দেশ 

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নীতিশ বিরোধী মঞ্চ গড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রশান্ত কিশোরের তোপ ‘‘গান্ধী ও গডসেকে এক সঙ্গে নিয়ে চলেন নীতীশ কুমার। এ কখনও হতে পারে না’’

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : ২০২০ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাস নাগাদ বিহার বিধানসভার নির্বাচন । এই প্রেক্ষাপটে বিহারের মাটি কামড়ে পড়ে আছেন সিপিআই নেতা কানাইয়া কুমার । তিনি সমগ্র রাজ্য জুড়ে বিজেপি-জেডিইউ দলের বিরুদ্ধে প্রচার করে চলেছেন । সমগ্র বিহার জুড়ে নীতিশ সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তীব্র হচ্ছে । এই পরিস্থিতিতে বিহারের মাটিতে আবার নয়া দল বা জোটের জন্ম দিতে চলেছেন ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর । আজ তিনি বিহারের পাটনাতেই সাংবাদিক বৈঠক করে নীতিশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন । সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই তিনি বলেন , ‘‘নীতীশ কুমার আমাকে ছেলের মতো দেখেন। আমি ওঁকে সম্মান করি। তিনি আমাকে দলে রাখবেন কি না, সেটা তাঁর ব্যাপার। আমি নীতীশ কুমারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করব না।’’

সৌজন্যের আবহাওয়ায় শুরু করলেও নীতীশ কুমারের সরকারের উন্নয়নের মডেল নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন বাণ ছুড়েছেন প্রশান্ত। বিহারে জেডিইউ-এর বিজেপি সঙ্গ নিয়েও তোপ দেগেছেন প্রশান্ত। তাঁর মতে, ‘‘গান্ধী ও গডসেকে এক সঙ্গে নিয়ে চলেন নীতীশ কুমার। এ কখনও হতে পারে না।’’ এ দিন প্রশান্ত অভিযোগ করেছেন, ‘‘লালুপ্রসাদ যাদবের সরকার সরে যাওয়ার পর নীতীশ কুমার ক্ষমতায় এসে বিহারের উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এখনও অনেকটাই পিছিয়ে বিহার। কিন্তু এ নিয়ে কেউ প্রশ্নও তুলতে পারেন না। ’’ বিহারের উন্নয়নের গতি কেমন সাংবাদিক বৈঠকে তা নিয়ে একাধিক তথ্য তুলে ধরেছেন প্রশান্ত। তাঁর দাবি, ‘‘মাথা পিছু আয়ের ভিত্তিতে বিহার এখনও দেশের মধ্যে ২২ নম্বরেই আটকে রয়েছে। এখানে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেউ কিছু বলার নেই। তাই নীতীশ কুমার ভাবেন, যা করেছি তা অনেক। কিন্তু সেই সঙ্গে এটাও বলা উচিত, বিহার মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা বা কর্নাটকের থেকে কতটা পিছিয়ে আছে?’’ রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা, বেকারত্বের হার-সহ একাধিক বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

নীতীশ সরকারকে আক্রমণের পালা শেষ করে নতুন ‘পথ’-এর কথাও তুলে ধরেছেন প্রশান্ত। রাজ্যের উন্নয়নের চালচিত্র বদলে দিতে বিহারের যুব সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যে ‘শক্তপোক্ত রাজনৈতিক দল’ তৈরির পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। তার আগাম প্রস্তুতি হিসাবে ঘোষণা করেছেন কর্মসূচিও। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যে ‘বাত বিহার কি’ নামে একটি কর্মসূচিও শুরু করতে চলেছেন তিনি। প্রশান্তের মতে, ‘‘বিহারের পরিস্থিতি বদলে দিতে আমি ১০ হাজার ভাল মুখিয়া তৈরি করতে চাই।’’ এ জন্য তিনি টার্গেট করেছেন রাজ্যের আট হাজার ৮০০টি পঞ্চায়েতকে। আর প্রশান্তের নজরে রয়েছেন রাজ্যের যুব সম্প্রদায়। তাঁর দাবি, এখনই তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ২ লক্ষ ৯৩ হাজার মানুষ। ২০ মার্চের মধ্যে সেই লক্ষ্য মাত্রা ১০ লক্ষে পৌঁছবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

যুব সম্প্রদায়কে কাছে টেনে রাজ্যের ছবিটা বদলে দিতে চাইছেন প্রশান্ত। কিন্তু তিনি কি এ বার নতুন কোনও রাজনৈতিক দল গড়বেন? প্রশান্ত অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘আপাতত একটি মঞ্চ তৈরি হবে। তার পর এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ওই মঞ্চের দরজা নীতীশ কুমার বা সুশীল মোদীদের জন্যও খোলা বলে এ দিন জানিয়ে দিয়েছেন প্রশান্ত। তাহলে প্রশান্ত কিশোর কী তৃণমূল দলকে বিহারে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন । কারণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তাই বলছে । ইতিমধ্যে প্রশান্ত কিশোরকে রাজ্যসভায় পাঠাতে পারে তৃণমূল । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি এই সিদ্ধান্ত নেন তাহলে নেপথ্যে অবশ্যই রয়েছে বিহারের নির্বাচন ।

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment