কলকাতা 

বেনজীর সংঘাতে রাজ্যপাল ! পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের আগের দিনেই উপাচার্যকে শোকজ করলেন আচার্য , বরখাস্তের ভাবনা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : বির্তক রাজ্যপালের পিছু ছাড়ছে না । কয়েক মাস ধরে চলা রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের ঠান্ডা যুদ্ধের অবসান হল বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে । তাতে মনে করা হয়েছিল এবার হয়তো রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সংঘাত তীব্রতা কমবে । তা আর হল না । এবার সরাসরি রাজ্যপাল বা আচার্যের সঙ্গে সংঘাত হল উপাচার্যের । সংঘাত শুধু নয় , রাজ্যপালকে না জানিয়ে কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠান কেন করা হচ্ছে তার কারণ দর্শানোর নোটিশও জারি করা হয়েছে ।আগামী কাল অর্থাৎ শুক্রবার কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন হওয়ার কথা। তার ঠিক আগের দিনই উপাচার্যকে শো কজ করলেন আচার্য। সমাবর্তনের আগের দিন উপাচার্যকে শোকজ করে রাজ্যপাল তাঁর ক্ষমতা দেখালেন ।

ডিজিটাল আনন্দবাজারের খবর অনুযায়ী উত্তরবঙ্গের এই বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাবর্তন ঘিরে বিতর্ক গত কয়েক দিন ধরেই চলছিল। সমাবর্তনের আমন্ত্রণপত্রে আচার্য তথা রাজ্যপালের নাম নেই কেন? এই প্রশ্নই উঠেছিল সর্বাগ্রে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিলেন, রাজ্যপালকে সমাবর্তনের বিষয়ে জানানো হয়েছে, তবে কোনও উত্তর মেলেনি। কিন্তু রাজ্যপাল উষ্মা প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, সমাবর্তনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে কিছুই জানাননি। উষ্মা এ বার বদলে গেল পদক্ষেপে। উপাচার্যকে শো কজ করলেন রাজ্যপাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভাঙার দায়ে তাঁকে কেন বরখাস্ত করা হবে না, ১৪ দিনের মধ্যে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য উপাচার্যকে নির্দেশ দিলেন আচার্য। মেল, ফ্যাক্স এবং ডাকযোগে এই শো কজ নোটিস আজ, বৃহস্পতিবার উপাচার্যকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে রাজভবন জানিয়েছে।

শো কজের চিঠিতে রাজ্যপাল লিখেছেন যে, ১৪ ফেব্রুয়ারি কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। কিন্তু তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা কোর্টের সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও উপাচার্য তাঁকে সমাবর্তনের বিষয়ে কিছুই জানাননি। যে চিঠি এ দিন রাজভবন পাঠিয়েছে কোচবিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে, তার বয়ান অত্যন্ত কড়া। উপাচার্য নিজের ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করেছেন এবং ‘উপাচার্য পদে তিনি বহাল থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে’— এমনই লিখেছেন রাজ্যপাল।

তবে শো কজ নোটিসে এ-ও লেখা হয়েছে যে, আইন অনুযায়ী কারণ দর্শানোর জন্য উপাচার্যের ১৪ দিন সময় পাওয়া উচিত। সেই সময় উপাচার্যকে দেওয়া হচ্ছে। লিখিত ভাবে উত্তর দিতে না চেয়ে উপাচার্য যদি মৌখিক ভাবে উত্তর দিতে চান, তার অবকাশও রয়েছে বলে চিঠিতে জানিয়েছেন রাজ্যপাল। সে ক্ষেত্রে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টেয় রাজভবনে তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। উপাচার্য দেবকুমার মুখোপাধ্যায়কে এমনই জানিয়েছেন রাজ্যপাল।

নিরন্তর চলতে থাকা সেই সঙ্ঘাতেই নতুন পর্ব যোগ করেছিল পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন। রাজ্যপাল ফের ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। কিন্তু এ বার উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে রকম পদক্ষেপ রাজ্যপাল করলেন, তাতে সঙ্ঘাত আরও উচ্চগ্রামে পৌঁছনোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment