দেশ 

সিএএ-র আগুনে জ্বলছে উত্তরপ্রদেশ , মৃত্যু ১৪ জনের , পুলিশের উপর গুলি চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ ডিজিপি-র , সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে পুলিশের গুলি চালানোর ছবি , অসম-ত্রিপুরা-জম্মু-কাশ্মীরের পর উত্তরপ্রদেশেও অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ করল প্রশাসন , সিএএ আইন প্রত্যাহারের দাবি জানালেন মায়াবতী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন  এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে শনিবারও উত্তপ্ত হল যোগীর রাজ্য উত্তরপ্রদেশ। জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে শনিবারও একজনের মৃত্যু হয়েছে ।আজ ভোর রাতে চন্দ্রশেখর আজাদ গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ এ কারণে থমথমে রাজধানী দিল্লিও। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে বৃহস্পতিবার থেকে টানা দু’দিনের বিক্ষোভ অশান্তিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হল ১৪। তাঁদের মধ্যে আট বছরের এক নাবালকও রয়েছে। শুধুমাত্র প্রয়াগরাজেই ১৫০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গাজিয়াবাদে আটক ৬৫ জন।

শনিবার সকাল থেকেই উত্তরপ্রদেশের রামপুরে বিক্ষোভ শুরু হয়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল। যোগীর রাজ্যে গভীর রাত থেকেই কোপ পড়েছে বিভিন্ন জেলার ইন্টারনেট পরিষেবায়। রাজ্যে সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে এ দিন রাজ্যপাল আনন্দীবেন পটেলের সঙ্গে দেখা করবেন আদিত্যনাথ।

উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন সূত্রে খবর, শুক্রবার বিভিন্ন জেলায় জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে শুধুমাত্র মেরঠেই নিহত হয়েছেন চার জন। ওই সংঘর্ষের মধ্যে পড়েই পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় এক নাবালকের। জেলায় জেলায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বহু মানুষ। পুলিশ সূত্রে খবর, অন্তত ছ’জন পুলিশকর্মীর গুলি লেগেছে। তাঁদের অবস্থা গুরুতর। রাজ্য পুলিশের ডিজি ওপি সিংহের দাবি, পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে জনতা। তবে সেই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিয়ো। তাতে দেখা গিয়েছে, জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধের সময় গুলি চালাচ্ছে উত্তরপ্রদেশের পুলিশকর্মীরা। গুলিচালনা ছাড়াও সংঘর্ষের সময় পাথর ছোড়া ও পুলিশের একাধিক গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে।

উত্তরপ্রদেশের জেলার জেলায় সংঘর্ষের পর রাত থেকেই লখনউ, বিজনৌর, মেরঠ, ফিরোজাবাদ, কানপুর, সম্বল, মোরাদাবাদ, আলিগড়, বরেলী, প্রয়াগরাজ (ইলাহাবাদ)-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাজ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে এ দিন রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

এই পরিস্থিতিতে সিএএ-র বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)-র নেত্রী মায়াবতী। এ দিন কেন্দ্রের কাছে এই আইন প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। সেই সঙ্গে তাঁর আরও দাবি, সিএএ ঘিরে এনডিএ জোটের মধ্যেই মতপার্থক্য তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি, শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করার জন্যই সকলের কাছে আবেদন করেছেন মায়াবতী। তাঁর কথায়, ‘‘এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে এখন এনডিএ-র মধ্যেই মতপার্থক্য গড়ে উঠতে শুরু করেছে। অতএব এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হোক। সেই সঙ্গে সকলে যাতে কেবলমাত্র শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করেন, তারও আবেদন করছি।’’

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment