আন্তর্জাতিক 

অ্যামাজন কর্তার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের সঙ্গে নাম জড়িয়ে গেল সৌদির যুবরাজ সালমানের

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : অ্যামাজন-প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক জেফ বেজোসের যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য সৌদির যুবরাজ সালমন হ্যাক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে । জানা গেছে কয়েক দিন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা অভিযোগ করেছিলেন তার ফোন হ্যাক করে কেউ ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে । তারপরেই মার্কিন নাগরিক হওয়ার কারণে এই অভিযোগ পেয়ে তৎপর হয়ে ওঠে মার্কিন প্রশাসন । তারা রাষ্ট্রসংঘ থেকে এই অভিযোগের সরাবত্তা পেয়েছে খবর পাওয়া গেছে । জানা গেছে ,সৌদি যুবারাজের সঙ্গে এক ডিনার-বৈঠকের পরই বেজোসের মোবাইল হ্যাক হয়েছিল। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে এমনটাই দাবি রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষজ্ঞদের। যদিও প্রথম থেকেই এ দাবিকে আজগুবি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সৌদির যুবরাজ।

কিন্তু সৌদির যুবরাজ জেফ বেজোসের মতো এক মার্কিন নাগরিকের উপর নজরদারি করবেন কেন? বিবৃতিতে সে উত্তরও দিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, ‘‘মার্কিন সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ সৌদি আরবের উপর লেখা রিপোর্ট বন্ধের জন্যই বা তা সম্ভব না হলে সেগুলি প্রভাবিত করতেই এমন চেষ্টা করা হয়েছে।’’

অ্যামাজনের সিইও বেজোসের মালিকানাধীন ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক রিপোর্ট লিখেছেন খুন হওয়া সাংবাদিক জামাল খাশোগী। অভিযোগ উঠেছে, সে জন্যই সংবাদপত্রের মালিক বেজোসের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয় সৌদি আরব। ২০১৮-র ১ মে একটি হোয়াটঅ্যাপস অ্যাকাউন্ট থেকে বেজোসের মোবাইলে একটি ভিডিয়ো মেসেজ এসেছিল। তা খোলার পরই নাকি খোয়া যায় বেজোসের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি। অভিযোগ, ওই হোয়াট্‌সঅ্যাপটি এসেছিল সৌদির যুবরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে। বেজোসের ব্যক্তিগত তথ্য-ছবি দিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ উঠেছে একটি মার্কিন ট্যাবলয়েড ‘ন্যাশনাল এনকোয়ারার’-এর বিরুদ্ধেও। সৌদির যুবরাজের নির্দেশেই খাশোগিকে খুন করা হয়েছে বলে ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে এই নতুন অভিযোগ।

গোটা বিষয়টি সৌদি আরব উড়িয়ে দিলে জেফ বেজোস-কাণ্ডে তদন্তকারীরা তুলে ধরেছেন চাঞ্চল্যকর তথ্য। ‘এফটিআই কনসাল্টিং’ নামে একট ব্যবসায়িক পরামর্শদাতা সংস্থায় প্রকাশিত রিপোর্টে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আমেরিকা সফরের সময় গত ২০১৮-র ৪ এপ্রিল সৌদির যুবরাজের সঙ্গে এক ডিনার-বৈঠক হয়েছিল বেজোসের। সে সময় মার্কিন লগ্নি টানতে নিজের দেশের প্রগতিশীল ভবিষ্যৎ তুলে ধরতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন সৌদির যুবরাজ। অন্য দিকে, মধ্য প্রাচ্য বিশেষ করে সৌদিতে নিজের ব্যবসা বাড়ানোর কথাও চিন্তা-ভাবনা করছিলেন বেজোস। ওই বৈঠকেই নিজেদের মোবাইল নম্বর আদানপ্রদান করেছিলেন সৌদির যুবরাজ ও বেজোস। এর প্রায় চার সপ্তাহ পরে বেজোসের মোবাইলে ৪.২২ এমবি-র একটি ভি়ডিয়ো-সহ হোয়াট্‌সঅ্যাপ মেসেজ এসেছিল। অভিযোগ, সৌদির যুবরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে আসা ওই ভিডিয়ো খোলার পর বেজোসের বহু ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি হ্যাকড হয়ে যায়। সে সময় স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল বেজোসের। তাঁর সঙ্গে এক নারীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়েও জলঘোলা চলছিল। সে সব অন্তরঙ্গ তথ্য ও ছবিই নাকি বেহাত হয়ে যায়। একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে ওই সমস্ত তথ্য ও ছবি ফাঁসের কথাও নাকি বেজোসকে বলেছিল ‘ন্যাশনাল এনকোয়ারার’।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment