কলকাতা 

দিলীপ ঘোষের অসৌজন্য বাক্যবাণে আখেরে মানুষের আরও সমর্থন পাবে তৃণমূল

শেয়ার করুন
  • 24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : বিজেপি-র রাজ্য সভাপতির দিলীপ ঘোষের মেয়াদ যতই শেষ হয়ে আসছে ততই তিনি আবোল-তাবাল বকে যাচ্ছেন। দিলীপবাবু জন্ম-সূত্রে অবিভক্ত মেদিনীপুরের মানুষ। কিন্ত মেদিনীপুরের মানুষরা সাধারনত সরল প্রকৃতির হন। তবে অবশ্যই ব্যতিক্রম দিলীপ ঘোষ। তিনি এক সময় আরএসএসের নেতা ছিলেন ,কিন্ত আরএসএসের নেতারাও কথা-বার্তা বলার সময় অনেক সংযত ও মার্জিত ভাষায় বলে থাকেন। আরএসএস দাবি করে তারা তাদের কর্মীদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেয় যা ভারতের হিন্দু সংস্কৃতির ঐতিহ্য সম্মত। তবে দিলীপ ঘোষের ভাষা শুনে মনে হয় না যে আরএসএস সত্যিই হিন্দু সংস্কৃতির ঐতিহ্য পালন করে চলেছে। বরং মনে হচ্ছে পাড়ার মস্তানরা যে ভাষায় কথা বলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতিও সেই ভাষাতেই কথা বলছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি নানা কটুক্তি করে চলেছেন। তবে বিগত কয়েক দিন ধরে  তাঁর যে কথা-বার্তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাতে ইন্ধন স্পষ্ট হচ্ছে। সামনে লোকসভা নির্বাচন ঠিক এই সময় দাঁড়িয়ে তিনি কখনও পুলিশকে হুমকি দিচ্ছেন বা সাধারন মানুষকে পুলিশকে মারার পরামর্শ দিচ্ছেন আবার গতকাল তিনি তৃণমূল নেতাদের এনকাউন্টার করে মারা হবে বলে নিদান দিয়েছেন। ফলে সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবীরা রীতিমত আতঙ্কিত। রাজ্যে ক্ষমতায় না আসার আগেই যেভাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হুঙ্কার দিচ্ছেন তাতে অন্য গন্ধ পাচ্ছেন মানুষ। এখন মানুষ ভাবছে যে ক্ষমতায় আসার আগেই যারা অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের হুমকি দিচ্ছেন তারা যদি সত্যিই ক্ষমতা পায় তাহলে কী পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে না তো?

গণতান্ত্রিক দেশে রাজনীতি করার অধিকার সকলের আছে। একইভাবে রাজনীতিকদের কাজের বিচার করা অধিকার একমাত্র মানুষের আছে , আর কারও নেই। সুতরাং কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা যদি ভুল করেন কিংবা খারাপ কাজ করেন তার সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের। কিন্ত তা বলে মারার নিদান দেওয়ার অধিকার কারও নেই। শাসক দলের যেমন নেই, একইভাবে বিরোধী দলেরও নেই। বাংলার রাজনীতিতে বরাবরই সৌজন্যের নজীর রয়েছে। বিধান রায় থেকে শুরু করে অতুল্য ঘোষ,প্রফুল্ল সেন,অজয় মুখার্জি,জ্যোতি বসু, সিদ্ধার্থশংকর রায়,গণি খান চৌধুরি, সোমেন মিত্র,বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য,প্রণব মুখার্জি সহ রাজনীতিবিদদের মধ্যে বরাবরই মতাদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্তে আন্তরিক সর্ম্পক ছিল। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্য রাজনীতি ইতিমধ্যেই সমগ্র দেশে নজীর সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়,রাহুল সিনহা দীর্ঘদিন বিজেপি দলের দায়িত্বে ছিলেন তার মুখ দিয়ে কখনও এই ধরনের শব্দ বের হতে দেখা যায়নি। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি দলকে যিনি মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছিলেন সেই তপন শিকদারের মুখে কোন দিন বাজে কথা শোনা যায়নি।

আসলে বঙ্গ রাজনীতির বৈশিষ্ট্য হল মার্জিত  সুশীল বাক্যের প্রয়োগ যারা করেছেন তারাই এ রাজ্যে ক্ষমতায় থাকতে পেরেছে। বামফ্রন্ট ৩৪ বছরের শাসনে খুব কম সময়েই অশ্লীল শব্দের প্রয়োগ করেছে। যখন এই ধরনের শব্দবান তারা বেশি করে করেছে তখনই তাদের পতন অনিবার্য হয়েছে। তাই বিজেপির বঙ্গ প্রধানকে মনে রাখতে হবে এখানে হুমকি ধুমকি দিয়ে মানুষের মন পাওয়া যাবে না। বরং শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে যতই হুঙ্কার দেওয়া হবে ততই তৃণমূল দল রাজ্যের সাধারণ মানুষের সহানুভুতি পাবে। এটাই পশ্চিমবাংলার রাজনীতির কৃষ্টি ও কালচার এবং বৈশিষ্ট্য।


শেয়ার করুন
  • 24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment