কলকাতা 

মান ভাঙতে বেহালার দায়িত্ব থেকে সরানো হল রত্নাকে ; শোভন কি আদৌ তৃণমূলে ফিরবেন ? এর নেপথ্যে রহস্য জানতে হলে ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : মমতা-বৈশাখীর বৈঠক নীট ফল রত্না চট্টোপাধ্যায়কে সরানো হল বেহালা পূর্বের দায়িত্ব থেকে । মমতা রত্নাকে সরালেন কিন্ত শোভন কি ফিরে পাবেন ? এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন । কারণ শোভন চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি যে দূর্বলতা মমতা দেখাচ্ছেন তাকে সম্বল করেই অনেকেই রাজনীতির ময়দানে গুরুত্ব পাচ্ছেন । কেন এত শোভন প্রীতি এটাই বুঝে উঠতে পারছে না সাধারন মানুষ ? যে মমতা এক ধাক্কায় মুকুল রায়ের মত দক্ষ রাজনীতিবিদকে ভুলে যান , সব্যসাচী দত্তের মত রাজনীতিবিদকে সরিয়ে দেন , সেই মমতা কোন কারণে শোভনকে এতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন তা রাজনৈতিক মহল ভেবে পাচ্ছে না ।

কিন্ত প্রশ্ন উঠেছে শোভন তো এখন বিজেপিতে । তাহলে বিজেপি নেতাকে এত প্রশয় কেন ? শোভন চট্টোপাধ্যায় বাংলার রাজনীতিতে খুব বড় মাপের নেতা নন। মমতার আলোয় আলোকিত নেতা । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনের পাশে না থাকলে সাধারন মানুষের কাছে শোভনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে কি ? খবরে প্রকাশ শোভন চট্টোপাধ্যায়কে খুশি করার জন্যই রত্নাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হল । শনিবার সকালে জানা গেল, সেই দায়িত্ব আর পালন করতে হচ্ছে না রত্নাকে বার বেহালা পূর্বের দায়িত্ব দেওয়া হল ১০৭ ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে যদিও রত্নার দাবি, তাঁর থেকে দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হয়নি, তিনি নিজেই ছেড়ে দিয়েছেন। তবে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে দিন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘‘বাংলার গর্ব মমতাএই কথাটা প্রত্যেক তৃণমূল কর্মীর হৃদস্পন্দনে রয়েছে। সুতরাং এই কর্মসূচির ঝান্ডা কার হাতে ছিল বা এখন কার হাতে থাকবে, সেটা বড় কথা নয়। স্লোগানটাই বড় কথা।’’

কিন্তু কেন দায়িত্ব ছাড়লেন? রত্না বলেন, ‘‘আমার পক্ষে বেহালা পূর্বে কাজ করা কঠিন হচ্ছিল। আমার মনে হচ্ছিল, এখানকার কাউন্সিলররা সবাই হয়তো আমার সঙ্গে কাজ করতে চাইছেন না। তাই আমি আজ সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যয়ের অফিসে গিয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে এসেছি।’’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা কিন্তু মমতাবৈশাখী বৈঠক এবং বেহালা পূর্বের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের অব্যাহতিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে রাজি নন। বৃহস্পতিবার বিকেলে গোটা রাজনৈতিক শিবিরকে চমকে দিয়ে নবান্নে হাজির হয়েছিলেন বৈশাখী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেখানে তাঁর ঘণ্টা দেড়েকের বৈঠকের ফলই বার ফলতে শুরু করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই মত। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিনের মন্তব্য সেই জল্পনাকে আরও প্রশ্রয় দিচ্ছে। যে বৈশাখীর নানা মন্তব্যে এত দিন তৃণমূলের সঙ্গে বিস্তর দূরত্বই ধরা পড়ত, সেই তিনিই দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বেশ ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় যাই বলুক না কেন শোভন কি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরে আসতে পারবেন? রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের এক অংশের মনে হয় শোভন বিজেপি ছেড়ে বেরিয়ে আসবেন না । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই তাঁকে খুশি করার চেষ্টা করুক আখেরে শোভন ফিরবেন না তৃণমূলে । কেন ফিরবেন ? তার নেপথ্যে রয়েছে বিশাল রহস্য ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment