দেশ 

দেখা হল , কথা হল , একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারলেন কিন্ত সিএএ-এনআরসি প্রসঙ্গে অমিতের কাছে মাথা নোয়ালেন না মমতা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সিএএ ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলন কয়েক মাস ধরে করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । মূল টার্গেট অমিত শাহ । সেই অমিত শাহের সঙ্গে দেখা হল কথা হল , একসঙ্গে বসে দুপুরের খাবার খেলেন মমতা । কিন্ত কোনোভাবে অমিতের কাছে মাথা নোয়ালেন বাংলার অগ্নিকন্যা । যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর নিয়ম মেনে পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদের বৈঠকে যোগ দেন মমতা। ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজের আসরও প্রায় নীরবেই মিটে গিয়েছে বলে খবর।

শুক্রবার বৈঠক সেরে বেরিয়ে মমতা জানালেন যে, দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। দেশের রাজধানীতে যে হিংসা গত কয়েক দিনে দেখা গিয়েছে, তা যাতে দেশের অন্য কোথাও প্রভাব না ফেলে, সে দিকে সকলের নজর রাখা উচিত বলে ভুবনেশ্বরে এ দিন মন্তব্য করেছেন মমতা। অমিত শাহের পৌরোহিত্যে হওয়া বৈঠকে এ দিন যাঁরা আমন্ত্রিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ সভাপতি নীতীশ কুমার এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেডি সুপ্রিমো নবীন পট্টনায়কের গুরুত্ব জাতীয় রাজনীতিতেও যথেষ্টই।  সিএএ, এনপিআর, এনআরসি নিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদের বৈঠকে এ দিন কোনও কথাই হয়নি।যে অঞ্চলের রাজ্যগুলিকে নিয়ে বৈঠক, মূলত সেই অঞ্চলের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন আন্তঃরাজ্য ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্যই এই বৈঠকগুলি হয়ে থাকে। সুতরাং এই বৈঠকে সিএএ, এনপিআর বা এনআরসি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল না। তবে বৈঠক সেরে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দেন যে, কেউ যদি ওই বিষয়গুলি তুলতেন, তা হলে তিনি নিশ্চয়ই নিজের মত আবার জানিয়ে আসতেন। সিএএ-এনআরসির প্রসঙ্গ এ দিনের বৈঠকে কেউই তোলেননি বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দিল্লির ঘটনা দুঃখজনক। সেখানে অবিলম্বে শান্তি ফিরুক। ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করতে হবে। এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে। অনেক সাধারণ মানুষও মারা গিয়েছেন। সকলকে সাহায্য করতে হবে।’’ তবে, দিল্লির পরিস্থিতি বা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়নি বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান। কয়লার উপরে সেস বসানো নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে, আলোচনা করে তার সমাধান খুঁজে বার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এ ছাড়া রেল, অসামরিক পরিবহণ-সহ যে সব বিষয়ের সঙ্গে সব রাজ্যেরই স্বার্থ জড়িত, সেই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, জানিয়েছেন মমতা।

পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদের বৈঠক শেষ হওয়ার পরে অমিত শাহের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একান্ত বৈঠকে বসতে পারেন বলেও শোনা গিয়েছিল। তবে অমিত-মমতার মধ্যে তেমন কোনও একান্ত বৈঠকও এ দিন হয়নি। তাহলে এটা প্রমাণিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীতির সঙ্গে আপোষ করেন না।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment