কলকাতা 

বৈশাখীকে নিয়ে মিল্লি আল-আমীনে তোলপাড় , উচ্চ শিক্ষা দফতরের অনুমতি থাকা সত্ত্বে কাজে যোগ দিতে দিল না পরিচালন সমিতি , ইনসাফ পেতে পার্থের সঙ্গে আগামী কাল দেখা করবেন বৈশাখী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : বেনিয়াপুকুরের মিল্লি আল –আমীন কলেজে ফের নতুন করে অশান্তি হয়েছে আজ সোমবার । বেশ কয়েক বছর ধরে মিল্লি আল-আমীন কলেজে অচলাবস্থা চলছে । এই অচলাবস্থার নেপথ্যে তৃণমূলের একটাংশকে দায়ী করেছিলেন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় । আর এর প্রতিবাদে তিনি বেশ কয়েকবার পদত্যাগ করেছিলেন । শেষ পর্যন্ত জানা যায় ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ বৈশাখীর পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করা হয় । পরে আবার বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক করার পর তাঁকে ওই পদে ফিরিয়ে দেওয়া হয় । এদিকে মিল্লি আল –আমীন কলেজের পরিচালন সমিতির পরিবর্তন ঘটে যায় । নতুন পরিচালন সমিতি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় ওই কলেজের দায়িত্ব অস্বীকার করে ।

তবে শিক্ষা দফতরের স্পষ্ট নির্দেশ নিয়ে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা পদে যোগ দিতে গেলে আজ  তাঁকে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ । এদিন জোর করে কলেজে ঢুকে অশান্তি তৈরি করার অভিযোগ উঠল মিল্লি আল-আমিন কলেজের নতুন পরিচালন সমিতির বিরুদ্ধে ।

তবে এক সময় বৈশাখী কলেজের সমস্যার সমাধান ইচ্ছাকৃত ভাবে না করার অভিযোগ তুলেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দিকে। ইস্তফাও দিয়েছিলেন চাকরি থেকে। অবশ্য সে সময়ে বৈশাখীর ইস্তফা নেননি। তাঁর অভিযোগগুলির তদন্ত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য তার পরেও একাধিক বার ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন পার্থের দফতরে। কলেজের সমস্যার স্থায়ী সমাধান কিছুতেই করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেই তিনি বার বার ইস্তফাপত্র জমা দিচ্ছিলেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী বার বারই তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করতে অস্বীকার করছিলেন। পরে ২০১৯-এর ১৭ ডিসেম্বর অবশ্য আচমকাই জানা যায় যে, বৈশাখীর ইস্তফা গৃহীত হয়েছে। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই ফের তাঁকে জানানো হয় যে, ইস্তফা গৃহীত হয়নি এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা হিসেবে বৈশাখী-ই ওই কলেজ চালাবেন।

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়  কলকাতার এক নামকরা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘২৮ জানুয়ারি আমি শিক্ষা দফতরের কাছ থেকে একটা চিঠি পাই। তাতে আমাকে জানানো‌ হয় যে, আমার ইস্তফা গৃহীত হয়নি। আমার অনুপস্থিতিতে যে অ্যাড-হক পরিচালন সমিতি গঠন করা হয়েছিল, সেই সমিতি অবৈধ বলে শিক্ষা দফতর আমাকে জানায়। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা তথা পরিচালন সমিতির সম্পাদিকা হিসেবে অবিলম্বে সমিতির বৈঠক ডাকার নির্দেশও আমাকে দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ীই আমি বৈঠক ডেকেছিলাম এবং আজ কলেজে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও যে ভাবে একদল লোক জোর করে কলেজে ঢুকে অশান্তি তৈরি করল, তাতে কোনও বৈঠক করা যায়নি।’’

এদিকে মিল্লি আল আমীন কলেজের পরিচালন সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে , এই শিক্ষা্-প্রতিষ্ঠানটি সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান । সংবিধান মতে এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনাতে কোনোভাবেই সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না । সংবিধানের ৩০(১) ধারাতে এটা স্পষ্ট করা হয়েছে । বেনিয়াপুকুরের সংখ্যালঘুদের অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমলেই কলকাতার একমাত্র মুসলিম মেয়েদের জন্য স্থাপিত এই কলেজটি রঅবস্থা সবচেয়ে বেশি করুণ । সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংখ্যালঘু স্ট্যাটাস পাওয়ার পর পরিচালন সমিতি নিয়োগেও সরকারের কোনো দায়িত্ব থাকে না বলে ওই মানুষদের দাবি ।

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment