দেশ 

‘‘কিসকো আজাদি চাহিয়ে? ম্যায় দুঙ্গা আজাদি। ইয়ে লো আজাদি’’ বলে বাপুজির মৃত্যু দিবসে জামিয়ার পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে পুলিশের সামনেই গুলি যুবকের

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধতা করে মহাত্মা গান্ধীর মৃতু দিন আজ বৃহস্পতিবার জামিয়ার পড়ুয়ারা মিছিল করে রাজঘাটের দিকে যাচ্ছিল ঠিক পুলিশের সামনেই পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ‘ইয়ে লো আজাদি’ বলেই আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান তিনি। তাতে এক শাদাব নামের জামিয়ার এক পড়ুয়া জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর হাতে গুলি লেগেছে।

গোটা ঘটনায় দিল্লি পুলিশকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, মিছিল ঘিরে যাতে কোনওরকম অশান্তি না বাধে তার জন্য আগে থাকতেই জামিয়ার বাইরে পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিক্ষোভকারীদের আটকাতে হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে ব্যারিকেডও বসানো হয়। তাতে দমে না গিয়ে রাস্তার উপরই বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। তখনই পুলিশি নিরাপত্তা টপকে পিস্তল হাতে মিছিলের একেবারে সামনে চলে আসেন অভিযুক্ত। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান তিনি।

সেইসময় তাঁকে বাধা দেওয়ার বদলে পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত ওই যুবকের গুলিতে এক পড়ুয়া জখম হওয়ার পর চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। এক জোটে ঝাঁপিয়ে আন্দোলনকারীরাই অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন। তাতেই বাগে আনা সম্ভব হয় তাঁকে। তার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম গোপাল। বয়স ৩১ বছর। কী উদ্দেশে তিনি মিছিলে চড়াও হন, মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, তা যদিও এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।

আন্দোলনকারীদেরই মোবাইলে তোলা গোটা ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, ব্যারিকেডের সামনে ফাঁকা রাস্তায় পিস্তল হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক যুবক। তাঁর পরনে সাদা রঙের ট্রাউজার এবং কালো জ্যাকেট। গুলি ছোড়ার আগে বন্দুক উঁচিয়ে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘কিসকো আজাদি চাহিয়ে? ম্যায় দুঙ্গা আজাদি। ইয়ে লো আজাদি।’’

এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নিরাপত্তার সুনিশ্চিত করতে সেখানে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। জামা মসজিদ, আইটিও এবং দিল্লি গেট এই তিনটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। আহত পড়ুয়াকে প্রথমে হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এমস)-এর ট্রমা সেন্টারে পাঠানো হয় তাঁকে। তবে আন্দোলনকারীদের মধ্যে থেকে নয়, বরং অভিযুক্ত যুবক বাইরে থেকে মিছিলের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলেন বলে দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা। সংবাদমাধ্যমে জামিয়ার পড়ুয়া আমনা আসিফ বলেন, ‘‘হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে ব্যারিকেডের কাছে বসেছিলাম আমরা। আচমকাই গুলি চালাতে শুরু করেন ওই ব্যক্তি। তবে তিনি আমাদের কেউ নন। বাইরে থেকে এসে ঢুকে পড়েন।’’

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment