কলকাতা 

শোভনকেই মেয়র পদ প্রার্থী করে লড়াইয়ের ময়দানে বিজেপি!

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের আগে যে বিজেপি একটা চমক দেবে তা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল । এমনিতেই বিজেপি নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক মুকুল রায়ের ভাবনা ও রাজনৈতিক কৌশল কতটা বিপজ্জন্ক বিরোধী পক্ষের জন্য তা তৃণমূল লোকসভা ভোটেই টের পেয়েছে । তবে শোনা যাচ্ছিল শোভন চট্টোপাধ্যায় স্বমহিমায় রাজনীতিতে ফিরে আসছেন । কোন দলের কাজ করবেন সেটা বোঝা যাচ্ছিল না । কিন্ত তিনি যে ফিরবেন এ বিষয়ে রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা নিশ্চিত ছিল । ফিরলেন বা ফেরার চেষ্টা করলেন বা তাঁকে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে । কে করছে গেরুয়া শিবির । মমতার আদরের কানন এখন গেরুয়া শিবিরের সম্পদ । তাই তাঁকে মেয়র প্রজেক্ট করেই ভোটে নামছে বিজেপি ।

দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন রাস্তা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া ব্যানারের সঙ্গে পদ্মফুলের প্রতীকে ছয়লাপ। গড়িয়াহাট থেকে গোলপার্ক হয়ে সাদার্ন অ্যাভিনিউ পর্যন্ত একই ছবি। সংখ্যাটা সব মিলিয়ে দেড়েক। সেই সব ব্যানারে লেখা হয়েছে, ‘‘কলকাতার বেহাল দশাকে পুনরায় স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনতে আপনি এগিয়ে আসুন শোভনদা।’’ কোনওটিতে আবার বলা হয়েছে, ‘‘অসম্পূর্ণ কলকাতার পৌরসভাকে পুনরায় স্বমহিমায় আনতে ফিরে আসুন শোভনদা।’’ব্যানারের নীচে লেখা হয়েছে কলকাতার নাগরিকবৃন্দ বিজেপির প্রতীক সম্বলিত কোনও ব্যানার যে সাধারণ নাগরিকদের ছাপানো নয়, এর নেপথ্যে যে বিজেপি কর্মীরাই রয়েছেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

কলকাতাসহ রাজ্যের শতাধিক পুরসভার ভোট শিয়রে। কলকাতা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু পুরসভার ভোটে শোভন যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন, বিজেপি নেতৃত্ব তা জানেন। সে জন্য পুরভোটের আগে তাঁকে সক্রিয় করার চেষ্টা শুরু হয়। বিজেপি কেন্দ্রীয় রাজ্য নেতৃত্ব দফায় দফায় শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন

একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে বিজেপি শোভনকেই ফিরহাদের বিকল্প হিসাবে তুলে ধরতে চাইছেন । আর এটা বিকল্প হিসাবে তুলে ধরে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চলেছে বিজেপি । বিজেপি কিংবা মুকুল রায়ে কৌশলী রাজনীতিতে বেশ খানিকটা বেকায়দায় পড়েছে তৃণমূল । এখন শোভেনের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল নেতৃত্ব এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আনতে পারেননি । শোভন সম্পর্কে কোনো রকম বিরুপ মন্তব্যও তৃণমূল নেতারা করেননি । ফলে শোভনের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো শাসক দরের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠবে। আর এটাকে তুরুপে তাস হিসাবে ব্যবহার করে বাজিমাত করতে চাইছেন দিলীপ-মুকুলরা ।

বিষয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘ব্যানার কারা লাগিয়েছেন জানি না। তবে কলকাতার মানুষ যে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সক্রিয়তা চাইছেন, তা স্পষ্ট। এত দিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও সাধারণ কর্মীদের মন থেকে মুছে দেওয়া যায়নি ওঁকে, এটা বোঝা গেল।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment