অন্যান্য 

পরিযায়ী শ্রমিক : মমতার মতো সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানবিক হলে লকডাউনে খেটে-খাওয়া মানুষদের কোনো সমস্যায় হত না

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : অসংগঠিত শ্রমিকরা নিদারুণ কষ্টে দিন যাপন করে থাকে । আয় বলতে প্রতিদিন খেটে-খুটে যা হয় তা দিয়ে একদিন কিংবা দুদিন চালিয়ে নেওয়া যায় । কিন্ত বাকি সময়টা চলবে কি করে ? প্রধানমন্ত্রী লকডাউনের ডাক দিয়েছেন ২১দিন । তাহলে কী অনাহারে থাকবে দিনমজুররা ? চলবে কিভাবে ? প্রধানমন্ত্রী আজ মন কে বাতে বলেছেন , এই সব অভাবি মানুষদের কথা । কিন্ত সমাধান দেননি । তাহলে সমাধান দেবে কে ? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই ।

পরিযায়ী শ্রমিকরা দুমুঠো অন্নের সন্ধানে পরিবার-পরিজনদের ছেড়ে কয়েক শো কিমি দূরে গিয়ে কাজ করে । তাদের কথা চিন্তা না করে হঠাৎ করে লকডাউনের ডাক দেওয়া হল । প্রশ্ন উঠতে পারে কারণ সাধারন মানুষের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই তো লকডাউন করা হয়েছে । নিশ্চয় হয়েছে । কিন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে কত মানুষ মরবে তা পরে জানা যাবে এটা তো ঠিক সরকার যদি ঠিক মতো পরিকল্পনা না করে তাহলে অনাহারেই কয়েক লক্ষ মানুষের মৃত্যু হতে পারে । কিন্ত পরিকল্পনা করবে কে ? সবাই তো আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন। মানবিক মুখ মুখ্যমন্ত্রী দেশে মমতার পরে একমাত্র পিনরাই বিজয়ন । তাছাড়া কংগ্রেস শাসিত গুটিকয় রাজ্যে সাধারন মানুষ খানিকটা হলেও রিলিফ পাচ্ছে বা পাবে ।

 

কিন্ত প্রধানমন্ত্রী যাইবলুক না কেন তার দল পরিচালিত রাজ্য সরকারগুলি সম্পূর্ণভাবে সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে । এখন প্রয়োজন মমতার মত নেত্রী । যিনি শুধু পরিকল্পনা করেননি , পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন । তাই তার রাজ্যের কোনো শ্রমিক অন্য রাজ্যে আটকে গেলে তিনি সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি দিয়ে অনুরোধ করতে পারেন আমাদের বাঙালি শ্রমিকরা আটকে পড়েছে তাদের থাকা -খাওয়ার ব্যবস্থা করুন । কিন্ত আজ পর্যন্ত এটা আমরা দেখতে পেলাম না অন্য কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি দিয়ে এই অনুরোধ করেছেন ।

কিন্ত মমতা প্রতিটি বিষয়ে নজরদারি করছেন । সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দেখে সরাসরি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন । তাই মধ্যপ্রদেশের রণবীর সিংহ যে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে লকডাউনের শিকার হয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি যাওয়ার সময় পথে মারা গেল । সেই রাজ্যে যদি আজ মমতার মত মানবিক মুখ্যমন্ত্রী থাকতেন তাহলে হয়তো রণবীরকে অকালে চলে যেতে হত না । কিংবা বিহারের সঞ্জয়দেরকে বাড়িতে গিয়ে দেখতে হত খাবার নেই ।

মমতা যা করতে পারেন তা সমগ্র দেশের সামনে নজীর হয়ে রয়েছে । বিজেপির নেতাদের মত মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে বাজার গরম করে নয় কাজ করে তিনি প্রমাণ করেছেন মানুষের সেবাই তাঁর একমাত্র ব্রত । দেশের মানুষের একটাই প্রার্থনা হওয়ার দরকার মমতার মতো নেত্রী যেন ভারতের ঘরে ঘরে জন্ম নেয় । তাহলে ভারত আবার জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করবে ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment