দেশ 

বিক্ষোভ-আন্দোলনের জেরেই সিএএ-এনআরসি নিয়ে পিছু হঠছে কেন্দ্র ; ভারতীয় মুসলমানদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর জন্য সিএএ হয়নি রামলীলা ময়দান থেকে সংখ্যালঘুদের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সমগ্র দেশজুড়ে চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ । ইতিমধ্যে সমগ্র দেশে সিএএ আইনের বিরোধিতা করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন মানুষ নিহত হয়েছেন । বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে ১৬ জন মারা গেছে খবর । সবই হচ্ছে এই নাগরিক আইনকে কেন্দ্র করে । ঠিক এই প্রেক্ষাপটে আজ রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । মূল সভার উদ্দেশ্য ছিল ,দিল্লি বিধানসভার নির্বাচন । তবে আজকের নির্বাচনী জনসভা আক্ষরিক অর্থেই হয়ে উঠল সিএএ এবং এরআরসি নিয়ে সরকারের জবাব দেওয়া মঞ্চ ।দেশবাসীকে ওই দুই আইন নিয়ে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি বিরোধীদের আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংখ্যালঘু সমাজকেও আশ্বস্ত করলেন । তিনি বললেন দেশের ১৩০ কোটি জনতার এই আইনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই । বিশেষ করে মুসলমানদেরকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর জন্য এই আইন করা হয়নি । তিনি যা বলেছেন , তা সংক্ষেপে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল ।

যত আমাকে ঘৃণা করবেন, ভারতবাসী তত আমাকে ভালবাসবেন। বিরোধীদের টেপ রেকর্ড শুনবেন না, তাদের ট্র্যাক রেকর্ড দেখুন। মুসলিম দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতি কংগ্রেস আর তার শরিকেরা  হজম করতে পারছে না।  বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। ইসলামিক বিশ্বে এখনও ব্রাত্য পাকিস্তান। শরণার্থীদের সাহায্যের কথা বলতেন প্রকাশ কারাট। কিছু মানুষ বলছেন, তাঁদের রাজ্যে সিএএ চালু করবেন না। আপনারা তো মুখ্যমন্ত্রী, আইন জানা মানুষদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে এ কথা বলুন। আপনি কাদের বিরোধিতা করছেন, কাদের সমর্থন করছেন, সেটা গোটা দেশ দেখছে মমতা দিদি? হঠাত্ বদলে গেলেন কেন?

শরণার্থীদের নাগরিকত্বের কথা বলতেন মমতা দিদি। মমতা দিদি, বাংলার নাগরিকদের উপর থেকে আপনার ভরসা উঠে গিয়েছে? মমতা দিদি, আপনার হঠাত্ কী হল? মমতা দিদি এখন সোজা কলকাতা থেকে রাষ্ট্রপুঞ্জে পৌঁছে গিয়েছেন। মমতা দিদি কয়েক দিন আগেই সংসদে বলতেন, অনুপ্রবেশকারীদের আটকানোর কথা বলতেন।এই আইনে অনুপ্রবেশকারীরা ভয় পাচ্ছে।  এই আইন সেই শরণার্থীদের জন্য যাঁরা বহু বছর এ দেশে রয়েছেন। সিএএ কারও নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য নয়।শরণার্থীরা পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।আমরা শরণার্থীদের সাহায্য় করছি।

বিরোধীদের বলছি, দলিতদের জন্য মোদী যখন কাজ করে, আপনার তখন কষ্ট পাচ্ছেন?পড়শি দেশে যাঁরা ধর্মের কারণে পীড়িত, তাঁদের সাহায্য করা হবে।মিথ্যার কারবারীদের চিনে নিতে হবে। বিরোধীদের রাজনীতি কেমন, তা দেশ বুঝে গিয়েছে। যে মানুষেরা আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ধর্মের কারণে প্রতারিত, সেই শরণার্থীদের জন্য সিএএ । কিছু মানুষ সিএএ-কে গরিবের বিরুদ্ধে তৈরি করা আইন বলছেন। দেশের কোনও মুসলমানকে ডিটেনশন শিবিরে পাঠানো হচ্ছে না। আমরা তো এনআরসি তৈরিই করিনি।

সকলকে অনুরোধ করব, কংগ্রেস আর শহুরে নকশালরা ডিটেনশন শিবির নিয়ে যা বলছেন, তা মিথ্যে কথা। কিছু শিক্ষিত শহুরে নকশাল ভুল বোঝাচ্ছেন, সকলকে ডিটেনশন শিবিরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এনআরসি হওয়ার সময় কংগ্রেস ঘুমোচ্ছিল।সিএএ ভারতের কোনও নাগরিক, তা তিনি হিন্দু হোক বা মুসলমান, তাঁদের জন্য নয়। এতে দেশের ১৩০ কোটির কোনও নাগরিকের উপর প্রভাব পড়বে না।কংগ্রেসের মতো বিভাজনের রাজনীতি করিনি।মোদীর মূর্তি পোড়ান, দেশের সম্পত্তি নষ্ট করবেন না।মানুষ এই মিথ্যা মেনে নেবে না। কিছু রাজনৈতিক দল গুজব ছড়াচ্ছে। সিএএ পাশের পর থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

আমরা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ করেছি। এর জন্য উঠে দাঁড়িয়ে সংসদকে সম্মান করুন।মিথ্য়া ভিডিয়ো ছড়িয়ে দিল্লিতে গন্ডগোল ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে।দিল্লিবাসীকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।আমরা দিল্লিবাসীর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি। দিল্লি মেট্রোর চতুর্থ পর্যায়ের কাজ অকারণে আটকে রাখা হয়েছে। দিল্লি মেট্রোর জন্য আগের সরকার কিছু করেনি।বাধা সত্ত্বেও আমরা দিল্লি মেট্রোর নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ হয়েছে।ওঁরা ভিভিআইপি-দের কথা ভেবেছে, আমার ভিভিআইপি তো আপনারাই। দিল্লিবাসীর জীবনে বাধা দূর হোক, এটা কেন্দ্র সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ওই বিল পাশ হওয়ায় দিল্লির ১৭৩১ কলোনির মানুষ জমির মালিকানা পেয়েছেন । লোকসভা ও রাজ্যসভা— দুই কক্ষেই দিল্লির কলোনি নিয়ে বিল পাশ হয়েছে।ভুয়ো প্রতিশ্রুতির ফলে স্বাধীনতার বহু বছর পরে ভুগতে হয়েছে দিল্লিবাসীকে। দিল্লির ৪০ লক্ষের বেশি মানুষকে জমির মালিকানা দেওয়া হয়েছে। দিল্লির ৪০ লক্ষের বেশি মানুষের জীবনে এক নতুন অধ্যায় এসেছে।

জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) এবং সিএএ নিয়ে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। বিক্ষোভ-মিছিল ঘিরে হিংসায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লি দরিয়াগঞ্জ। উত্তরপ্রদেশে হিংসার জেরে নিহত হয়েছেন ১৬ জন। এই পরিস্থিতিতে সরকার কী পদক্ষেপ করে তা দেখার ছিল । সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল প্রধানমন্ত্রী কী বলেন ? প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ভারতীয় মুসলমানদের নাগরিকত্বের কথা বলেছেন তাতে আরও বিভ্রান্ত বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে । এদিকে এটা স্পষ্ট হয়েছে এনআরসি এখন আর হবে না । এনআরসি নিয়ে সরকার যে বিপাকে পড়েছে তা মোদীর ভাষণেই স্পষ্ট হয়েছে ।

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment