দেশ 

সিএএ-এনআরসি নিয়ে মানুষের গণআন্দোলনে বিব্রত মোদী , এনআরসির জন্য কাঠগড়ায় তুলল কংগ্রেসকেই ,‘জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তাঁদের আমলে হয়নি। যখন এই আইন পাশ হয় তখন কি কংগ্রেস ঘুমোচ্ছিল?’ : মোদী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সিএএ এবং এনআরসি নিয়ে মোদী সরকার যে বিব্রত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । দেশজুড়ে এনআরসি হবেই একথা গণতন্ত্রের মন্দির সংসদে দাঁড়িয়ে জোর দিয়ে বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । এমনকি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন চালু হওয়ার পর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ দাবি করেছিলেন , ভোটার কার্ড , আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় । প্রশ্ন উঠেছে তাহলে ভোটার কার্ড দেখিয়ে নির্বাচন হয় , সেই নির্বাচানের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয় ভোটার কার্ড নাগরিকত্বে প্রমাণ না হলে তাহলে  সরকারও তো অবৈধ হবে । কিন্ত এরপরেই শুরু হয় দেশজুড়ে গণআন্দোলন , যার জেরে শুধু উত্তরপ্রদেশে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে । আন্তর্জাতিক মহলে এই আইন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে , ভারতের মাথা জগৎসভায় হেঁট হয়েছে । এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে মোদী সরকার । এখন তাদের মন্ত্রীরা দাবি করছেন , এনআরসি কথা কেউ বলেননি । এনআরসি এখন হবে না । ইত্যাদি কথা বলে জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করছে । আসরে নেমেছে শিয়া সম্প্রদায়ের সন্তান ও বিজেপি নেতা মুক্তার আব্বাস নকভি । তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করছেন এনআরসি-র বিষয়ে । কিন্ত তাতেও আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না । যোগীর হুংকার সত্ত্বে উত্তরপ্রদেশে আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে , দেশজুড়ে সিএএ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন আবার নতুন করে দানা বেধেছে ।

এদিকে এই প্রেক্ষাপটে আজ রবিবার দুপুরে দিল্লির রামলীলা ময়দানে ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা । মূলত দিল্লি বিধানসভার আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে এই সভা ডাকা হলেও তা শেষ পর্যন্ত সিএএ-এনআরসি-র সভায় পরিণত হয়ে গেল । এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এনআরসি ইস্যুতে কংগ্রেসকে ফের টার্গেট করেন । আসলে নিজেদের দোষকে ঢাকা দেওয়ার জন্য কংগ্রেসকে টার্গেট করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে । বিগত তিন বছর ধরে অমিত শাহ এনআরসির ভয় দেখিযে চলেছিল এদেশের মুসলিমদের । এখন গণআন্দোলনের চাপে সুর নরম করে কংগ্রেসের উপর দোষারোপ করার চেষ্টা করছেন মোদী । আর এই কারণে মোদী তাঁর ভাষণে বেশিরভাগ সময়টা ব্যয় করলেন এনআরসি-সিএএ নিয়ে ।

রামলীলা ময়দানে মোদী এদিন প্রশ্ন করেন ,জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তাঁদের আমলে হয়নি। যখন এই আইন পাশ হয় তখন কি কংগ্রেস ঘুমোচ্ছিল?।  তিনি বলেন, ‘এনআরসি কংগ্রেসের সময়ে পাশ হয়েছিল। তখন কি তাঁরা ঘুমোচ্ছিল? আমরা মন্ত্রিসভা কিংবা সংসদ কোথাও এনআরসি আনি নি। আমরা যেখানে শরণার্থীদের ভারতের নাগরিকত্ব দিচ্ছি সেইসময়ে আমরা আবার তাঁদের বাদ দিয়ে দেওয়ার কথা কেন বলতে যাব।’

প্রসঙ্গত, রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন অসমে অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে ‘অসম অ্যাকর্ড’ নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যার ফল স্বরূপ  মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অসমে শুরু হয় এনআরসি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে দেখা যায় চূড়ান্ত তালিকায় বাদ গিয়েছে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের নাম। এই বাদের তালিকায় রয়েছে সানাউল্লাহর মত সেনা জওয়ান । ভারত সরকার এই সেনা জওয়ানের নাম তোলার জন্য কোনো চেষ্টা করেনি । নাম বাদ গেছে , প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদের পরিবারের , নাম বাদ গেছে অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আনোয়ারা তৈমুরের পরিবারের । কেন বাদ গেছে ? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন অমিত শাহ ?

অন্য দিকে এই মাসেই রাজ্যসভা এবং লোকসভাতে বিল পাশ করিয়ে নতুন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এনেছে কেন্দ্র। এই আইন অনুযায়ী ভারতের প্রতিবেশী তিন দেশ-পাকিস্তান,আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে আগত হিন্দু,শিখ,পার্সি,বৌদ্ধ এবং জৈন শরণার্থী যারা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে এ দেশে এসেছেন তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।কিন্তু এই আইনে মুসলিম সম্প্রদায়ের নাম না থাকায় ক্ষোভ ছড়ায়। তা সংবিধান বিরোধী বলে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু হয় ।

আসলে মোদী সরকার সিএএ নিয়ে যে গণআন্দোলন দেখতে পাচ্ছে তাতে বুঝতে পেরেছে আগামী দিনে আর ধর্মের ভিত্তিতে কোনো কিছু করার আগে ভাবতে হবে । তাই এনআরসি কথাটি ভুলে যেতে চাইছে । আর এনআরসির জন্য কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলছে । অথচ এনআরসি আসলে কী তা মোদী সরকার ক্ষমতায় না আসার দেশের মানুষ জানতেই পারতো না । সত্য লুকোনোর এই অপচেষ্টাও যে বিফলে যাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । কারণ দেশজুড়ে যে গণ-আন্দোলন চলছে তাতে আর যাইহোক কোনো স্বীকৃতি রাজনৈতিক দলের নেতা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত দেয়নি ।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment