কলকাতা 

এনপিআর ম্যানুয়েল থেকেই বাদ দেওয়া হল মুসলিমদের উৎসবকে ; অসাংবিধানিক বলছেন বিশিষ্ট আইনজীবী সরদার আমজাদ আলী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কয়েক দিন আগে রামলীলা ময়দান থেকে বলেছিলেন দেশের কোনো মুসলিমকে তাড়ানো হবে না । এটা কংগ্রেসের অপপ্রচার , শহুরে নকশালদের অপপ্রচার । শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন , বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা সিএএ নিয়ে আন্দোলনকে অর্থহীন বলে কটাক্ষ করেছিলেন । তাঁদের দাবি ছিল , ভারতীয় কোনো মুসলমানের বিপদ নেই । কিন্ত তাঁদের কথা আর নিয়ত দুটোর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ দেখা যাচ্ছে । সম্প্রতি কেন্দ্র ঘোষণা করেছে দেশজুড়ে ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার বা এনপিআর করা হবে । সেই এনপিআর-এর নির্দেশিকা কেন্দ্রের গৃহমন্ত্রকের পক্ষ থেকে ঘোষনা করা হয়েছে তার ৩২ পাতায় দেখা যাচ্ছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ‍বিভিন্ন ধর্মের উৎসবের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে । সেই তালিকায় ঠাঁই পায়নি ঈদ- উল-আযহা , ঈদুজ্জোহা ,মহরম, নবী দিবস-এর মত প্রধান মুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নাম । এতে স্পষ্ট দেশের একটা সম্প্রদায়কে নিশানা করছে বিজেপি সরকার ।

তাহলে মোদীজি যে বলছিলেন কংগ্রেস দল দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে , এটা ঠিক নয় । আসলে বিজেপির নেতা –মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত দেশের মানুষকে বিভ্রান্তকর কথা বলে অস্বস্তি তৈরি করছে মুসরিম সমাজের মধ্যে । এ বিষয়ে আমরা কথা বলেছিলাম রাজ্যের অন্যতম প্রবীণ আইনজীবী ও প্রাক্তন সাংসদ সরদার আমজাদ আলীর সঙ্গে । তিনি জানালেন , মুসলিমদের বাদ দিয়ে অন্য সম্প্রদায়ের উৎসবের তালিকা প্রকাশ করে কেন্দ্র সরকার সংবিধান বিরোধী কাজ করেছে । আসলে বিজেপি সরকার কোনোভাবেই সংবিধানকে মান্যতা দিয়ে কাজ করতে রাজী নয় । তাদের মূল লক্ষ্য এদেশকে হিন্দু রাষ্ট্র করা । সেই লক্ষ্যে তারা এগিয়ে যাচ্ছে ।

তিনি আরও বলেন এনপিআর করার মধ্যে কোনো ভুল নেই । সরকার দেশের নাগরিক বা জনগণনা করতেই পারে । তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না । তবে বিজেপির নিয়ত ঠিক নেই ।মনমোহন সিংহ-এর আমলেই তো এনপিআর শুরু হয়েছিল ? তাহলে আপনাদের আপত্তি করার কী আছে ? এই প্রশ্নের উত্তরে সরদার আমজাদ আলী বলেন , মনমোহন সিংহ সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল , দেশের মানুষের সংখ্যা গণনা করা । আর সেই সংখ্যার ভিত্তিতে সরকারের নীতি প্রণয়ন করা , উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা । কিন্ত মোদী সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে , মুসলিম এবং নিম্নবিত্ত মানুষকে চিহ্নিত করে তাদের উপর রাষ্ট্রীয় আঘাত নামিয়ে আনা । তা না হলে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো আইন হয় না । দেশের একটি বিশেষ ধর্মের মানুষদের বাদ দিয়ে আইন করা সংবিধানের মূল কাঠামোর বিরোধী । দেশের সংবিধানের উপর আঘাত হানতে চাইছে মোদী সরকার ।

কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে প্রকাশিত এনআরপি ম্যানুয়েলে প্রকাশিত মুসলিম বাদে অন্য ধর্ম  সম্প্রদায়ের উৎসবের তালিকা

তিনি আরও বলেন , সিএএ নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনের জন্য মোদীজি কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলছেন । কিন্ত আসলে কংগ্রেস নয় , মোদী সরকারের নীতির জন্যই আজ মানুষ রাস্তায়। তা না হলে মনমোহন সিংহ যখন এনপিআর করেছিলেন তখন মাত্র ১৬টি তথ্য চাওয়া হয়েছিল , এখন কেন ২১টি ? কেন জানতে চাওয়া হবে বাবা-মায়ের জন্ম তারিখ ? কেন জানতে চাওয়া হবে ধর্মীয় উৎসবে দিনগুলি ? তাও আবার একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কথা । তাই এই এনপিআরও সংবিধান বিরোধী । কেন্দ্র যে নির্দেশিকা জারি করেছে তাও সংবিধান বিরোধী । তিনি মমতার প্রশংসা করে বলেন , মুখ্যমন্ত্রী এখন ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে কেন্দ্র বললেও এখনই এই রাজ্যে এনআরপি করা হবে না । মমতার পথ ধরে কেরল এমনকি বিহারও এনপিআর করার আগে বিভিন্ন প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানতে চেয়েছে কেন্দ্রের কাছে ।

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment