কলকাতা 

“করোনা ভাইরাস যেমন পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে, তেমনি মিল্লি আল আমিন কলেজের ভাইরাস হচ্ছেন বৈশাখী” বৈশাখী সম্পর্কে কেন এমন মন্তব্য করলেন শিক্ষামন্ত্রী জানতে হলে ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : মিল্লি আল-আমীন কলেজের ভাইরাস হচ্ছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এটা ওই কলেজের পরিচালন সমিতির কোনো সদস্যের মন্তব্য নয় । এই মন্তব্য করেছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় । আর এই মন্তব্য রাজ্য-রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে । জানা গেছে , কলকাতার বেনিয়াপুকুরের মিল্লি আল-আমীন কলেজ সংখ্যালঘু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান হিসাবে বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই তৈরি হয়েছিল । মূলত মধ্য কলকাতার উর্দুভাষী মেয়েদের উচ্চ-শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে শ্রমিক নেতা নিজামউদ্দিন উদ্যোগে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে । মুহাম্মদ সেলিম, সুলতান আহমেদরা এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালন সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ।

সমস্যা তৈরি হয় তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর । বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুলতানের আহমেদের সংঘাত সেই সময় মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচার পেয়েছিল । পরবর্তীকালে পরিচালন সমিতির পদ থেকে সরে যান সুলতান আহমেদ । বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় কলেজের টিচার-ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব নেন । বৈশাখী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কলেজের শিক্ষার মান অনেকটাই নেমে যায় বলে অভিযোগ ।

তাই মিল্লি আল-আমীন কলেজের সমস্যা বহুদিনের । সেই সমস্যার সমাধান করার জন্য পরিচালন সমিতি , বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিকাশ ভবনে এক বৈঠক করেন । সূত্রের খবর, এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের শুরুতেই পার্থবাবু বলেন, “করোনা ভাইরাস যেমন পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে, তেমনি মিল্লি আল আমিন কলেজের ভাইরাস হচ্ছেন বৈশাখী।”

এমনকি বিকাশ ভবনে উচ্চশিক্ষা দফতরের বৈঠকে সবাইকে চা দিলেও প্রথমে বৈশাখীকে তা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। এমনকি নির্দিষ্ট যে শিক্ষক বৈশাখীকে লাগাতার অপমান করেন, তাঁকে শিক্ষা দফতরের একটি উঁচু পদে বসানো হবে বলেও জানানো হয়। এই পদক্ষেপের প্রতিবাদ করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা। তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়ে দেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-র নিয়ম মেনে যা করার করতে হবে। জানা গিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী বৈশাখীকে জানান, তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। শোনা যাচ্ছে, শিক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই হাসিতে ফেটে পড়েন পরিচালন সমিতির সদস্যরা। ওই সদস্যরাই বৈশাখী-সহ কলেজের কয়েকজনকে কার্যত ছাঁটাই করতে চান বলে অভিযোগ।

এদিন অপমানিত বৈশাখী বৈঠক ছেড়ে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসেন। জানা গিয়েছে, পার্থবাবু তখন উপস্থিত পরিচালন সমিতির সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এবার চলল নবান্নে আমার নামে অভিযোগ করতে।”

বৈশাখী শুধু বলেন, “আমার অনেক বকেয়া রয়েছে। তা কোনদিনও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাওয়ার জন্য তদ্বির করিনি। আমি কলেজের শিক্ষক, কর্মী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ভালোবাসি। তাদের সমস্যা নিয়েই বারবার শিক্ষামন্ত্রীর কাছে যাই। কেন উনি আজ এমন অসৌজন্য দেখালেন তা বলতে পারব না।”

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment