দেশ 

জেএনইউতে হামলাকারী মুখোশধারীদের পরিচয় চারদিন পরেও জানাতে পারল না দিল্লি পুলিশ , তবে বাঙালির মেধাবী কন্যা ঐশী ঘোষকে হামলাকারী হিসাবে চিহ্নিত করল অমিতের সিট

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৫ জানুয়ারি মুখোশধারী একদল লোক হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে । এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষ আহত হন । তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঢেউ । ফলে কেন্দ্র সরকার বাধ্য হয়ে এই দিনের ঘটনা তদন্ত করার জন্য সিট গঠন করেন । সিটের প্রধান করা হয় জয় তিরকে । সেই জয় তিরকে আজ বহু প্রতীক্ষিত সাংবাদিক সম্মেলন করে ব্যাখা দিলেন ।

জয় তিরকের বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি মুখঢাকা বাহিনীর হামলার আগে থেকেই অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ঘিরে ক্যাম্পাসে গন্ডগোল চলছিল। ৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভার রুমে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্মীদের হেনস্থা করা হয়। পরের দিন সার্ভার রুম ঠিক করা হলে, ফের ভাঙচুর করা হয় বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ওই ঘটনায় জড়িতরা এসএফআই, এআইএসএফ, আইসা ও ডিএসএফ-সমর্থক। এই চারটি সংগঠনই বাম ঘেঁষা।

এর পর মূল ঘটনার দিন অর্থাৎ ৫ জানুয়ারিও দফায় দফায় ক্যাম্পাসে গন্ডগোল হয়েছিল বলে দাবি জয় তিরকের। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী-আধিকারিক, নিরাপত্তারক্ষী-সহ সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে হলে গেটে থাকা যে রেজিস্টারে নাম লিখে ঢুকতে হয়, সেই তালিকাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।’’ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এসআইটি প্রধান বলেন, ‘‘৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ ক্যাম্পাসের ভিতরে একটি জায়গায় একটি বেঞ্চের উপর কয়েক জন বসে ছিলেন। তাঁদের মারধর করা হয়। নিরাপত্তারক্ষীরা উদ্ধার করতে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়।’’

পুলিশের দাবি, ‘‘এর পর বিকেল পৌনে চারটেয় আরও একটি মারপিটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পেরিয়ার হস্টেলে ঢুকে বেধড়ক ভাঙচুর ও মারধর করা হয়।’’ এসআইটি কর্তার দাবি, এই পেরিয়ার হস্টেলে হামলায় ঐষী ঘোষ সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে কিছু প্রাক্তন পড়ুয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাও ছিল বলে দাবি পুলিশের। এর পর সন্ধে সাতটা নাগাদ ঘটে মুখবাঁধা বাহিনীর হামলা। ওই সময় হামলাকারীরা সবরমতি হস্টেলে ঢুকে ভাঙচুর করে এবং মারধর করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কিন্তু যে মুখোশধারী বাহিনীর হামলার জন্য সারা দেশ তোলপাড়, সেই হামলা যে কারা চালাল, সেই মূল ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারল না। সার্ভার রুম বা পেরিয়ার ছাত্রাবাসে হামলায় বাম ছাত্র সংগঠনগুলি জড়িত এবং সংগঠনগুলির নাম উল্লেখ করে বলেছে পুলিশ। কিন্তু মূল হামলায় অভিযুক্তদের কয়েক জনের ছবি দেখিয়ে নাম-পরিচয় জানালেও তারা কোন সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত তা এক বারও উচ্চারণ করেননি পুলিশকর্তা।

আবার সিসিটিভি ফুটেজ কেন পাওয়া গেল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসআইটি কর্তা জানিয়েছেন, ‘‘সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া-সহ বিভিন্ন ভাবে হাতে পাওয়া বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে কয়েক জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।’’

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment