দেশ 

সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে হিন্দুত্বকেই প্রাধান্য দিলেন মোদী , রাহুলকে কটাক্ষ করে বললেন, ‘‘কিছু টিউবলাইট আছে যার জ্বলতে সময় লাগে।’’

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : নরেন্দ্র মোদী আছেন মোদীতেই । তাঁর অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি । সমগ্র দেশজুড়ে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রতিবাদের সুর চড়া হয়েছে । দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগাম জনমত সমীক্ষায় স্পষ্ট শাহিন বাগের ফলে মোদী জনপ্রিয়তা অনেকটাই কমেছে । যতই শাহিন বাগকে আক্রমণ করছেন মোদী-শাহ ,ততই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জয়ের পথ সুগম হয়েছে । তাছাড়া সিএএ পাশ পর থেকে তিনটি রাজ্যে বিধানসভা ভোট হয়েছে এর মধ্যে দুটি রাজ্যেই বিজেপিকে হারতে হয়েছে । হরিয়ানাতে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য অন্য দলের সঙ্গে জোট করতে হয়েছে । তা সত্ত্বে মোদী আছেন মোদীতেই । আজ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ, রামমন্দির বিতর্কের সমাধানের কথা তুলে ধরে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন তাঁর সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও। আগের আমলের তুলনাও করছিলেন। এর পরই তিনি নিশানা করেন রাহুল গাঁধীকে। তাঁর নাম না করেই বলেন, ‘‘আমি গত কাল কংগ্রেসের এক নেতার ইশতাহারের কথা শুনছিলাম। তিনি বলেছেন মাসের মধ্যেই মোদীকে ডান্ডা মারা হবে। এই কাজটা সত্যি কঠিন।’’

একটু চুপ থেকে ফের মোদী বলতে শুরু করেন, ‘‘ডান্ডা মারার কাজটা কঠিন বলেই মাস সময় লাগবে। তা ভাল। কিন্তু আমিও মনে করেছি এই মাসে সূর্য নমস্কারের সংখ্যা আরও বাড়াব।’’ এর পর রসিকতার মেজাজটা ধরে রেখেই আবেগতাড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘গত ২০ বছর ধরে গালিগালাজ শুনে নিজেকে গালি প্রুফ তৈরি করেছি। আর এই মাসে এমন সূর্য নমস্কার করব যে নিজের পিঠ ডান্ডাপ্রুফ করে নেব।’’ আরও খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যে আমাকে ডান্ডা মারার কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। আমিও এই মাস ব্যায়াম করার জন্য সময় পাব।’’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার মাঝেই তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলতে যান রাহুল গাঁধী। ফের সরস ভঙ্গিতে মোদী বলেন, ‘‘আমি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ধরে বলছি। কিন্তু কারেন্ট পৌঁছতে এত দেরি লাগল।’’ এর পর কিছুক্ষণ থেমে রাহুলকে শেষ অস্ত্র প্রয়োগ করেন তিনি। বলেন, ‘‘কিছু টিউবলাইট আছে যার জ্বলতে এতটাই সময় লাগে।’’

বুধবার মোদীকে নিশানা করেছিলেন রাহুল। দিল্লিতে একটি জনসভায় দেশে বেকারত্বের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, ‘‘মোদী অনেক ভাষণ দিচ্ছেন। আমি বলছি, ছয় কিংবা সাতআট মাস কেটে যাক, মোদী ঘর থেকে বেরোতে পারবেন না। দেশের যুবকেরা তাঁকে এমন ভাবে লাঠিপেটা করবেন যে উনি সবকিছু বুঝে যাবেন। বুঝবেন, রোজগারের ব্যবস্থা করা ছাড়া দেশ এগোতে পারে না।’’

দিন রাহুলকে যেমন তীব্র কটাক্ষে বিঁধেছেন তেমনই লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীকে নিয়েও রসিকতা করেন মোদী। বলেন, ‘‘যখন অধীররঞ্জন চৌধুরী বক্তৃতা করেন তখন আমি কিরেণ রিজিজুকে ধন্যবাদ জানাই। অধীরজি রিজিজুজির ফিট ইন্ডিয়া মুভমেন্টকে খুব ভাল ভাবে তুলে ধরেন। তিনি বক্তৃতা করার সময়েই ব্যায়াম করেন।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment