অন্যান্য 

নিজামউদ্দিনে অজিত দোভাল , নেপথ্যে রহস্য কী ?/২ জানতে হলে ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রকাশিত অংশের পর …

সেখ ইবাদুল ইসলাম :  প্রথমত , নিজামউদ্দিনের মারকাজে যা হয় তার প্রতিদিনের ঘটনাক্রম কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় । সুতরাং মারকাজে বিদেশী অতিথিরা আছেন সেটা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানে না এটা অন্তত আদালতে দাঁড়িয়ে অস্বীকার করতে পারবে না কেন্দ্র ।

দ্বিতীয়ত , ১৩ মার্চ যেদিন মারকাজে অনুষ্ঠান হয়েছিল সেদিনের ঘটনাবলীও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানানো হয় বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে । কারণ নিজামউদ্দিনে যাওয়া মানুষগুলির লিষ্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যগুলিকে কীভাবে পাঠাল ? এমনকি বিদেশীদের তালিকাও তারা পাঠিয়েছে । সুতরাং এটা পরিস্কার মারকাজ যারা করে সবটাই সরকারকে জানিয়ে । সেই সঙ্গে ১৩ মার্চ সরকার নিজেই বলেছে করোন ভাইরাসে হেল্থ এমারজেন্সী নয় ।

তৃতীয়ত, ১৫ মার্চ তবলিগ জামাতের অনুষ্ঠান শেষ হয় । ১৬ মার্চ দিল্লিতে করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় । তখনই পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি । কিংবা কেন্দ্র সরকার তেমন কিছু বিপদের কথা বলেনি ।

চতুর্থত : চীন থেকে আসুক কিংবা মালোশিয়া থেকে আসুক না কেন ? তাদের অনুমতি বা ভিসা তো আর নিজামউদ্দিন দেয়নি । তাদের ভিসা দিয়েছে কেন্দ্র সরকার । ভিসা দিয়ে যাদেরকে ভারতে আসার সুযোগ করে দেওয়া হল  তাদেরকে ভারত থেকে চলে যাবার কথা না বলে লকডাউন কেন করা হল ?

পঞ্চমত : প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ লকডাউন ঘোষণা করার পরেই ২৫ মার্চ মারকাজের পক্ষ থেকে সরকারকে চিঠি দেওয়া হয় সেখানে বলা হয় এতগুলো বিদেশী নাগরিক আটকে , এতগুলি বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ আটকে রয়েছে তাদেরকে বাড়ি চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক । ২৫-৩০ মার্চ পর্যন্ত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি ?

ষষ্ঠত , তামিলনাড়ু ও জম্মু-কাশ্মীরে যে ব্যক্তিগুলি এই সমাবেশে যোগ দিয়ে বাড়ি ফিরে মারা গেছে বলে সংবাদ বেরিয়েছে , সেক্ষেত্রে কী এটা প্রমাণ করা যাবে যে নিজামউদ্দিন থেকে সংক্রমণ নিয়ে তামিলনাড়ু ও কাশ্মীরের মানুষটি বাড়ি ফিরে মারা গেছেন । তামিলনাড়ু এবং কাশ্মীর থেকে আরও বেশ কয়েক জন মানুষ ওই সভায় যোগ দিয়েছিলেন তারা কী করোনা আক্রান্ত হয়েছে ? এমনকি নিজামউদ্দিন থেকে বাংলায় আসা ৭১ জন মানুষের মধ্যে ক’জনের করোনা পজিটিভি ? জানাবেন মিডিয়ার তাবড় তাবড় সাংবাদিকরা ?

সপ্তমত , বলা হচ্ছে টুরিষ্ট ভিসা নিয়ে ওরা এসেছিলেন । বিগত ৯৫ বছর ধরে টুরিষ্ট ভিসা নিয়েই নিজামউদ্দিনের তবলিগ জামাতের কর্মীরা আসা যাওয়া করছেন , পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ সরকার এনিয়ে বাধা দেয়নি , স্বাধীন ভারতে ৭২ বছরের ইতিহাসে তবলিগ জামাতকে এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়নি । মোদী সরকারের ৬ বছরের ইতিহাসে তবলিগ জামাতকে এনিয়ে বিব্রত করেনি কেন্দ্রও। তাহলে এখন এসব প্রশ্ন কেন ? নাকি দায়ী এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল । আর টুরিষ্ট ভিসা দিলে লাভ হবে তো সরকারের ? মিশানারী ভিসা দিলে সরকারের তুলনায় লোকসান ? কারণ সেক্ষেত্রে অনেক কিছু ছাড় দিতে হবে।

তবে এটা ঠিক নিজামউদ্দিন মারকাজ নিয়ে হইচই করে আমাদের দেশের মূল সমস্যা অভিবাসী শ্রমিকদের কথাকে ভুলিয়ে দেওয়া চেষ্টা করা হয়েছে । কিন্ত নিজামউদ্দিনে অজিত দোভাল যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের দায় এবং দায়িত্ব যাতে জনসমক্ষে প্রকাশ না হয় তারজন্য মাওলানা সাদ সাহেবের সঙ্গে গভীর রাতে বৈঠক করলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ?

সব শেষে বলব , দেশের দায়িত্ববান নাগরিক হিসাবে আমি মনে করি তবলিগ জামাত এই ইসতেমা না করলেই ভাল করতেন । এমনকি তবলিগ জামাত এই সময় ইসতেমার ডাক দিয়ে আসলে নিজের সম্প্রদায়ের মানুষকেই বিপদে ফেলেছেন সবচেয়ে বেশি। কারণ তবলিগের লোকেরা মসজিদগুলিতে গিয়ে ধর্মপ্রচার করে  আর এই মসজিদগুলিতে যুবক থেকে বৃদ্ধ সব ধরনের মানুষের যাতায়াত আছে । সুতরাং এই আয়োজন না করলে খুব ভাল হত । সেই সঙ্গে মিডিয়ার কাছে আমার আবেদন এই যে , দয়া করে নিজামউদ্দিনকে টার্গেট করবেন । দেশজুড়ে এক শ্রেণির মানুষ উগ্র সাম্প্রদায়িকতা প্রচার করে চলেছে , মিডিয়ার এই ভূমিকায় তা আরও বেশি গতি পেল বলে মনে হয় ।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment