কলকাতা 

‘রাজনীতি করতে ভাল না লাগলে ছেড়ে দিন; অভিনয় জীবনে ফিরে যান’ তাপস পালকে পরামর্শ দিয়েছিলেন অধীর

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : আজ সকালে হঠাৎ চলে গেলেন বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা ও তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তাপস পাল। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে । তাপস পালের মৃত্যুর খবর আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোক প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর শোকবার্তায় সাংসদ-বিধায়কের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তাপস পালের অভিনয় জীবনকে । আবার শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাপস পালের মৃত্যুর জন্য সিবিআইকে দায়ী করেছেন । বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ অবশ্য এখানে রাজনীতি করেছেন । তিনি মনে করেন তাপসের মৃত্যুর জন্য তৃণমূল কংগ্রেসই দায়ী । এদিকে, মুকুল রায় ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন , তাপস পাল নাকি তাঁর কাছে হাউহাউ করে কেঁদে ছিলেন !

অন্যদিকে, লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরি তাপস পালের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করে বলেন , ‘‘সংসদে তাঁর সঙ্গে কথা বলতাম, মজা করতাম। যখন উনি গ্রেফতার হলেন, তখন খারাপ লেগেছিল, মনে হয়েছিল, লঘু পাপে গুরুদণ্ড পাচ্ছেন তাপস পাল। বক্তৃতায় খারাপ ভাষা বলেছিলেন। আমি একদিন বলেছিলাম, জানেন তো তাপস দা, মুখের ভাষা তীর ছোড়ার মতো, তীর ছুড়ে দিলে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। উনি লজ্জিত, অনুতাপ বোধ করতেন। দেখে খারাপ লাগত। শেষের দিকে, তাপসদার সঙ্গে যখন কথা বলতাম, তখন ওঁকে হতাশাগ্রস্ত লাগত। তিনি অবহেলার শিকার হয়েছিলেন। উনি বলতেন, কেউ তো আমায় পাত্তা দেয় না আর। আমার আর কোনও দাম নেই’’

বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতার মৃত্যুর পর এমনই মন্তব্য করলেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। তিনি জানান, একসময় তিনি তাপস পালকে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ারও পরামর্শও দিয়েছিলেন৷২০০৯ সালে নদিয়ার কৃষ্ণনগর থেকে তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হন তাপস পাল। পাঁচ বছর পর ২০১৪ -য় ফের জয় পান তিনি। কিন্তু ভোটে জেতার পরেই বিতর্কে জড়ান সাংসদ। চৌমুহা গ্রামের একটি পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে চরম অশালীন মন্তব্য করে বসেন তাপস পাল। ‘ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেব’, এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরেই তুমুল সমালোচিত ও নিন্দিত হয়েছিলেন তাপস পাল। গোটা দেশের সংবাদমাধ্যমে তিনি সমালোচিত হয়। যার জেরে দলের মধ্যেই চাপে পড়ে যান অভিনেতা- সাংসদ। পরে ক্ষমাও চান তিনি। পরবর্তী সময়ে সেই মন্তব্যের জন্য রীতিমতো অনুতপ্ত ও লজ্জিত ছিলেন তাপস পাল।

এদিন কংগ্রেস সাংসদ বলেন, ‘‘উনি খুব ভেঙে পড়েছিলেন। আমি বলেছিলাম, ভেঙে পড়বেন না। রাজনীতি করতে ভাল না লাগলে ছেড়ে দিন। অভিনয় জীবনে ফিরে যান। সাহেবের স্পিরিট নিয়ে ফিরে যান। ফোনে কথা হত তাপসদার সঙ্গে। তারপর তাপসবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। খুব খারাপ লাগছে আজ’’।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment