দেশ 

‘‘ভজন, কীর্তন, নামাজ বা অন্য কোনও পরামর্শ দিয়ে হোক বা যে কোনও ভাবে, আটকে পড়া শ্রমিকদের মানসিক শক্তি জোগান” : সুপ্রিম কোর্ট

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : লকডাউনের জেরে ভারতের অভিবাসী শ্রমিকরা যেভাবে আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে তা ভাইরাস আক্রান্তের ভয়ংকর । সুপ্রিম কোর্ট গতকালই এই মন্তব্য করেছেন । আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে হলফনামা দিয়ে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান , “স্বরাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন যে আজ সকাল ১১ টা পর্যন্ত কেউই রাস্তায় পড়ে নেই। তাঁদের নিকটতম আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কেন্দ্র যে সারা দেশে ২১ দিনের লকডাউন চাপিয়ে দিয়েছে তার পরে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরা। সেই প্রবাসী শ্রমিকদের খাদ্য ও আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করুক কেন্দ্রীয় সরকার, এই আবেদনে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা করা হয়। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের জবাব তলব করে আদালত।

তারপর শীর্ষ আদালত জানায় বাড়ি থেকে অনেক দূরে বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউনের কারণে আটকে পড়া লক্ষ লক্ষ শ্রমিক মানসিকভাবে ভয়ঙ্কর বিপর্যস্ত। করোনা ভাইরাসের আগেই ওই রোগের মারণ আতঙ্ক তাঁদের মেরে ফেলতে পারে। তাই ভজন, কীর্তন, নামাজ বা অন্য কোনও পরামর্শ দিয়ে হোক বা যে কোনও ভাবে, আটকে পড়া শ্রমিকদের মানসিক শক্তি জোগান, কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট।

“আমরা সরকারকে এটাই বলতে চাই যে করোনা ভাইরাসের থেকেও বেশি বিপজ্জনক এর আতঙ্ক। যেকোনও মুহূর্তে মরে যেতে পারেন যে কেউ, এই আতঙ্কই এখন গ্রাস করছে এই আপাত ঘরছাড়া শ্রমিকদের মনে। এঁদের বোঝানোর জন্যে পরামর্শদাতা নিয়োগ করুন। আপনাদের সাধারণ মানুষকে মানসিক শক্তি জোগাতে হবে। তাই ভজন, কীর্তন, নামাজ বা অন্য কোনও পরামর্শ দিয়ে হোক বা যে কোনও ভাবে, আটকে পড়া শ্রমিকদের মানসিক শক্তি জোগান”, কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। ” প্রয়োজনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কাউন্সিলররা শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করে বোঝান। সমস্ত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের  গুরুরাও ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করুন দরকার হলে এবং মন থেকে এই করোনা আতঙ্ককে কাটাতে সাহায্য করুন”, পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের।

গত ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গোটা দেশে লকডাউন চালুর ঘোষণা করেন। তিনি অনুরোধ করেন যাতে বৃহত্তর স্বার্থে যেন এই লকডাউন মেনে চলেন দেশবাসী। আগামী ১৪এপ্রিল পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে।

কিন্তু হঠাৎ করে এই লকডাউন চালু হওয়ায় বিপাকে পড়েন দেশের অসংখ্য শ্রমিকরা। কেননা এমনিতেই এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গিয়ে কাজ করেন প্রচুর মানুষ। তাঁরা রেল সহ সমস্ত যানবাহন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আটকে পড়েন বিভিন্ন জায়গায়। অনেকে পায়ে হেঁটেই নিজেদের বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন। এর ফলে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মারাও যান কিছু শ্রমিক। খাবার এবং আশ্রয়ের অভাবে হাহাকার পড়ে যায় তাঁদের মধ্যে।

আজ সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ নয়া দিগন্ত তৈরি করল বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে । নামাজ-ভজন-কীর্তন ধর্মীয় আনুসঙ্গিতায় মিলবে শান্তি , মনে তৈরি হবে প্রশান্তি সেই কথায় ঘুরিয়ে বলতে চেয়েছেন বিচারপতিরা । অর্থাৎ নামাজ-ভজন ও আর কীর্তনে মানসিক শান্তি পাবে অভিবাসী শ্রমিকরা ।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment