অন্যান্য কলকাতা 

দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন জ্যোতি বসু : নাপরাজিত মুখোপাধ্যায়

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নাপরাজিত মুখোপাধ্যায় দেশের আইপিএস অফিসারদের কাছে ‘মুখার্জিবাবু’ বলে পরিচিত । আপাদমস্তক বাঙালি । ব্যবহার আচরণে মিষ্টভাষী । অল্প বয়সেই আইপিএস হয়েছিলেন , সময়ের বিচারে প্রায় ৩৭ বছর তিনি একটানা আইপিএস হিসাবে কর্মরত ছিলেন । অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর হওয়া সত্ত্বে বেছে নিয়েছিলেন পুলিশ সার্ভিসকেই । মূলত মানুষের সেবা করার জন্য । দীর্ঘ আইপিএস জীবনের উপর একটি বই তিনি লিখেছেন খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে । ‘ From Lord Sinha to North Block’ নামে তাঁর লেখা এই গ্রন্থটি আক্ষরিক অর্থে এক জীবন্ত ইতিহাস । এই গ্রন্থটির প্রেক্ষাপটে বাংলার জনরবকে একান্ত সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি ও মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নাপরাজিত মুখোপাধ্যায় ।  আজ শেষ কিস্তি। 

রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজিপি নাপরাজিত মুখোপাধ্যায় এক সময় স্টেট সিকিউরিটি উইং-র দায়িত্বে ছিলেন । সেই সূত্রে জ্যোতিবাবুকে খুব কাছ দেখেছেন । তাঁর সফর সঙ্গীও হয়েছেন । ১৯৯৬ সালের দেশের উত্তাল রাজনীতিতে জ্যোতিবাবুর ভূমিকা ছিল অকল্পনীয় । এই সময় লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । সেই নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসাবে বিজেপি উঠে আসে । কিন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি । তাই কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে তৃতীয় ফ্রন্ট সরকার গঠনের উদ্যোগ নেয় । সেই সময় জ্যোতিবাবুকে টানা দশদিন রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করতে হয় । তৃতীয় ফ্রন্টের নেতা হিসাবে প্রথম নাম উঠে আসে জ্যোতি বসুর । দেশের সব রাজনৈতিক দলই জ্যোতিবাবুকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে স্বীকার করে নিতে রাজী হয় । কিন্ত জ্যোতিবাবু পার্টির অনুমোদনের অপেক্ষা করতে থাকে ।

সিপিএম দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক এই ইস্যুতে অনুষ্ঠিত হয় । কিন্ত বেঙ্গল লবি বাদে দেশের সবকটি সিপিএম দলের রাজ্য প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সরকারের যোগদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয় । জ্যোতিবাবুও সেই বৈঠকে ছিলেন । তিনি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছিলেন কিনা তা সেই সময় বোঝা যায়নি । কারণ তিনি কাউকে বুঝতে দেননি । জ্যোতিবাবুর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আবার নতুন করে দিশা দেখান সমাজবাদী পার্টির নেতা মূলায়ম সিংহ যাদব এবং বিহারের নেতা লালু প্রসাদ যাদব । এরা দুজন জ্যোতিবাবুকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য বোঝান । এমনকি প্রয়োজনে দলত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রী পদে বসার আহ্বান জানান । কিন্ত জ্যোতিবাবু রাজি হননি । তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন , দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমি যেতে পারি না । এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমার মিল হোক বা না হোক ।

যদিও অনেক পরে জ্যোতিবাবু বাংলার এক ইংরেজি দৈনিককে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হতে না দিয়ে দল এক ঐতিহাসিক ভুল করেছে । কিন্ত তিনি প্রকাশ্যে এই ধরনের মন্তব্য করার পরও কেউ পরবর্তীকালে এ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মন্তব্য করেননি । শুধু তাই নয় লেখক নাপরাজিত মুখোপাধ্যায় এই বইয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন , পার্টির বিরুদ্ধে ক্ষোভে কয়েকজন তাঁর অনুগামী দল ছাড়তে চেয়েছিলেন তিনি সেদিন এর কড়াভাবে বিরোধিতা করেছিলেন । এক কথায় বর্তমান সময়ের রাজনীতির দিকে তাকালে জ্যোতিবাবুদের মত রাজনীতিবিদদের প্রতি শ্রদ্ধা অনেক গুণে বেড়ে যায় । এখন সামান্য একটি বিধায়ক কিংবা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যাক্ষ পদ পেলে দল ছাড়তে দ্বিধা করেন না আজকের দিনে রাজনীতিবিদরা । কিন্ত জ্যোতিবাবু দেশের সবকটি রাজনৈতিক দলের আকূল আবেদন সত্ত্বে নিজ দলের বিরোধিতার কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment