দেশ 

দোভালের নেতৃত্বে খালি করা হল নিজামউদ্দিনের তবলিগ জামাতের মসজিদ , গোয়েন্দাদের ব্যর্থতা ঢাকতেই কি দোভালকে নামাল অমিত ?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : দিল্লির তবলিগ জামাতে মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হল । খালি করে দেওয়া হয়েছে সমগ্র মসজিদ প্রাঙ্গন । সবাইকে বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে । দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের নেতৃত্বেই এই অপারেশন হয় । তিনি গতকাল রাতেই তবলিগ জামাতের প্রধান কার্যালয় নিজামউদ্দিনে যান । সেখানে গিয়ে মাওলানা সাদ সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন । তিনি তাঁকে বোঝান । কেন মসজিদ খালি করা প্রয়োজন ? মসজিদকে জীবানুমুক্ত করার জন্যই মসজিদ খালি করা হচ্ছে বলে দোভাল মাওলানা সাদ সাহেব বলেন । এরপরেই পুলিশকে মসজিদে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয় ।

বুধবার সকাল দিল্লির নিজামউদ্দিন এলাকা দেখতে পায় সমগ্র মসজিদ খালি হয়ে গেছে । নিজামউদ্দিন রেলওয়ে স্টেশন থেকে ডিফেন্স কলোনি পর্যন্ত একটা বড় এলাকাকে প্রথমে সিল করে দেওয়া হয় ডোভালের নির্দেশে। এর ফলে লাটিয়েন’স দিল্লি থেকে বিচ্ছিন হয়ে পড়ে দক্ষিণ দিল্লির লাজপত নগর বা চিত্তরঞ্জন পার্কের মতো এলাকা। স্থানীয়দের অনেকেই প্রথমে ভেবেছিলেন, গোটা এলাকায় জীবাণুনাশক ছড়ানো হবে। ডোভাল যে পুরো মরকজ চত্বর খালি করে দেওয়ার অভিযানে নেমেছেন, তা কেউ আঁচ করতে পারেননি।

বুধবার সকাল থেকে অভিযানের রূপরেখা স্পষ্ট হতে শুরু করে। এলাকা সিল হয়ে থাকায় সে ভাবে কেউ রাস্তায় বেরনোর সুযোগ পাননি। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে চোখ রেখে দিল্লিবাসী বুঝতে পারেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার নেতৃত্বে কী ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্তও যাঁরা মরকজে থেকে গিয়েছিলেন, তাঁদের বার করে নিয়ে গিয়ে আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। তাঁদের শারীরিক পরীক্ষা শুরু হয়। যাঁরা ইতিমধ্যেই অসুস্থ, তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসাও শুরু হয়ে গিয়েছে। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট যদি পজিটিভ আসে, তা হলে তৎক্ষণাৎ তার চিকিৎসা শুরু করার প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে।
 

পুলিশি অভিযান শেষ হতেই স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা মরকজে ঢোকেন। জল দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয় মসজিদ, দরগাহ-সহ গোটা মরকজ চত্বর। পুরোটাতেই জীবাণুনাশক ছেটানো হয়। ছড়িয়ে দেওয়া হয় ব্লিচিং পাউডার। আপাতত মরকজ চত্বরে কাউকে থাকতে দেওয়া হবে না— জানিয়েছে প্রশাসন। সেখানকার মসজিদে আপাতত নামাজের জমায়েতও হবে না বলে প্রশাসন জানিয়েছে। শুক্রবারের নামাজও নয়।

এদিকে , ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে , দিল্লির আইন-শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে গোয়েন্দা দফতর সবই কেন্দ্র সরকারের অধীন । তাই মারকাজের উপর দোষ দিলেও তা ধোপে টিকবে না । প্রথম ওই মসজিদে বিদেশের ৯টি দেশের অতিথি এসেছিলেন । তাদের কেন ভিসা দেওয়া হয়েছিল । কারণ করোনা সংক্রমণের কারণে ভিসা না দিতে পারত ভারত সরকার । শুধু তাই নয় তারা বিমানবন্দরে নামার পর কোনো টেষ্ট কেন করা হয়নি । তাছাড়া এতবড় সমাবেশ হল নিজামউদ্দিনের মারকাজের কাছেই পুলিশ স্টেশন । দূরত্ব ৩০ /৩৫ মিটার । তাহলে পুলিশ কেন জানতে পারেনি ? কিংবা পুলিশ কেন বাধা দেয়নি ? আবার লকডাউন হয়ে যাওয়ার পুলিশের দৃষ্টি আর্কষণ করে চিঠি দিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ তখনও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেয়নি । সরকার তার ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই দোভালকে পাঠিয়ে সমঝোতা করে নিলেন কী ? কারণ তবলিগ জামাত ভারত থেকে নিয়ন্ত্রিত হলেও তা আন্তর্জাতিক সংগঠন ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment