা ও ধর্মতত্ত্বে শিক্ষক পদগুলিও সংরক্ষণের আওতায় চলে আসে।এরপর বছরের পর বছর ধরে এই পদে শিক্ষক নিয়োগ হতো না।তাই মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এর সমাধান সূত্র বের করার চেষ্টা করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত আমরা সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিই । মাদ্রাসাগুলিকে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া হবে।আর এটা দেওয়া হলে মাদ্রাসাগুলিতে সংরক্ষিত কোনো পদ থাকবে না।
প্রশ্ন:আর এটা করতে গিয়ে সংবিধানে বর্ণিত ৩০নম্বর ধারায় সংখ্যালঘুদের অধিকার………?

আব্দুস সাত্তার :  সংবিধানের প্রণেতারা ৩০নম্বর ধারাটি তৈরি করেছিলেন যাতে সংখ্যালঘুদের অধিকার কোনো ভাবেই বঞ্চিত না হয় তার জন্য, এই ধারাটি রক্ষা কবজ হিসাবে কাজ করবে। আমরা সংবিধানকে মান্যতা দিয়েই তৈরি করেছিলাম মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন।

(এক)মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন শুধুমাত্র সুপারিশ কর্তা, নিয়োগ কর্তা হলো মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটি। তবে এক্ষেত্রে বলা হয়েছিল সুপারিশ মানাটা বাধ্যতামূলক।

(দুই) যে সংস্থা সুপারিশ করছে অর্থাৎ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনও সংখ্যালঘু মর্যাদা প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা।সংখ্যালঘু মর্যাদা প্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান আরেকটি সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুণমান সম্পন্ন শিক্ষক বেছে নিয়ে সুপারিশ করেছে মাত্র।

(তিন)মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট উমাদেবী মামলার প্রেক্ষিতে রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বলেছিল পেছনের দরজা দিয়ে কোনো নিয়োগ করা যাবে না।বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সকলকে জানিয়ে নিয়োগ করতে হবে।তাহলে রাজ্যের মাদ্রাসাগুলির এমন কোনো পরিকাঠামো নেই তারা বিজ্ঞাপন দিয়ে হাজার হাজার প্রার্থীর পরীক্ষা নিয়ে একটি পদের যোগ্যতম প্রার্থী বাছাই করবে।

(চার) শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়া ছাত্র ছাত্রীদের জন্য গুণমান সম্পন্ন শিক্ষক বাছাই করা কি সংখ্যালঘু অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে?
(পাঁচ)১৯৯৭সাল থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ হয়ে আসছে।এতদিন তাহলে কি সংখ্যালঘুদের অধিকার বঞ্চিত হয়নি? যখন মাদ্রাসাগুলিকে সংখ্যালঘু স্ট্যাটাস প্রদানের মাধ্যমে তাদের অধিকার আরও সুরক্ষিত করা হল । তখন কিসের ভয়?

প্রশ্ন: তাহলে রাজ্য সরকার কলকাতা হাইকোর্টে সিঙ্গেল থেকে ডিভিশন বেঞ্চ সব ক্ষেত্রেই সাংবিধানিক অধিকার প্রশ্নে হেরে গেছে ?শুধু তাই নয় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চও মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে অবৈধ্ অসাংবিধানিক বলেও অভিহিত করেছে কেন?

আব্দুস সাত্তার :প্রথমেই স্পষ্ট করে বলি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন মামলায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা ছিল দিশাহীন। তাদের আন্তরিক সদিচ্ছার অভাবের  কারণে কলকাতা হাইকোর্ট এই রায় দিয়েছিল।সমস্যাটা হচ্ছে মামলাটি যখন সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে তখন কোনো সংবিধান বিশেষঞ্জ আইনজীবীকে দিয়ে মামলাটি লড়লে কলকাতা হাইকোর্টে এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যেত । মূল কথা হল,সংবিধানের ৩০নম্বর ধারায় প্রদত্ত সংখ্যালঘুদের অধিকার এই কমিশন গঠনের মাধ্যমে খর্ব হচ্ছে কি না এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা মহামান্য আদালতে উপস্থাপিত করতে হবে যা এতক্ষন আমি ব্যাখ্যা করলাম।


শেয়ার করুন
  • 306
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment