কলকাতা 

বিদেশ থেকে এলেই কোয়রান্টিনে যেতে হবে , পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি তহবিল গঠন , বেসরকারি কর্মীদের ৫০ শতাংশ হাজিরা কমিয়ে দেওয়া , বিদেশী বিমান নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সমগ্র দেশ যখন নোভেল করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিল ঠিক তখনই বাংলায় কোনো উদ্বেগ ছিল না । গত মঙ্গলবার এক আমলার সন্তানের করোনা উপসর্গ সামনে আসার পরেই কলকাতার মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দেয় । এরপর আজ শুক্রবার আর একজনের দেহে এই উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর উদ্বেগ বেড়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী । এরা দুজনই যেহেতু বিদেশ থেকে এদেশে এসেছেন , মনে করা হচ্ছে সেখানে এদের শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করে । তাই এবার রাজ্য সরকার কড়া পদক্ষেপের পথে । সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদেশ থেকে যারা আসবেন তারা প্রত্যেকেই আইসোলোশনে থাকবে ।

শুক্রবার নবান্নে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, বিদেশফেরত সকলকে স্বেচ্ছায় কোয়রান্টিনে যেতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরে কলকাতা পুলিশের তরফে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ‘‘এখনও পর্যন্ত যে দু’জন আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা বিদেশে সংক্রমিত হন। সেই অবস্থাতেই কলকাতায় ফেরেন। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হচ্ছে, সম্প্রতি যাঁরা বিদেশ থেকে ফিরেছেন, বিশেষত ব্রিটেন, আমেরিকা, ইউরোপ এবং উপসাগরীয় দেশ থেকে যাঁরা এসেছেন, ১৪ দিন পর্যন্ত গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকুন। কারণ কোভিড-১৯ ঠেকানোর একমাত্র উপায়ই হল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। যে বা যাঁরা এই নির্দেশ মানবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মহামারি আইন অনুযায়ী তাঁদেররাজ্য প্রশাসন কোয়রান্টিনে রাখতে বাধ্য হবে।’’

এরই পাশাপাশি শুক্রবার ফের এক বার রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, করোনা আক্রান্ত হলেই ভয় পেতে হবে না। সঠিক সময়ে চিকিৎসা হলে সকলেই সুস্থ হয়ে উঠবেন। এ দিন নবান্নে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, ‘‘করোনায় আক্রান্ত হলেই ভয় পাবেন না। বরং উপযুক্ত চিকিৎসা করান। সঠিক সময়ে চিকিৎসা হলেই সুস্থ হয়ে যাবেন।’’ রাজ্যবাসীর সুবিধার্থে আপৎকালীন ত্রাণ তহবিল খোলা হচ্ছে বলেও এ দিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জরুরি পরিস্থিতিতে এই তহবিল ব্যবহার করা হবে। এর পাশাপাশি, এই বিপদের দিনে ওই তহবিলে অনুদান করতেও সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানান তিনি।

নোভেল করোনা নিয়ে আতঙ্কের জেরে সরকারি কর্মীদের কাজের সময় আগেই ১ ঘণ্টা কমিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও কর্মীদের হাজিরা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। সংস্থার ৫০ শতাংশ কর্মীদের অদলবদল করে কাজ চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের যে সমস্ত মানুষ এত দিন ২ টাকা কেজি দরে চাল পেতেন, এখন থেকে আগামী ছ’মাসের জন্য তাঁরা সেই চাল বিনামূল্যে পাবেন। আক্রান্তদের সেবায় যে সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিরন্তর পরিশ্রম করে চলেছেন, পুজোর পর তাঁদের ‘স্পেশাল লিভ’ দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।

নোভেল করোনার প্রকোপ রুখতে ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রবিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ‘জনতা কার্ফু’-র ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রের তরফে তাঁর সরকার কোনও সাহায্যই পাচ্ছে না বলে এ দিন দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে সে ব্যাপারে কোনও সাহায্যই করা হচ্ছে না। অবিলম্বে কলকাতা বিমানবন্দরে সমস্ত বিদেশি বিমানের নামা বন্ধ করতে হবে বলেও কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানান তিনি।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment