দেশ 

পুলিশি সন্ত্রাসের শিকার জামিয়ার লাইব্রেরিও , তছনছ করে ভেঙে দেওয়া হল লাইব্রেরি-র আসবাবপত্র দুমাস পর ভিডিও ভাইরাল হতে দেশজুড়ে শোরগোল

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : অভিযোগ করেছিলেন জামিয়ার পড়ুয়ারা । আমল দেয়নি দিল্লি পুলিশ । অবশেষে দিল্লির নির্বাচন শেষ হয়ে ফল বের হল । বিজেপি রাজধানীতে হেরে গেল । আজ রবিবার শপথ নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল । ঠিক এই দিনেই জামিয়ার লাইব্রেরিতে পুলিশের ‍নির্মম অত্যাচারে ভিডিও প্রকাশ করল জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সরকারি বাসে আগুন ধরানো হলে তা নিয়ে দেশভক্তির প্রশ্ন তোলা হয় । সরকারি বাস জনগনের সম্পত্তি তাতে আগুন লাগানো নিঃসন্দেহে অন্যায় এবং অপরাধ । কিন্ত পুলিশ রাষ্ট্রের উর্দি পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারে হামলা চালালে তাদের দেশপ্রেম নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হবে না ? কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি তো সরকারের সম্পত্তি । পুলিশ লাইব্রেরি ভাঙচুর করে সেটা কি অন্যায় ? গত ১৫ ডিসেম্বর এক সন্ধ্যায় জামিয়ার লাইব্রেরিতে পাঠরত পড়ুয়াদের উপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করা হয়েছিল । তা নিয়ে পড়ুয়া থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সবাই ক্ষুদ্ধ হয়েছিলেন । কিন্ত দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল । তবে বিশ্বের সব গণ-মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল দিল্লি পুলিশের অমানবিক আচরণের খবর ।দেখানো হয়েছিল কীভাবে জামিয়ার সুন্দর লাইব্রেরিও পুলিশ ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে ।

আজ এই ভিডি্ও প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে ,এক জায়গায় এক সঙ্গে গোল হয়ে বসে রয়েছেন অনেকে। আবার বই-খাতা খুলে একাই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ। এমন অবস্থায় লাইব্রেরির মধ্যে উর্দিধারীদের দেখে হুলুস্থুল পড়ে গেল চারিদিকে। মাথা বাঁচাতে টেবিলের নীচে আশ্রয় নিলেন কেউ। কেউ আবার সেঁটে গেলেন দেওয়ালে। তবে তাতেও রেহাই মিলল না। কখনও মাথায়, তো কখনও আবার পিঠে এসে পড়ল লাঠির বাড়ি। হাত তুলে মাথা বাঁচাতে গেলে সেই হাতেই এসে পড়ল এলোপাথাড়ি লাঠির ঘা।বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এবং প্রাক্তনীদের নিয়ে গঠিত জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োটি প্রকাশ করা হয়েছে। লাইব্রেরির সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে সেটি বার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাতে শুধু মারধরই নয়, লাঠি উঁচিয়ে পড়ুয়াদের শাসানিও দিতে দেখা গিয়েছে পুলিশকে।

জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘‘এই সিসিটিভি ফুটেজ পড়ুয়াদের উপর পুলিশি নৃশংসতার প্রমাণ। এতে প্রমাণিত হয়, কীভাবে রাষ্ট্রের পোষা সন্ত্রাসবাদীরা লাইব্রেরিতে ঢুকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া পড়ুয়াদের উপর নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছে।’’ ভিডিয়োটি সামনে আসার পর নতুন করে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের অপরাধ দমন শাখা জামিয়া কাণ্ডের তদন্ত করছে। ভিডিয়োটি  পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

ভিডিয়োটি সামনে আসার পর দিল্লি পুলিশের নিন্দায় সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গাঁধী। টুইটারে প্রিয়ঙ্কা লেখেন, ‘‘দেখুন দিল্লি পুলিশ কীভাবে পড়ুয়াদের মারধর করছে। একজন হাতে বই তুলে দেখাচ্ছে, তার পরেও তার উপর এলোপাথাড়ি লাঠি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। অর্থাৎ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দিল্লি পুলিশের আধিকারিকরা মিথ্যা বলেছিলেন যে, লাইব্রেরিতে ঢুকে কাউকে মারধর করেননি ওঁরা। এই ভিডিয়ো সামনে আসার পরও জামিয়ার ঘটনায় কারোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করা হলেই, এই সরকারের অভিসন্ধি সকলের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।’’

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment