দেশ 

লখনউ শহরে সিএএ প্রতিবাদীদের নাম ঠিকানা সহ হোর্ডিং দিয়ে যোগী সরকার ‘ অত্যন্ত অন্যায়’ করেছে জানাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সিএএ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে লখনউ শহরে ৫৩ জনের ছবি দিয়ে বিশাল হোর্ডিং টাঙানো হয় বৃহস্পতিবার । এই ছবির পাশে প্রত্যেকের নাম ঠিকানাও দেওয়া হয় । আজ রবিবার ছুটির দিনেও এলাহাবাদ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামরার শুনানী করে । শুনানীতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গোবিন্দ মাথুর আন্দোলনকারদের ছবি প্রকাশ করাকে ‘অত্যন্ত অন্যায়’ বলে অভিহিত করেছেন । একইসঙ্গে সশরীরে এলাহাবাদ হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় ডিএসপি ও মহকুমা শাসককে এর ব্যাখ্যা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত ।

গত বৃহস্পতিবার লখনউ শহরের বড় রাস্তার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চোখে পড়ে প্রচুর হোর্ডিং। প্রায় গোটা শহর ছেয়ে গিয়েছে ওই হোর্ডিংয়ে। ৫৩ জনের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার এস আর দারাপুরি, সমাজকর্মী মহম্মদ শোয়েব, কবি দীপক কবীরের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। রয়েছে কংগ্রেসের স্থানীয় মহিলা নেত্রী সাদাফ জাফরের নামছবিও। উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের একটি সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশেই ওই হোর্ডিংগুলি পুলিশপ্রশাসনের পক্ষ থেকে টাঙানো হয়েছে

শুধু হোর্ডিং টাঙানোই নয়, সিএএ বিরোধী প্রতিবাদবিক্ষোভে যে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে, সেই টাকা এঁদের থেকে আদায় করা হবে বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন। যোগী মন্ত্রিসভার সদস্য মহসিন রাজা বলেছেন, ‘‘সিএএবিরোধী প্রতিবাদের নামে এঁরা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করেছেন। তাঁরা রাজ্যের মানুষের ক্ষতি করেছেন এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছেন। এখন সেই ক্ষতি তাঁদের কাছ থেকে আদায় করা হবে।’’

দাগী অপরাধীদের ধরতে এবং পুরস্কার ঘোষণা করেত সাধারণত পুলিশ এই রকম পোস্টার সাঁটায়। প্রায় একই কায়দায় প্রকাশ্যে ছবি দিয়ে হোর্ডিং লটকে প্রতিবাদীদের সঙ্গে ফৌজদারি অপরাধীর মতো আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে সরব অনেকেই। সমাজকর্মী দীপক কবীর বলেন, এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এর কোনও দরকারই ছিল না। সরকার ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। হোর্ডিংয়ে যাঁদের ছবি আছে, তাঁরা যে কোনও সময় গণপিটুনির শিকার হতে পারেন। দিল্লি হিংসার পর পরিবেশ মোটেই নিরাপদ নয়। সরকার সবাইকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। প্রাক্তন আইপিএস অফিসার এস আর দারাপুরির মতে, এটা অসাংবিধানিক। সরকার তাঁদের মানহানি করছে

যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি প্রিয়ঙ্কা গাঁধীও। রবিবার টুইটারে কংগ্রেস নেত্রীর তোপ, ‘‘উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার, তাঁর মাথা এবং যে সব অফিসার তাঁদের পথ অনুসরণ করছেন, তাঁরা নিজেদের সংবিধানের ঊর্ধ্বে ভাবছেন। হাইকোর্ট সরকারকেও বলে দিয়েছে, আপনারাও সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়। আপনাদের ভুমিকাও বিচার করে দেখা হবে।’’


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment