জেলা 

জলঙ্গীতে সানারুল বিশ্বাস ও সালাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর জন্য দায়ী কে ? মমতার দল ভুল পথে চলছে !

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : মুর্শিদাবাদের জলঙ্গীতে সিএএ বিরোধী বনধকে সমর্থন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেল দুই সংখ্যালঘু পরিবারের মানুষ । তাঁদের অপরাধ কী ? তারা জানে না । কেন তাদেরকে মরতে হল তারও কোনো হিসাব নেই । পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মানবিক মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বহুবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন । কিন্ত সেই মানবিকতা কী আসলে লোক দেখানো? আজ মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের ডাকা সারা ভারত বনধ ছিল । সেই খবর কমপক্ষে এক সপ্তাহ ধরে প্রচার হয়েছে । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধী । তিনি কলকাতায় বসে একের এক সভা করে চলেছেন । সিএএ আইনের বিরুদ্ধে বিধানসভায় প্রস্তাব নিয়েছেন । কিন্ত তারই রাজত্বে কেন সিএএ বিরোধী বনধকে সমর্থন করতে গিয়ে দুজন মানুষকে গুলি করে মারা হল ?

অভিযোগ উঠেছে , এর নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস । যদি এই অভিযোগ সত্যি হয় তাহলে মারাত্মক ব্যাপার । উত্তরপ্রদেশের যোগী রাজ্যের সঙ্গে এই রাজ্যকে তুলনা করতে হবে, কারণ আজ এই রাজ্যে যা হয়েছে তা একমাত্র যোগী রাজেই হয়ে থাকে । আজ বনধ ছিল । মুসলিম সংগঠনগুলি এই বনধকে সমর্থন করবে এটাই স্বাভাবিক । আর সেই বনধকে কটাক্ষ করে মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের বললেন মৌলবাদীদের ডাকা বনধ । মৌলবাদী কাদের বলেন আবু তাহের সেটাই জানেন না ? মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ড দেশের সব কটি মুসলিম সংগঠনের যৌথ সংস্থা । এই সামান্য জ্ঞান যদি আবু তাহের সাহেবের না থাকে তাহলে বুঝতে হবে তাঁকে সাংসদ করা হয়েছে শুধুমাত্র মুসলিম নামের জন্য ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভাবতে হবে তাঁর পেছনে ষড়যন্ত্রে চলছে । যেকোনো ভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে মুসলিম সমাজের কাছে ছোট করতে হবে । মুসলিম ভোটকে তৃণমূল থেকে সরিয়ে দিতে হবে এই পরিকল্পনা নিয়ে খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের একটাংশ প্রতিনিয়ত সাবেতাজ করে যাচ্ছে । বিজেপির পক্ষ থেকে তৃণমূল কিছু নেতাকে এই কাজে লাগানো হয়েছে । আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই গেরুয়াপন্থী তৃণমূলীদের পাল্লায় পড়ে তাদের কথায় চলতে গিয়ে আজ প্রতিনিয়ত ঠোক্কর খাচ্ছেন । আজকের ঘটনা তারই ফলশ্রুতি । সানারুল বিশ্বাস ও সালাউদ্দিন শেখের গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বিজেপি । আর ক্ষতিগ্রস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস । সেইসঙ্গে আবু তাহেরের বিকৃতি মূলক বিবৃতিতে রাজ্যের মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনে রাখতে হবে মাত্র ২-৫ শতাংশ মুসলিম ভোট কমে গেলেই এই রাজ্যে মমতার পরাজয় কেউ রুখতে পারবে না । কারণ সরস্বতী পুজোতে ৫ দিন কেন আট দিন ছুটি এই রাজ্যের কট্টর হিন্দুভোট তৃণমূল পাবে না এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে । তাঁর একমাত্র ভরসা মুসলিম ভোট । কিন্ত মমতার দলের কর্মীরা সিএএ নিয়ে যেভাবে মুসলিমদের সঙ্গে প্রতারণা করে চলেছে তার প্রতিক্রিয়া যে খুব একটা ভাল হবে না তা বলাই বাহল্য মাত্র ।

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment