অন্যান্য 

করোনা মোকাবিলায় সমগ্র ভারতকে পথ দেখাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : নোভেল করোনাভাইরাস বিশ্ব জুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছে । পৃথিবীর উন্নতশীল দেশগুলি অসহায় হয়ে পড়েছে এই মারণ ভাইরাসের কাছে । চিনের উহান প্রদেশ থেকে যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল তা এখন বিশ্বের ১৯০টি দেশকে সংক্রমিত করেছে । মানুষ বাঁচার জন্য ঘরের মধ্যে বন্দী হয়ে পড়েছে । ইউরোপ মহাদেশে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত । ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন , আমাদের যা কিছু করার তার সবটাই করা হয়ে গেছে , এবার সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন । ইতালিতে প্রতিদিন শয়ে শয়ে মানুষ করোনা ভাইরাসে মারা যাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটেই আমাদের ভারতে করোনাভাইরাস মার্চের প্রথম সপ্তাহে ঢুকে পড়ে । তারপর মহারাষ্ট্র , কেরল , নয়াদিল্লিতে এই মারণ ভাইরাস যখন দ্রুত শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে চলেছে তখন আমাদের দেশের রাষ্ট্রনায়করা কী করবেন ভেবে উঠতে পারেননি । শুধুমাত্র কেরল সরকার আন্তরিকভাবে এই ভাইরাসের মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ করতে থাকে । দিল্লি সরকার স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেয় । মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত বাংলায় কোনো করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েনি । উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে তাই সরকার চাইলেও লকডাউন কিংবা ছুটি ঘোষণা করতে পারে না । তাই মমতা সরকার  কিছুটা সময় নেওয়ার চেষ্টা করল কিন্ত যখন পরিস্থিতি আয়ত্তে বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশংকা হচ্ছে ঠিক তখনই রাজ্যের সমস্ত স্কুলে ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হল ।

সাধারন মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিল স্কুলে কেন ছুটি ? শিক্ষক মহাশয়দের প্রতি ব্যঙ্গ করা শুরু হল । এক শিক্ষক মহাশয় তো নিজেকে জাহির করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আহামারি পোষ্ট করে দিলেন । সবাই বলতে শুরু করলেন , মমতা সরকার ছুটির সরকার । আর এই রেশ না কাটতে না কাটতেই করোনাভাইরাসের সন্ধান এই রাজ্যে পাওয়া গেল । এবার সবাই মমতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ । আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিক মুখ নিয়ে প্রশ্নের কোনো অবকাশ নেই । স্কুল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছেন ? কারণ স্কুলগুলিতে এক সঙ্গে শয়ে শয়ে ছাত্রছাত্রী থাকে , তারা পাশাপাশি থাকে । তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকবে । তাই তিনি স্কুল ছুটি দিলেন ।

দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি । হাওড়ার ডুমুরজলা স্টেডিয়ামকে তিনি ১৫০ বেডের আইসোলেশন হাসপাতালে পরিণত করলেন । সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকরী করলেন ।

নিউটাউনে টাটা ক্যানসার হাসপাতালের একটি তলাকে সম্পূর্ণ ভাবে কোয়ারন্টিনে রূপান্তরিত করলেন । এটাও সমগ্র দেশের সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে বিরাজ করছে ।

তৃতীয় যে কাজটি দ্রুততার সঙ্গে করলেন তা হল ,বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র একইসঙ্গে আরজি কর হাসপাতালকে যুক্ত করে দিলেন । এখানে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করলেন ।

আক্রান্ত প্রতিটি রোগীকে নজরদারী চালানোর জন্য একটি টিম তৈরি করে দিলেন তাকে মুখ্যমন্ত্রী নিজে মনিটরিং করে চলেছেন ।

রাজ্যের প্রতিটি পঞ্চায়েতকে নির্দেশ দেওয়া হল , দুমাসের রেশন বাড়ি বাড়ি পৌছে দেওয়ার । রেশন দোকানগুলি থেকে ফ্রি সব মাল দেওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সবাইকে বিনামূল্যে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন ।

আর সংকট মোকাবিলায় সব দলের সঙ্গে বৈঠক করলেন । ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যা করতে পারলেন না , রাজনীতি বাইরে  গিয়ে এই সংকটের দিনে বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক করলেন না মোদী , মমতা করলেন । নজীর তৈরি করলেন ।

শেষে কলকাতা মেডিকেল কলেজকে করোনার চিকিৎসা কেন্দ্র হিসাবে ঘোষণা করে দেশের সামনে বেনজীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ।

এরপর তিনি অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সাহায্যের ব্যবস্থাও করবেন বলে জানা গেছে ।

এটা ঠিক একজন সহানুভূতিশীল মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মানবিকতার যে নজীর তিনি স্থাপন করলেন করোনা মোকাবিলায় তাকে অভিনন্দন জানাতেই হয় । মমতা এখানেই অনন্য । নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা রাজনীতির পর্দা সরিয়ে মমতার মানবিক প্রশাসন চালানোর অভিজ্ঞতাকে নিজেদের জীবনে কাজে লাগালে আখের দেশের লাভ হবে ।

ভাষণ নয় , মানুষ চাইছে রেশন । একটু সহানুভূতি , একটু ভালবাসা । দেশের নেতার কাছ থেকে ভাষণ শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে জনতা । এবার মমতা হাত ধরে দেশের নেতারা শিখুক কীভাবে জনতার সেবা করতে হয়।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment