প্রচ্ছদ 

প্রণববাবু আজীবন কংগ্রেস এই তথ্য সত্য নয়ঃ সর্দার আমজাদ আলি

শেয়ার করুন
  • 201
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরিঃ নাগপুরে আরএসএসের প্রশিক্ষিত কর্মীদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রনববাবুর হাজির থাকাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে এখন জোর কদমে আলোচনা চলছে। প্রণববাবুর মত একজন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা এবং দেশের প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতি কেন নাগপুরে আরএসএসের সদর দপ্তরে গেলেন তা নিয়ে সমগ্র দেশজুড়ে চর্চা চলছে। আমাদের রাজ্যও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রণববাবুর সমসাময়িক রাজনীতিবিদ এবং সহকর্মী প্রাক্তণ সাংসদ সর্দার আমজাদ আলি বাংলার জনরবে প্রণববাবুর নাগপুর সফরের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন এবং তিনি দাবি করেছেন প্রণব আজীবন কংগ্রেস এই তথ্য সঠিক নয়।

আমজাদ সাহেবের মতে,প্রণববাবু ১৯৬৭ সালের আগে একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন,তার কোন রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না। ১৯৬৭ সালে অজয় মুখোপাধ্যায়ের বাংলা কংগ্রেসে একজন তরুন নেতা হিসেবে প্রণব কাজ শুরু করেন।১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ খ্রিঃ পর্যন্ত তিনি বাংলা কংগ্রেসে ছিলেন।১৯৭১ সালে জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে বাংলা কংগ্রেস মিশে গেলে প্রণবও কংগ্রেসে যোগ দেন। সুতরাং তিনি আজীবন কংগ্রেস এই প্রচার ঠিক নয়। এহো বাহ্য! ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রীসভায় প্রণবকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। তারপর তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস গঠন করেন। শুধু তাই নয়,১৯৮৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রণববাবুর দল ২৭০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিলেন। সুতরাং তিনি আজীবন কংগ্রেস ছিলেন এটা মেনে নেওয়া যায় না। বরং তিনি কংগ্রেসকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। সুযোগ সন্ধানী মানুষ হিসেবে কংগ্রেসকে যখন তাঁর প্রয়োজন ছিল তখন সে কংগ্রেসের জন্য কাজ করেছে। আর আজ তাঁর আর কংগ্রেসকে প্রয়োজন নেই। তাই তিনি কংগ্রেসীদের আজন্মের বিশ্বাসে আঘাত করে তিনি বলতে পেরেছেন আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারকে “ভারতমাতার মহান সন্তান”। এটা তো কংগ্রেসের কোন কর্মী বলতে পারেন না। প্রণববাবু বললেন,কারণ তিনি সারা জীবন গিরগিটির মত রং বদলে রাজনীতি করেছেন।

প্রাক্তণ সাংসদ ও বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা দাবি করেন. অনেকে আবার প্রণবকে ইতিহাসবিদ বলতে চেয়েছেন। তিনি কোন ইতিহাসবিদ! তিনি কী ইরফান হাবিব নাকি রোমিলা থাপার! প্রণববাবু আসলে কিছুই নয়,আর এসএসের মঞ্চে গিয়ে তিনি তাঁর নিজের আসল স্বরুপকে তুলে ধরেছেন মাত্র। তিনি আজীবন কংগ্রেসী কোন সময়ই ছিলেন না,কোন সময়ই গান্ধীবাদীও ছিলেন না। তিনি আসলে একজন সুযোগ-সন্ধানী রাজনীতিবিদ ছাড়া আর কিছুই নন।

আর এক প্রশ্নের উত্তরে আমজাদ সাহেব বলেন, আমাদের রাজ্যের সংবাদ-মাধ্যমগুলি এ বিষয়ে নিরব রয়েছে। দু একটি সংবাদপত্র বাদ দিলে আর কেউ প্রণবের নাগপুর সফর নিয়ে কিছুই লেখেনি। শুধু তাই নয় যেসব সংবাদ মাধ্যম নিজেদেরকে সংখ্যালঘুদের মুখপত্র বলে দাবি করে তারাও প্রণবের নাগপুর সফর নিয়ে নিরব কেন? যে কেউ নাগপুর যেতে পারেন,কিন্ত একজন বিচক্ষণ নাগরিক যিনি সারা জীবন আরএসএসের বিরোধিতা করে এসেছেন,তাঁর নাগপুর যাত্রা নিয়ে অবশ্যই মানুষের প্রশ্ন করার অধিকার আছে বলে আমজাদ সাহেব মনে করেন।

তিনি বলেন,আমি এটা ভেবে অবাক হচ্ছি,আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রণবের নাগপুর সফর নিয়ে কেন নিরব। যিনি কথায় কথায় ট্যুইট করে মতামত দেন, এ বিষয়ে তিনি একটিও ট্যুইট কেন করলেন না। রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষেরা বিষয়টি খানিকটা উপলদ্ধি করতে পেরেছে বলে আমার মনে হয়েছে। আসলে প্রণববাবুর আরএসএস অফিসে যাওয়ার ফলে আরএসএসের আদর্শকে নীরবে কিংবা সরবে তিনি স্বীকৃতি দিলেন। এটাই আমাদের কাছে আক্ষেপের বিষয়। জঙ্গীপুরের প্রাক্তণ সাংসদ আরএসএস নেতা মোহন ভাগবতের সঙ্গে এক মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন এটা মেনে নিতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে।


শেয়ার করুন
  • 201
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment