Featured Video Play Iconঅন্যান্য 

স্বাগত ২০২০ , তবে শুভেচ্ছা জানাতে পারছি না বন্ধু , ক্ষমা করবেন !

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : স্বাগত ২০২০ । ২০১৯ সাল আমাদের কাছে অনেক আশা-প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিল । কিন্ত আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি । আমাদের বলতে আমার নিজের নয় । সমাজের , সকলের । আজ আমরা আতংকগ্রস্থ । ২০১৬-তে নোটবন্দী দেখেছিলাম । দেখেছিলাম সাধারন মানুষের কান্না , দেখেছিলাম সাধারন মানুষের যন্ত্রণা । আমারও কষ্ট হয়েছিল । অস্বীকার করার উপায় নেই । কিন্ত তার চেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে দিনআনা মানুষগুলির । নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু , জওহরলাল নেহেরু , মহাত্মা গান্ধী , আবুল কালাম আজাদ ,সর্বোপরি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কী এই ভারত চেয়েছিলেন? যে ভারতের নিম্নবিত্ত- দরিদ্র মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবে ।

নোটবন্দীর পর ভেবেছিলাম আমরা দেশভক্তির একটা কঠিন পরীক্ষায় পাশ করলাম । কিন্ত হল না , দেশের আর্থিক অবস্থা নোটবন্দীর পর থেকে আর ঘুরে দাঁড়ায়নি । ২০০৮ সালের  দেশের আর্থিক অবস্থা নিয়ে সমগ্র বিশ্ব যখন গবেষণা করেছে , কেন ভারতের অর্থনীতির কোনো ক্ষতি হল না । আমেরিকার ব্যাঙ্কগুলি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পরও ভারত অবিচল ছিল । উন্নতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল । মহম্মদ বিন তুঘলককে মনে পড়ে! তিনি নোটবন্দী করেছিলেন । সেই অবস্থার কথা আমার এখন মনে হচ্ছে । স্বর্ণমূদ্রার পরিবর্তে তুঘলক তামার মূদ্রা চালু করেছিলেন । কিছুদিন পর মানুষ তা নিতে অস্বীকার করে । জাল তামার মূদ্রায় ভরে যায় দেশ । একই অবস্থা এখন । দুহাজার টাকার নোট বের হয়েছে তাও এখন জালে ভরে গেল । ৫০০ টাকার নোটও জালে ভরে গেছে । ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এখন বলছে দুহাজার টাকা নোটের যা অবস্থা তাতে জাল নোটগুলির কোয়ালিটি ভাল । আর এক টাকার কয়েন সেটাও এখন কেউ নিতে চায় না ।

এতো আর্থিক অবস্থার কথা । ২০১৯-এ বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে ফের ক্ষমতায় এসেছেন নরেন্দ্র মোদী । আমরা ভেবেছিলাম এবার তিনি বিভাজনের রাজনীতি ত্যাগ করে মানুষের জনাদেশকে সম্মান দিয়ে দেশের উন্নয়নে ব্রতী হবেন । সবকা সাথ সবকা বিকাশ সবকা বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা তিনি করবেন । কিন্ত তিনি ক্ষমতায় এসেই জম্মু-কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করলেন । এহো বাহ্য ! জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হল । স্বাধীন ভারতে যা কল্পনা করা যায় না । মোদী তাই করলেন । কাশ্মীরে আজ চার মাস ধরে ইন্টারনেট বন্ধ , অবরুদ্ধ হয়ে আছেন কাশ্মীরের মানুষ ।

এখানেই শেষ নয় এবার এল সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন । এই আইনে মুসলিম বাদে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হল । এনআরসি কথা বলা হচ্ছে । অসমে ১৯ লক্ষ মানুষ আজ রাষ্ট্রহীন । তাদেরকে স্বাধীনতার ৭২ বছর পর নাগরিকত্বের প্রমাণ পেশ করতে হচ্ছে । সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা বলছেন এনআরসি করা হবে । ভোটার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় । অথচ ১৯৫০-এর জনপ্রতিনিধি আইন অনুসারে দেশের নাগরিক না হলে ভোটার হতে পারবে না বলে উল্লেখ্য আছে । এমনকি একটা সময়ে এনআরআইদেরও ভোটার হিসাবে ধরা হত না । কারণ তারা দেশের বাইরে থাকেন । এক আজব বিভীষিকা তৈরি করার চেষ্টা করছে রাষ্ট্রশক্তি । হিটলারের চেয়ে জঘন্য নীতি নেওয়া হচ্ছে । দেশের নাগরিক হিসাবে ইংরেজি নববর্ষে শুভেচ্ছা জানাতে পারছি না বন্ধু ! মনে পড়ে যাচ্ছে অসমের ১৯ লক্ষ বাঙালির কথা । তাদের রাষ্ট্রহীন হওয়ার কাহিনী । মনে পড়ে যাচ্ছে নতুন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের কথা যেখানে একটি সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে ।

২০২০ আমাদের সামনে সংবিধান বাঁচানোর লড়াইয়ের বছর হিসাবে চিহ্নিত হবে । দেশের সংবিধানকে বিনষ্ট করার যে প্রচেষ্টা চলছে তার বিরুদ্ধে সাধারন মানুষ গর্জে উঠেছে এটা আমাদের কাছে বড় প্রাপ্য । মানুষই সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষায় তৎপর হবে । এই ভারতের মহামানবের সাগর-তীরে দাঁড়িয়ে ২০২০-এর এটাই হোক আমাদের শপথ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment