দেশ 

একাধিক সংবাদ-মাধ্যমের খবরের জের এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর তীব্র সমালোচনার পর পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে বাসের ব্যবস্থা করল যোগী প্রশাসন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : হঠাৎ লকডাউন । মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগে সব কিছু বন্ধ । অথচ দিল্লি শহরে উত্তরপ্রদেশের বেশ কিছু মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করে । তারা কাজ করছিল । এমন সময় সব কিছু বন্ধ হয়ে যায় । বাড়ি ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করে বিফল হয় । তবে ফিরতে হবে । কঠিন সময়ে প্রিয়জনদের কাছে যেতেই হবে । তাই হাঁটা শুরু ।

কেউ হাঁটছেন ১৮০ কিমি। কেউ বা ১৫০ কিমি। কেউ আবার ২০০কিমি। সেই মঙ্গলবার থেকে তাঁরা হাঁটছেন, শুধুমাত্র গ্রামে ফিরতে। এই তাঁরা; প্রত্যেকেই দিনমজুর কিংবা পরিযায়ী শ্রমিক । যাদের বেশিরভাগই উত্তরপ্রদেশের । দিল্লি থেকে কিংবা পড়শি রাজ্য থেকে হেঁটেই ফিরছেন তাঁরা। কারণ, ২১ দিনের লকডাউনের জেরে বন্ধ  ফলে নেই কাজ, আশ্রয়। তাই মাথা গোঁজার ঠাই পেতে গ্রামের বাড়ি এখন একমাত্র সম্বল। সেই আশায় পথে নেমেও নিস্তার নেই। পড়তে হয়েছে পুলিশের জুলুমের মুখে। লাঠির গুঁতো খেয়েছেন অনেক শ্রমিক।

এনডিটিভি সহ একাধিক সংবাদ মাধ্যম বিষয়টি নিয়ে গর্জে উঠেছে । প্রশ্ন তোলা হয়েছে বিদেশে থাকা ধনী বাড়ির ছেলেমেয়েদের বাড়ি ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিমান বন্ধ করা হয়নি । অথচ এই সব গরীব শ্রমিকদের বেলায় সরকার কেন উদাসিন ? কেন তাদের উপর লাঠিচার্জ করছে । প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও । তিনি এক ফেসবুক লাইভে মোদী ও যোগী সরকারের গরীব মানুষ বিরোধী অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন ।

চাপে পড়ে  এই দুর্দশা থেকে মুক্তি দিতে উদ্যোগ নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। পড়শি রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে ১০০০ বাস পথে নামাল সরকার। জানা গিয়েছে, পড়শি রাজ্যের ইউপি লাগোয়া জেলা থেকে সেই শ্রমিকদের রাজ্যের একাধিক জায়গায় পৌঁছে দেবে বাসগুলো। শনিবার এমনটা জানিয়েছেন ইউপি সরকারের এক কর্তা।

জানা গেছে, নয়ডা, গাজিয়াবাদ, বুলন্দশহর আর আলীগড় এবং রাজ্যের সীমানা লাগোয়া পড়শি রাজ্যের অন্য জেলা থেকে উদ্ধার করা হবে সেই শ্রমিকদের। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশেই এই উদ্যোগ, দাবি সেই কর্তার। সেই কর্তার আরও দাবি, “মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে স্পষ্ট নির্দেশ; যাত্রা পথে পরিযায়ী শ্রমিকদের খাওয়ার আর জলের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।” শনিবার সকালে পুলিশকর্তারা লখনউয়ের চারবাগ বাসস্ট্যান্ড গিয়ে তদারকি করেন। যাদেরকে ভিন রাজ্য থেকে আনা হয়েছে, তাঁদের জন্য পানীয় জল ও খাবার পর্যাপ্ত  আছে কিনা , খবর নিয়েছেন পুলিশকর্তারা।  জানা গেছে , যাত্রাপথে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ কর্তারা দাঁড়িয়ে থেকৈ তদারকি করছেন । এমনকি রাজ্য পুলিশের ডিজিপিও উপস্থিত আছেন বলে জানা গেছে ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment