কলকাতা 

বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনাদেশ , সাধারণ মানুষের পক্ষে জয়, আবারও প্রমাণ হল আরএসএস-বিজেপির বিকল্প একমাত্র কংগ্রেসই : ড. আবদুস সাত্তার

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নাজমা ইয়াসমিন : সোমবার বহু প্রতীক্ষিত ঝাড়খন্ড রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে । দেখা গেল বিজেপিকে হারিয়ে কংগ্রেস জোট এই রাজ্যে ক্ষমতায় এলো । কংগ্রেসের জোট সঙ্গী ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার নেতা হেমন্ত সোরেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন । এই পরিস্থিতিতে আমরা কথা বলেছিলাম প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ড. আবদুস সাত্তারের সঙ্গে । তিনি এই জয়কে সাধারন মানুষের জয় বলে অভিহিত করেছেন । সেই সঙ্গে বাংলার জনরব-কে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

প্রশ্ন : ঝাড়খন্ডে কংগ্রেস জোট সরকার ক্ষমতায় এলো এনিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া ?

আবদুস সাত্তার : এই জয় মানুষের জয় । আর কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী যেভাবে ওখানে জোট করেছিলেন তার মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল না । তাই এই জয়ের মূল কান্ডারি সোনিয়া গান্ধীকেও আমরা অভিনন্দন জানাই । আর এই জয়ের প্রয়োজন ছিল । কারণ দেশজুড়ে যে আরএসএস বিজেপির দাপাদাপি বন্ধ করার জন্য । দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর মোদী সরকার যে জনবিরোধী নীতি নিচ্ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠের জোরে তার বিরুদ্ধে এই রায় ।

প্রশ্ন : ঝাড়খন্ডের নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি ৩৭০ , রাম মন্দির নির্মাণ ,সিএএ, এনআরসি নিয়ে প্রচার করেছিল তা সত্ত্বে হেরে গেল তাহলে কী হি্ন্দুত্বের প্রচার ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন ?

আবদুস সাত্তার : অবশ্য ব্যর্থ হয়েছে  । এই রাজ্যে ৫টি নির্বাচনী সভা করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী । তিনি সভায় বলেছিলেন যারা সিএএ-র বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে তাদের পোশাক দেখলে চেনা যায় তারা কারা । তিনি পাকিস্থানকে প্রচারে এনেছিলেন । অন্যদিকে অমিত শাহও ১১ টি নির্বাচনী প্রচার করেছিলেন । সেখানে রাজ্যের সাধারন মানুষের কথা নয় , বলেছিলেন রাম মন্দির নির্মাণের কথা , এনআরসি-র কথা । কিন্ত ঝাড়খন্ডের মানুষ জাতের চেয়ে ভাতের কথা বেশি ভেবেছে তাই তারা বিভাজনের রাজনীতিকে প্রশয় না দিয়ে কংগ্রেস জোটের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রেখেছে ।

প্রশ্ন : কংগ্রেস জোটের প্রতি কেন ঝাড়খন্ডের মানুষ আস্থা রাখল ?

আবদুস সাত্তার : প্রথমেই বলেছি , কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী প্রথম থেকেই এই রাজ্যের জোটকে মসৃণ ভাবে গড়ে তুলেছিলেন । কোনো সমস্যা ছিল না । রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে হেমন্ত সোরেনকে আগে থেকেই ঘোষণা করা হয়েছিল । বিজেপি যখন ধর্মের তাস খেলছে , হিন্দু-মুসলমান করছে ঠিক তখনই কংগ্রেস জোট সুকৌশলে আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছে , তাদের জমি শিল্পপতিদের দিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে সরব হয়েছে , কৃষকের কথা ভেবেছে , বেকার যুবক-যুবতীদের কথা বলেছে । বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে । মানুষের রুটি-রুজি লড়াইকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে । কংগ্রেস রুটি -কাপড়া-মাকানের কথা ভেবেছে । আর বিজেপি ভেবেছে হিন্দু-মুসলিম, রামমন্দির করে হিন্দু ভোটের মেরুকরণ ঘটিয়ে জিতবে । তা ঝাড়খন্ডের মানুষ মেনে নেয়নি ।

প্রশ্ন : তাহলে কী এবার দেশজুড়ে বিভাজনের রাজনীতির অবসান ঘটবে বলে আপনি মনে করেন ?

আবদুস সাত্তার : বিভাজনের রাজনীতি আজকের নয় । স্বাধীনতার পর থেকে শুরু হয়েছে । দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সারা জীবন লড়াই করে গেছেন । আজ কংগ্রেসও সেই লড়াই জারি রেখেছে । দেশের সংবিধানকে বাঁচানোর লড়াই করছে কংগ্রেস । বিজেপি যখন দেশকে হিন্দুত্বের দিকে নিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই ঝাড়খন্ড জনাদেশ দিল আর না , এবার জয় হবে সংবিধানের । দেশের মানুষ সংবিধান লড়াইয়ে কংগ্রেসের পাশে থাকবে ।

প্রশ্ন : সিএএ নিয়ে যে গণআন্দোলন দেশজুড়ে চলছে তার প্রভাব কী পড়ল ঝাড়খন্ডে ?

আবদুস সাত্তার : দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সকলেই মিথ্যাচার করছেন । সংসদে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বলছেন এনআরসি হবে । আর রামলীলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী বলছেন , না এনআরসি-র কথা বলা হয়নি । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে , অসমে তো হয়েছে । আর প্রধানমন্ত্রী বলছেন ডিটেনশন ক্যাম্প নেই । সিএএ ও এনআরসি নিয়ে আন্দোলন চলছে , এটা গণআন্দোলন । দেশ যখন সংকটে পড়ে তখন ছাত্র-যুবরা আন্দোলনে সামিল হয় । জরুরি অবস্থার সময় হয়েছিল , এখন তো তার চেয়ে খারাপ অবস্থা । অতএব আন্দোলন তার নিজস্ব ছন্দেই চলবে । এটা মানতেই হবে উত্তরপ্রদেশে দমন পীড়ন , সিএএ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের উপর পুলিশি নির্যাতন এসবের বিরুদ্ধেই ঝাড়খন্ডের মানুষ রায় দিয়েছে ।

প্রশ্ন : তাহলে বিজেপির বিকল্প হিসাবে কী কংগ্রেসই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য শক্তির মর্যাদা পাচ্ছে ?

আবদুস সাত্তার : বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা তো একমাত্র কংগ্রেসের আছে । আঞ্চলিক দলগুলির সেই ক্ষমতা নেই । ঝাড়খন্ড থেকে কংগ্রেসের যে জয়যাত্রার সূচনা হল তা অব্যাহত থাকবে বলে আমাদের বিশ্বাস । কারণ বিজেপির ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে । বিজেপি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বলে আমাদের বিশ্বাস ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment