কলকাতা 

পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে তাই মোবাইল দেখা যাবে না , নিদান মায়ের অভিমানে আত্মঘাতী মেয়ে দোলন দাস

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সব সময় মোবাইল নিয়ে বসে থাকা । পড়াশোনা মন দিয়ে না করে সারাক্ষণের মোবাইল ফেসবুকে থাকা । তা নিয়ে মায়ের বকাবকি , সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকার জন্য পড়াশোনা করার জন্য মায়ের চাপ । সামান্য বকাবকিতেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কলকাতার রিজেন্ট পার্কে আনন্দপল্লির বাসিন্দা দোলন দাস নিজের জীবনকে বাজি রাখলেন । কৈশোর শেষ হওয়ার আগেই ঝরে গেল একটি ফুল । যে বিকশিত হতে পারত , কিন্ত মোবাইল দেখার অমোঘ টান তাকে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা পথ বেছে নিতে হল । ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ এক কিশোরীকে তাঁর পরিবারের লোকজন নিয়ে যান এম আর বাঙুর হাসপাতালে। কিশোরীর গলায় ফাঁসের চিহ্ন ছিল। কিশোরীকে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ। জানা যায়, ওই কিশোরীর বাড়ি আনন্দপল্লিতে। স্থানীয় বিনয় বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে। নাম দোলন দাস। বাবা তাপস কর্মসূত্রে থাকেন গুজরাতে। এখানে দাদা এবং মায়ের সঙ্গে থাকত দোলন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, সর্ব ক্ষণ মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকত দোলন। তার ফলে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছিল। এই নিয়ে এর আগেও বেশ কয়েক বার মা রীতা বকাঝকা করেছেন মেয়েকে

সোমবার বিকালে সেই মোবাইল নিয়ে ফের অশান্তি হয় মামেয়ের মধ্যে। জানা গিয়েছে, মেয়ের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিতে যান রীতা। সেই সময় মোবাইলটি ছিটকে পড়ে ভেঙে যায়। এর পরই নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় দোলন। প্রথমে কিছু বুঝতে পারেননি তাঁর মা। কিন্তু খানিক পরেও ঘর থেকে কোনও সাড়া শব্দ না পাওয়ায় মা দরজা ধাক্কা দেন। কোনও সাড়া না পেয়ে তিনি প্রতিবেশী এবং স্থানীয় ক্লাবের সদস্যদের কাছে সাহায্য চান। স্থানীয় ক্লাবের সদস্য রাজা দাস বলেন, ‘‘দরজা ভেঙে ঢুকে দেখি সিলিং ফ্যান থেকে মায়ের শাড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছে দোলন। সঙ্গে সঙ্গে নামিয়ে নিয়ে যাই এম আর বাঙুর হাসপাতালে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment