অন্যান্য 

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তনের পথে কী কেন্দ্র ?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : কোনো পরিবর্তন হবে না । যতই আন্দোলন হোক বলেছিলেন অমিত শাহ । সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের পরিবর্তন চেয়েছিল বিরোধীরা দাবি ছিল বিশেষ বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নাম না রেখে প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি আইনে রাখা হোক । একই সঙ্গে অমিত শাহ বিরোধীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেছিলেন কেন মুসলিমদের নাগরিকত্ব দেব ? আবার নাগরিক আইনে শুধুমাত্র বাংলাদেশ-পাকিস্থান-আফগানিস্থান থেকে আসা হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-জৈন সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে । অন্য প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার , শ্রীলঙ্কার মত এলাকা থেকে আসা নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়নি । সাধারন মানুষের মনে এই প্রশ্নটাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তাহলে কি উদ্দেশ্যহীন , ভারতীয় সংবিধানের মূল্যবোধকে বিনষ্ট করে আইন তৈরি করা হয়েছে ? আর এই প্রশ্নেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আন্দোলন । যোগী থেকে মোদী সবাই এই আন্দোলনের নেপথ্যে দেশদ্রোহীদের হাত দেখলেও মানুষ এই আন্দোলনকে দুহাত ভরে সমর্থন দিয়েছে । অমিত শাহ তো বলেই ফেললেন কোনোভাবেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে বদল আনা হবে না ।

দিল্লির ভোটে বিধ্বস্ত হওয়ার পর খানিকটা টনক নড়েছে বিজেপির । বৃহস্পতিবার টাইমস নাও-র সামিটে অংশ নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ বলেছেন , সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তিনি আলোচনা করতে চান । যে কেউ তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন । সময় চাওয়ার মাত্র তিন ঘন্টার মধ্যেই সময় দেওয়া হবে বলে অমিত শাহ জানিয়েছেন । আর এতেই রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা মনে করছেন পিছু হঠছে কেন্দ্র । দিল্লি ভোটে যেমন এই ইস্যুতে ধাক্কা খেয়েছে একই ভাবে আন্তর্জাতিক মহলে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রায় এক ঘরে । বিদেশের সমস্ত সংবাদ মাধ্যম এই আইনকে বিভাজনের আইন বলে মন্তব্য করেছে । মার্কিন সেনেটর থেকে শুরু করে ব্রিটেন সংসদের সদস্যরাও এই আইনের বিরোধিতা করেছেন । এই অবস্থায় আগামী এপ্রিল মাসে ওআইসি- বৈঠক বসছে পাকিস্থানে। মুসলিম দেশগুলিও এই আইন বিভাজনের আইন বলে মনে করছে । ওআইসি সম্মেলনে এ বিষয়ে চর্চা হওয়ার জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে । সেখানে এরকম কিছু হলে তাঁর পেট্রোপণ্যের উপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে । ইতিমধ্যে মালোশিয়া , ইরাণ ও তুরস্ক এই আইনের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছে । এদেশের মুসলিমদের প্রতি মোদী সরকার বিভাজনের নীতি নিয়েছে বলেও তারা মন্তব্য করেছে । আন্তর্জাতিক মহলের এই চাপে মোদী সরকার খানিকটা দিশেহারা।

তারপর রয়েছে শাহিন বাগ আন্দোলন । এই আন্দোলনের প্রচার সমগ্র বিশ্ব জুড়ে চলেছে । সেই প্রচারে আর যাইহোক ভারতে চিরন্তন ঐতিহ্য-সংস্কৃতি নষ্ট হয়েছে । যে ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের জন্য আমরা সমগ্র বিশ্বের কাছে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে ছিলাম ; সেই আদর্শ আজ ভূলুণ্ঠিত । বহুত্ববাদ ও বিবিধের মাঝে যে মহা মিলনের অহংকার আমাদের ছিল তাও আজ নষ্ট হয়েছে । দেশের ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে –সাংবিধানিক মূল্যবোধ বিনষ্ট করার অধিকার কোনো নির্বাচিত সরকারের নেই । তাই দিল্লি নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে হবে বিজেপিকে । কোনোভাবেই বিভাজন-বিদ্বেষ ভারতবাসী যে পচ্ছন্দ করে না তা আর একবার প্রমাণ মিলল । সুতরাং আজ হোক কিংবা কাল হোক সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে পরিবর্তন করতেই হবে কেন্দ্রকে । সময়ের অপেক্ষামাত্র।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment