কলকাতা 

পথ দেখাচ্ছে শাহিনবাগ দিল্লির জামিয়া নগর থেকে কলকাতার পার্ক সার্কাস ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে অঙ্গীকার বিভাজনের আইন প্রত্যাহার করতেই হবে মোদী-শাহদের !

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : পথ দেখাচ্ছে শাহিনবাগ । দিল্লির জামিয়ানগর সংলগ্ন এলাকায় শাহিনবাগে প্রায় ২০ দিন ধরে একটানা চলছে অবস্থান বিক্ষোভ । সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলে দাবি করেছেন শাহিনবাগের ৯০ থেকে ৮ বছরে বৃদ্ধ-শিশুরা । চলছে অবস্থান , চলবে অবস্থান যতদিন না প্রত্যাহার করা হবে সিএএ ।

এই আন্দোলনে অভিভূত হয়ে পড়েছে বিদেশী সংবাদ মাধ্যমগুলিও । তারা নিয়ম করে প্রতিদিন শাহিনবাগকে আলাদা করে কভারেজ দিচ্ছে । কয়েকদিন আগে এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বিশিষ্ট লেখক ও সমাজকর্মী দেবেন্দ্র যাদব আহ্বান জানিয়ে ছিলেন শুধু শাহিনবাগ নয় , সমগ্র ভারতকে প্রতিবাদের শাহিনবাগ হতে হবে । দেশের প্রতিটি শহরে শাহিনবাগ গড়ে তুলতে হবে । দেবেন্দ্র যাদবের সেই আহ্বান বৃথা যায়নি ।

এবার জেগে উঠেছে খোদ কলকাতা শহর । স্বাধীনতা আন্দোলনে যে শহর সমগ্র দেশকে পথ দেখিয়েছিল । সেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহারের দাবিতে পার্ক সার্কাস ময়দানকে আর একটা শাহিনবাগে পরিণত করেছে কলকাতার নাগরিক সমাজ । আট থেকে আশি বছরের সাধারন মানুষ এই অবস্থানে সামিল হয়েছে । দেশের এই দুর্দিনে ঘরে বসে আর থাকতে চান না ওঁরা। তাই বাড়ির কাজ সেরে, শিশুসন্তানকে কোলে নিয়েই চলে এসেছিলেন সকলে। পিছিয়ে ছিলেন না পুরুষরাও। আর তাঁদের ভরসা জোগাতে পাশে ছিলেন প্রবীণ-প্রবীণারা। এগিয়ে এলেন কলকাতা, যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি ও আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও। সেই সঙ্গে বহু সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার এ ভাবেই পার্ক সার্কাস ও মধ্য কলকাতার কিছু মহিলার উদ্যোগে পার্ক সার্কাস ময়দানে তৈরি হল ‘কলকাতার শাহিনবাগ’। আওয়াজ উঠল আজাদির। মোদী সরকারের আগ্রাসী নীতির হাত থেকে আজাদি, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে আজাদি। মঙ্গলবার দুপুর থেকে আন্দোলন শুরু করেছে এ শহরের শাহিনবাগ। আজ বুধবার দেখা গেল বনধের দিনেও বিভিন্ন বয়সের জনা পঞ্চাশ মহিলা নিজেদের কাজকর্ম সেরে চলে আসেন পার্ক সার্কাস ময়দানে। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় কিছু মানুষও।

জমায়েতকারীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন বেনিয়াপুকুর থানার পুলিশ । আন্দোলনকারীরা পুলিশকে বলেন, ‘‘আমরা এসেছি সংবিধান বাঁচাতে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার কথা ভেবে। এ ভাবে তাড়াবেন না। চাইলে আমাদের গ্রেফতার করুন।’’ পুলিশ আর বাধা দেয়নি। কারণ তত ক্ষণে সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন আশি পেরোনো নুর জাঁহা শাকিল বা পঞ্চাশের ফারহা ইসলামেরা। নুর জাঁহা বললেন, ‘‘দেশের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে, সেখানে বয়স কি কোনও বাধা হতে পারে? সরকার যখন জুলুম শুরু করে, তখন তো সাধারণ মানুষকে পথে নামতেই হবে। আমরা এ দেশের মানুষ। দেশের সংবিধান মেনে চলি। এখন এসেছি সেই সংবিধানের জন্য।’’

অবস্থানে সামিল হয়েছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী নুরজাঁহা শাকিল । তিনি বললেন , ‘‘গত কয়েক দিন চুপচাপ ছিলাম। কিন্তু জামিয়া মিলিয়া ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের উপরে যে ভাবে হামলা হল, তার পরে আর চুপ থাকা সম্ভব নয়। এর পরে তো আমার, আপনার উপরেও এ ভাবে হামলা হবে!’’

আর কলকাতার শাহিনবাগের ডাক দিয়েছেন আসমাত জামিল । যিনি কিডনি রোগী । সম্প্রতি তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে , এই সম্পর্কে তিনি বলেন , ‘‘শুধু দিল্লি থেকে গর্জে উঠলে হবে না। গোটা দেশকে জাগতে হবে। রাস্তায় নামতে হবে। না-হলে এই ধর্মীয় বিভেদের মাধ্যমে নাগরিকদের চিহ্নিত করা আটকানো যাবে না।’’

যে সমাজের নারীরা জেগে ওঠে সেই সমাজকে আটকানো দুস্কর । নারী শক্তির অসাধারন ক্ষমতা। সেই ক্ষমতার উপর জোর করে কলকাতার পার্ক সার্কাসে আর একটি শাহিন বাগ হয়ে উঠল । মোদী-অমিত শুনতে পাচ্ছেন , কলকাতা বলছে এই বিভাজন আর না ।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment