কলকাতা 

রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে বৈশাখীর ‘নবান্ন অভিযান’ কী নয়া রাজনৈতিক অঙ্কের সূচনা ?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : আগামী ২৬ মার্চ রাজ্যসভার নির্বাচন । এই নির্বাচনের ঠিক আগেই হঠাৎ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবান্নে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতুহল ছড়িয়েছে । এবার পঞ্চম আসনে বাম-কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য লড়াই করছেন । এই পঞ্চম আসনটি তৃণমূল পাওয়ার কথা নয় । তা সত্ত্বে তৃণমূল এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে । কোনো নির্দল প্রার্থী দিয়ে । সেক্ষেত্রে কী কোনো নয়া রাজনৈতিক সমীকরণের স্বার্থেই কী আজ নবান্নে গিয়েছিলেন বৈশাখী ?

এদিকে কলকাতার  প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপি সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা কথা বলেছেন এই খবর প্রকাশ হওয়ার পরেই তৃণমূল শিবিরে তৎপরতা বেড়েছে । গত মঙ্গলবার শোভনের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় পার্থ চ্যাটার্জি সঙ্গে দেখা করেন । তিনি শোভনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পার্থের সঙ্গে কথা বলেন । মঙ্গলবারই শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি গিয়ে বেশ লম্বা বৈঠক করে এসেছিলেন বৈশাখী। বৈঠক থেকে বেরিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তৃণমূলের সঙ্গে আর কথা এগনোর কোনও সম্ভাবনা নেই। শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের হয়ে সক্রিয় হচ্ছেন না বলে যদি বেহালায় তাঁর বিকল্প হিসেবে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে বেছে নেওয়া হয়, তা হলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, তৃণমূল রাজনৈতিক ভাবে কতটা ‘দেউলিয়া’— এই মন্তব্য সে দিন করেছিলেন বৈশাখী। এই ‘দেউলিয়া’ তৃণমূলের জন্য় তাঁর শুভেচ্ছা রইল বলে কটাক্ষও ছুড়েছিলেন।

বিজেপির হয়ে শোভনের সক্রিয় হয়ে ওঠা এ বার সময়ের অপেক্ষা বলে জোর জল্পনা রাজ্যের রাজনৈতিক শিবিরে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় আচমকা নবান্নে হাজির হওয়ায় জল্পনা অন্য দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আয়ত্তের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে বলে এ বার কি আসরে নামলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? না হলে কার সঙ্গে দেখা করতে নবান্নে গেলেন বৈশাখী? এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক শিবির।

শোভন ঘনিষ্ঠরা বলছেন— এর চেয়ে স্পষ্ট কোনও বার্তা আর হয় না। যাঁকে নিয়ে শোভনের মূল আপত্তি, তাঁর গুরুত্ব ক্রমশ বাড়িয়ে তোলা এবং শোভনের ওয়ার্ড বা শোভনের বিধানসভা আসনের দায়িত্বই তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া আসলে শোভনকে চ্যালেঞ্জ ছোড়ার শামিল— মনে করছে শোভনের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত।

বিজেপি-ও কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে খবর। টানাপড়েন যতই চলুক, শোভন বা বৈশাখীর সঙ্গে যোগাযোগটা সম্পূর্ণ বন্ধ বিজেপি কখনওই করেনি। পুরভোটের কাছাকাছি এসে যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছিল। শোভনের নির্বাচনী ক্ষেত্রের দায়িত্ব রত্নার হাতে তৃণমূল তুলে দেওয়ার পরে প্রাক্তন মেয়রের শিবিরে উষ্মা কতটা বাড়বে, তা আঁচ করে নিতেও বিজেপি নেতাদের ভুল হয়নি। তাই শনিবার থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতারা দফায় দফায় শোভন-বৈশাখীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন বলে খবর। ‘ভুল বোঝাবুঝি’ কিছু থাকলে মিটিয়ে নেওয়া যেতেই পারে, এমন বার্তাও শোভন শিবিরে পৌঁছয় বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের শীর্ষ স্তর থেকে। ফলে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের কথাবার্তা আবার এগোতে শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment