আন্তর্জাতিক 

“আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার হনন করতে চেষ্টা করছে ভারত। ফলে সিএএ আর এনআরসি রূপায়িত হলে সে দেশের প্রচুর মুসলিম রাষ্ট্রহীন হবেন” : ইইউ’র সিএএ বিরোধী খসড়া

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও কাশ্মীর ইস্যুতে আবারও আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে পড়তে চলেছে ভারত । সংবাদ সংস্থা এনডিটিভির খবর অনুযায়ী ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ১৫০ জন সাংসদ সিএএ-বিরোধী প্রস্তাব গ্রহণ করতে চলেছে । সেই প্রস্তাবের খসড়া প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে । প্রকাশিত খসড়াতে বলা হয়েছে,যে পন্থা অবলম্বন করে ভারত সিএএ লাগু করছে, তা বিশ্ব ব্যাপী বৃহত্তর রাষ্ট্রহীনতার পরিসর তৈরি করবে যার কারণে বাড়বে মানুষের দুর্ভোগ” ওই সাংসদরা কেন্দ্রের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে ভারত সরকার, বিরোধী, সমালোচক সাংবাদিক আর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোকে আইনি মামলায় জড়িয়ে দিচ্ছে অযথা তাদের হয়রান করছে আর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে তাঁদের আবেদন, “ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের কোনওপ্রকার বাণিজ্য চুক্তির আগে ওই খসড়ায় উল্লেখ করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধারাগুলো উল্লেখ করা হোক তোলা হোক মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ” সম্প্রতি মানবাধিকার রক্ষার ইনডেক্সে ১০ ধাপ নেমে গেছে ভারত নাগরিকত্ব আইন আর জম্মুকাশ্মীরে লাগু হওয়া বিধিনিষেধ এই তালিকা তৈরির নেপথ্যে নেতিবাচক অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে আগামী সপ্তাহে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হতে চলা প্লেনারি অধিবেশনে এই খসড়া পেশ করবেন ওই সাংসদরা 

পাশাপাশি জানা গেছে, সিএএএনআরসি বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সমর্থন জানানো হয়েছে ওই খসড়ায়। ওই খসড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, “আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার হনন করতে চেষ্টা করছে ভারত। ফলে সিএএ আর এনআরসি রূপায়িত হলে সে দেশের প্রচুর মুসলিম রাষ্ট্রহীন হবেন।” পাশাপাশি ওই সাংসদরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার প্রদানে ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা আছে। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত মানবাধিকার রক্ষার ১৫ ধারা অনুসরণ করে। যে ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক নাগরিকের স্বতন্ত্র অধিকার আছে। রাষ্ট্র দ্বারা চিহ্নিত কোনও নাগরিক তার সেই অধিকার হারাতে পারেবন না, বা কেউ সেই অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। ইইউ পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনের আধিকারিক বলেছেন, সিএএ মৌলিক ভাবে বিভেদকামী। 

সেই খসড়া প্রস্তাবে কাশ্মীর প্রসঙ্গের কথাও উল্লেখ আছে। সেই খসড়ায় বলা, “ইইউ তার সদস্য রাষ্ট্রগুলো, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ঘোষিত প্রস্তাব কাশ্মীরে লাগু করুক।গত বছর অক্টোবর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইইউএর সাংসদরা দুধাপে উপত্যকা পরিদর্শন করে গিয়েছেন। যে সফর ঘিরে ইতিমধ্যে সমালোচিত হয়েছে কেন্দ্রের সরকারের ভূমিকা। যেখানে দেশের বিধায়ক, সাংসদরা কাশ্মীর যেতে পারছেন না, সেখানে বিদেশি কূটনীতিকদের কীভাবে কাশ্মীর ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে সৌজন্যে এনডিটিভি।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment