কলকাতা 

রাজ্যসভায় প্রার্থী নির্বাচনে তথা-কথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির আসল পরিচয় পরিস্ফুট হয়

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : আমাদের সংবিধান মোতাবেক দেশের সংসদ দুটি ভাগে বিভক্ত । একটি উচ্চকক্ষ যার নাম রাজ্যসভা , দ্বিতীয়টি লোকসভা । লোকসভায় সদস্য নির্বাচিত হয় সরাসরি জনগণের ভোটের দ্বারা। তাই লোকসভায় যে দল বা জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় , সেই দলই সরকার গঠন করে থাকে । আর উচ্চকক্ষ অর্থাৎ রাজ্যসভায় সদস্য নির্বাচিত হয় প্রদেশগুলির বিধানসভার সদস্যদের দ্বারা। লোকসভার আসনগুলি সংরক্ষণ থাকে তপশিলী/উপজাতিদের জন্য । তবে রাজ্যসভায় কোনো সংরক্ষণ থাকে না । তাই রাজ্যসভায় প্রার্থী নির্বাচনের দিক লক্ষ্য রেখেই তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির চরিত্র স্পষ্ট হয় । কারণ রাজ্যসভায় কোনো সংরক্ষণ নেই , সুতরাং সেকুলার দল বলে দাবি করা রাজনৈতিক দলগুলি এখানে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। আর এই মুহুর্তে যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে । কারণ বিজেপি স্পষ্ট করেছে , আইনসভায় কোনো মুসলিম প্রতিনিধিত্ব রাখবে না । ভারতের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বে লোকসভায় বিজেপির কোনো মুসলিম সাংসদ নেই । রাজ্যসভাতে আছেন মাত্র দুজন ।

লোকসভা ও রাজ্যসভায় দুই কক্ষেই মুসলিম জনপ্রতিনিধির সংখ্যা কমেছে । এই পরিস্থিতিতে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলির উচিত মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জায়গা হিসাবে রাজ্যসভাকে বেছে নিতে পারে । কংগ্রেস, সিপিএম , তৃণমূল কংগ্রেস সহ একাধিক ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল রাজ্যসভায় মুসলিম সমাজের বিশিষ্টদের পাঠানোর উদ্যোগ নিতেই পারত । কিন্ত তা চোখে পড়ছে না । এইসব তথা কথিত সেকুলার রাজনৈতিক দলগুলিও বিজেপিরই পরম্পরা রক্ষা করে চলেছে ।আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যসভায় মোট ১৬টি আসন রয়েছে । এরমধ্যে ১৩ জনই তৃণমুলের সাংসদ । এই ১৩ জনের মধ্যে মাত্র দুজন মুসলিম তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্ব করছেন । একজন বাঙালি মুসলিম , অপর জন উর্দুভাষী মুসলমান । এদিক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানকে সঠিক বলেই মনে হয় ।

আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বামপন্থীদের মত কোটা সিস্টেম রাজনীতি শুরু করেছেন । চারজন সাংসদের একজন হবেন মুসলমান ।সেই ট্রাডিশনকে সামনে রেখে মমতার রাজনীতি চলছে । আবার সেই মুসলিমকেই রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছেন যাদের সেই অর্থে জনসংযোগ নেই । মানুষের জন্য স্বার্থত্যাগ করে কাজ করেছেন এমন মানুষকে রাজ্যসভাতে পাঠানো জরুরি । কিন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই পথ ধরে হাঁটেন না । তিনি সোজা পথে হিসেব করেন ভোট আসবে কোথা থেকে সেই পথেই তিনি আপোষ করেন । দলের জন্য যারা নিবোদিত প্রাণ কিংবা দলকে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে যেসব সাংবাদিক লেখক কাজ করেছেন তাঁদেরকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো সময়ে গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ ।

তাই মমতার কাছে অগ্নি পরীক্ষা তিনি কোন পথে হাঁটবেন । বিজেপির দেখানো পথে নাকি সহজ সরল পথে নাকি ভোটের হিসাব কষেই এবার মুসলিম কোনো প্রার্থীকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেবেন । তা স্পষ্ট হবে কয়েক দিনের মধ্যেই । তবে রাজ্যসভায় প্রার্থী নির্বাচনেই পরিস্কার হবে মমতা আসলে কোন পথে হাঁটতে চাইছেন । ( বাকী অংশ আগামী কাল )।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment