কলকাতা 

এক সময়কার সিপিএমের সংখ্যালঘু মুখ কেন দল থেকে নীরবে নিঃশব্দে সরে গেলেন ?কী ব্যাখ্য দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আব্দুস সাত্তার

শেয়ার করুন
  • 61
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ড. আব্দুস সাত্তার – বামফ্রন্ট সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন(২০০৬-১১)। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে তাঁর নেতৃত্বে রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের আমূল পরিবর্তন হয়।তিনি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর এবং মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন গঠনসহ রাজ্যের ৬১৪টি মাদ্রাসাকে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দিয়েছিলেন।সংখ্যালঘু উন্নয়নে আব্দুস সাত্তার সাহেব অনেক কাজ করলেও বাংলার সংখ্যালঘু সমাজ ২০১১র বিধানসভায় বামফ্রন্টকে সমর্থন করেনি।এমনকি আব্দুস সাত্তারকেও আমডাঙ্গা বিধানসভাতে হেরে যেতে হয়েছিল।

তারপর কেটে গেছে  সাত বছর ড. আব্দুস সাত্তার অভিমানে সিপিএম দলের সদস্য পদ নবীকরন করাননি।নীরবে নিঃশব্দে দলের যাবতীয় কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে এখন কলেজে পড়াচ্ছেন এবং স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে বাস করছেন।ইতিমধ্যে অবশ্য তাঁর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে কাজে লাগিয়ে সংবিধানে প্রদত্ত সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট সংখ্যালঘুদের পক্ষেই রায় দিয়েছে।সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে।আশা করা হচ্ছে কয়েকমাসের মধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংখ্যালঘুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে  সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত রায় প্রদান করবে।এক সময়কার সিপিআইএম এর সংখ্যালঘু মুখ কেন দল ত্যাগ করলেন? এবং তাঁর গঠিত মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন কেন সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে?এ নিয়ে বাংলার জনরবের পক্ষ থেকে খোলামেলা আলোচনা করেছেন সেখ ইবাদুল ইসলাম । কয়েকটি কিস্তিতে তা প্রকাশ করা হবে আজ প্রথম কিস্তি।

প্রশ্ন:আপনি সি পি আই এম ত্যাগ করলেন কেন?
ড. আব্দুস সাত্তার: আসলে সংকটটা অন্য জায়গায় যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বামপন্থী আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল তা বিভিন্ন কারণে সেই উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে বামপন্থীরা।

(এক) একদিন যা ছিল দেশে তা এই রাজ্যে হাজির হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এক সন্ধিক্ষনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।আধিপত্যবাদ বনাম আধিপত্যবাদী সাম্প্রদায়িকতা । কোনটা মূল শত্রূ তা সচেতন ভাবেই চিহ্নিত করতে চাইছেন না পার্টির নেতৃবৃন্দ।

( দুই) স্বৈরতান্ত্রিক কংগ্রেসকে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে উচ্ছেদ করতে পার্টির স্বাধীনতার পর নানা সময়ে সমস্ত বিরোধী শক্তি যেখানে জনসংঘ বিজেপিও ছিল একজোট করেছে।ফলশ্রুতিতে কংগ্রেস দুর্বল হয়েছে ।সাম্প্রদায়িক বিজেপি একক শক্তিতে ক্ষমতাসিন হয়ে রাজনৈতিক হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডাকে রূপায়ণ করতে সমস্ত প্রশাসনিক শক্তি নিয়ে নেমে পড়েছে।দলিত মুসলিমরা এই শক্তির কাছে আজ অসহায় শিকার,তাদের সামনে জীবন মরণ অস্তিত্বের প্রশ্ন ।

(তিন)তাহলে কি ধরে নিতে হবে অদূর ভবিষ্যতে কোনোদিন এই রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসে,আজকের কংগ্রেসের মতো সেই সময় কি সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে হটাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধবো?

(চার) রাজ্যের সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই কোথায়? যাবতীয় লড়াই তো আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে। দিদি ভাই, মোদি ভাই স্লোগানের পরিণতি হলো সি পি আই এম তথা বামপন্থীদের ভোট কমে বিজেপির ভোট বাড়ছে।

(পাঁচ)কমরেড মুজাফফর আহমেদ, আব্দুল হালিম, রেজ্জাক খানদের গড়া পার্টিতে রাজ্যের জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ হলেও মুসলিমরা আজ প্রতীক সর্বস্ব কোটায় পরিণত হয়েছে।রাজ্যে একজন ছাড়া আর কারোর কোনো গুরুত্ব ,প্রয়োজন নেই। অবশ্য বর্তমান নেতৃত্ব পার্টির যা হাল করেছেন তাতে হয়তো এই একজনই যথেষ্ট।আর এই সবই করা হয়েছে শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বের দোহাই পেড়ে।তাই এক এক করে মুসলিম  নেতৃত্বের পরিচিত অংশ পার্টি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।(ছয়)পলিটব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব রাজ্যের সংখ্যালঘুদের বিষয়ে (অন্যক্ষেত্র গুলিতে যেমনভাবে আছে) লড়াই আন্দোলনের জন্য রাজ্য -জেলা-ব্লক স্তরের কমিটি করা হয়েছে।অথচ এই রাজ্যের পার্টি নেতৃত্ব এই বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে নীরব।২০০৭সাল থেকে এই বিষয়ে বলে চলেছি, অবশ্য মুসলিম শব্দটা পার্টি তো কোনোদিন স্বীকার করেনি।সেই কারণে এই সচেতন উপেক্ষা।

(সাত)দক্ষতা , যোগ্যতা, সততার নয়,মুসলিম হলেই তার ক্ষেত্রে কোটা প্রযোজ্য হয়ে যায়।এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক রকম নিয়ম।আর তাও নির্ধারণ করা হয় ধর্মীয় পরিচিতির ভিত্তিতে। তাহলে আর পার্থক্য কোথায়?


শেয়ার করুন
  • 61
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment