দেশ 

‘‘আমরা লড়াই করছি বলে গর্বিত। হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।’’ মাথায় ১৬টি সেলাই নিয়ে দেশবাসীর কাছে গেরুয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানালেন বাংলার মেধাবী কন্যা ঐশী ঘোষ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সমগ্র বিশ্বের কাছে ভারত আজ লজ্জায় অবনত । দেশের সেরা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরাও নিরাপদে নেই । এর লজ্জার আর কী বা হতে পারে ? এবার সময় এসেছে পথে নামার । রবিবার গেরুয়া বাহিনী তথা হিন্দুত্ববাদীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ছাত্র বাংলার  মেধাবী কন্যা ঐশী ঘোষ। সোমবার এইমস থেকে থেকে ছাড়া পাওয়ার পর হাড় হিম করা সেই পরিস্থিতি বর্ণনা করলেন জেএনইউ-র ছাত্র সংসদ সভানেত্রী ঐশী ঘোষ।

এ দিন ঐশী জানান, ক্যাম্পাসে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের ভিড় দেখে তাঁরা পুলিশকে আগাম জানিয়েছিলেন। কিন্তু, তা সত্ত্বেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। জেএনইউ-র উপাচার্য জগদেশ কুমারের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন ঐশী। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। ওঁরা বলেছিলেন, সব ঠিক আছে। আমরা ওদের সরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তার পরেই এই ঘটনা ঘটে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা লড়াই করছি বলে গর্বিত। হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।’’

রবিবার রাত থেকে টানাপড়েন শুরু। অবশেষে, সোমবার ঐশীকে ছাড়া হয়েছে হাসপাতাল থেকে। মাথায় ১৬টি সেলাই পড়েছে তাঁর। তবুও, সেই অবস্থাতেই রবিবারের পরিস্থিতি কোথায় পৌঁছেছিল তা জানালেন তিনি। বললেন, ‘‘রবিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ আমরা পুলিশকে জানিয়েছিলাম যে, আমরা নিরাপদ বোধ করছি না। ক্যাম্পাসে অনেক অজ্ঞাত পরিচয় মুখ জড়ো হয়েছিল।’’ ক্যাম্পাসে হামলা চালানোর জন্য অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে আগেই বিবৃতি দিয়েছে জেএনইউ-র ছাত্র সংসদ। এ দিন সেই কথাই তুলে ধরেছেন ঐশী। পুলিশকে জানানোর পরও ক্যাম্পাসে হিংসা এড়ানো গেল না কেন? ঐশী অভিযোগ করেছেন, ‘‘পুলিশ কোনও হস্তক্ষেপই করেনি।’’

ঐশীর কথায়, ‘‘ফি বৃদ্ধি নিয়ে আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলাম। আমরা ওই সমস্যার সমাধান চাইছিলাম। কিন্তু, কিছু ক্ষণের মধ্যেই মুখোশ পরা কিছু গুন্ডা সাবরমতী হস্টেলের কাছে আমাদের উপর হামলা চালায়।’’ ওই ঘটনার পর জেএনইউ ক্যাম্পাসে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় রক্তাক্ত ঐশীর একটি ভিডিয়োও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তাতে ঐশীকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘মুখোশপরা গুন্ডারা আমার উপর হামলা চালিয়েছে। আমি রক্তাক্ত। আমাকে নিষ্ঠুর ভাবে মারধর করা হয়েছে।’’

জেএনইউ-তে হামলা নিয়ে সরব সিপিএম। বিজেপি ও আরএসএস-কে নিশানা করে দলের সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘‘খোদ রাজধানীর বুকে দেশের এক নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এই কাণ্ড,  প্রশাসন এবং হামলাকারীদের মধ্যে যোগসাজশ ছাড়া হতেই পারে না। বিজেপি-আরএসেএসের যে হিন্দুত্বের কর্মসূচি, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জেএনইউ প্রথম সারিতে। সেই কারণেই এমন হামলা। ক্যাম্পাসের ভিতরে পড়ুয়ারা যদি নিরাপদ না হয়, তা হলে আমরা কেউ কোথাও সুরক্ষিত নই।’’

গতকালের হিংসা নিয়ে জেএনইউ-র সংসদের সভানেত্রী অভিযোগের আঙুল তুলেছেন জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফেডারেশন (জেএনইউটিএফ)-এর দিকে। তাঁর দাবি, ‘‘ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলাকালীন জেএনইউটিএফ আমাদের হুমকি দিয়েছিল। আমরা শুধু মাত্র আপোসে মীমাংসা চেয়েছিলাম।’’ গত কালের ঘটনার জন্য পড়ুয়াদের ঘাড়েই দোষ চাপিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জগদেশ কুমার। এ দিন তার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে ঐশী বলেন, ‘‘ক্যাম্পাসে হিংসা ছড়িয়েছে উপাচার্যের জন্যই। ওঁর ইস্তফা দেওয়া উচিত। শিক্ষা মন্ত্রকের উচিত ওঁকে সরিয়ে দেওয়া।’’


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment