দেশ 

শাহিন বাগ নিয়ে মোদী-শাহ থেকে শুরু করে বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা কেন বিব্রত জানেন কি ? নেপথ্য রহস্য জানতে হলে অবশ্য ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : স্বাধীনতার ৭৩ বছর পর নতুন করে গণআন্দোলন শুরু হয়েছে । যে আন্দোলনের প্রতীক শাহিন বাগ । কিন্ত এই আন্দোলনের কোনো নেতা নেই । তাই খানিকটা চাপে রয়েছে কেন্দ্র সরকার । বহু চেষ্টা করেও আন্দোলনকে দমন করা যায়নি । দিল্লিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা এখন সব রাজ্যে বিরাজ করছে । এমনকি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে শাহিন বাগ মডেলে আন্দোলন তীব্র হয়েছে । হাতে জাতীয় পতাকা , মুখে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র হচ্ছে দিন দিন । মনে করা হচ্ছে দিল্লি বিধানসভার ফল বের হওয়ার পর এই আন্দোলন আরও গতি পাবে ।

শাহিন বাগ যে বিজেপি দল ও কেন্দ্র সরকারকে চাপে ফেলেছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই । বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের মুখে শাহিন বাগ নিয়ে কটাক্ষ শুনে সাধারন মানুষের মনে এটা দৃঢ় ধারনা হয়েছে যে আন্দোলনে বেকায়দায় পড়েছে বিজেপি তথা কেন্দ্র । সেই জন্য প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু স্বরাষ্ট মন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এবং বিজেপি দলের নেতারা শাহিন বাগকে টার্গেট করেছে । এবার শাহিন বাগকে আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ । শাহিন বাগের অন্দোলন নিয়ে গিরিরাজের পর্যবেক্ষণ, “এই শাহিন বাগ এখন আরও অন্দোলনের জায়গামাত্র নয়। এখানে আত্মঘাতী বোমারুদের ঝাঁক তৈরি করা হচ্ছে। দেশের রাজধানীতেই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।হিন্দিতে লেখা গিরিরাজের ওই টুইট নিয়ে অবশ্য দিন দুপুর পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি বিজেপি। তবে নিজের ওই মন্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন স্বয়ং গিরিরাজই। তিনি বলেন, “শাহিন বাগে একটি শিশুর মৃত্যু হলে তার মা বলেন, আমার সন্তান শহিদ। একে কী বলবেনএরা আত্মঘাতী বোমারু নয় তো কী?” এখানেই থেমে থাকেননি কেন্দ্রীয় পশুপালন, ডেয়ারি মৎস্যচাষ মন্ত্রী গিরিরাজ। শাহিন বাগকে খিলাফত্ আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে তাঁর পরামর্শ, “ভারতের স্বার্থরক্ষায় এই খিলাফত্ আন্দোলন, এই আত্মঘাতী বোমারুদের থেকে সর্তক থাকতে হবে।

গত ডিসেম্বর থেকেই এখানে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বসেছেন রাজধানীর মহিলারা। তবে দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, শাহিন বাগ নিয়ে কুকথার পাল্লা ততই ভারী হচ্ছে। এই প্রথম নয়, শাহিন বাগ নিয়ে এর আগে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে বিজেপির নেতামন্ত্রীরা। ভোটের প্রচারে এসে অমিত শাহের মন্তব্য ছিল, “ভোটের মেশিনের বোতামে এত জোরে চাপ দিন, যাতে তার ছ্যাঁকা শাহিন বাগের আন্দোলনকারীও টের পান।

কুকথার স্রোতে অমিত শাহকেও ছাপিয়ে গিয়েছেন বিজেপি সাংসদ প্রবেশ বর্মা শাহিন বাগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছিলেন, “লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে জড়ো হয়েছেন তাঁরা আপনাদের বাড়িতে ঢুকে আপনাদের মাবোনেদের ধর্ষণ করে দেবেন ওদের মেরে ফেলুনবিজেপির আর এক নেতা কপিল শর্মার মতে, শাহিন বাগ হলমিনি পাকিস্তান গত সপ্তাহে টুইটারে তাঁর দাবি ছিল, শাহিন বাগে পাকিস্তান ঢুকে পড়েছে

বিজেপি নেতৃত্বের তরফে গিরিরাজের টুইট নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না মিললেও আম আদমি পার্টি (আপ)- নেতা তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালের অভিযোগ, শাহিনবাগ নিয়ে মেরুকরণের খেলায় মেতেছে বিজেপি। কারণ, দিল্লি ভোটে তাদের কাছে বলার মতো অন্য কোনও ইস্যুই নেই

শাহিন বাগের আন্দোলন নিয়ে কেন বিব্রত বিজেপি ? এটা জানেন কি ? সমগ্র বিশ্ব তাকিয়ে শাহিন বাগের দিকে । শাহিন বাগ একটি বিবেকের নাম । সেই বিবেকের প্রশ্নহীন আন্দোলন মোদী-শাহদের কাছে অস্বস্তি কারণ হয়ে উঠেছে । আর দিল্লি নির্বাচন কেন ? ভারতের গণতন্ত্রে হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে শাহিন বাগের আন্দোলন আগামী দিনে ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে । এটা কোনো দিন বিজেপি কিংবা মোদী-অমিত শাহরা ভাবতে পারেননি আন্দোলনের গতি মুখ এভাবে বদলে যাবে । সিএএ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সংবিধান বাঁচানোর আন্দোলনে পরিণত হবে । এখানেই শেষ নয় শাহিন বাগের আন্দোলনের ফলেই বিজেপির দিল্লি দখলের স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে গেছে ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment