কলকাতা 

মুসলিম নয় বলে যাঁরা নিজেদের নিরাপদ ভাবছেন তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সৌরভ কন্যার সোস্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে আলোড়ন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন যখন তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে ঠিক সেই সময় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের প্রেসিডেন্টে কন্যা বঙ্গ সন্তান সানা গঙ্গোপাধ্যায়ের সোস্যাল মিডিয়ায় এক পোষ্টকে ঘিরে দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছে ।সদ্য সাবালিকা হয়েছে সানা । এই পরিস্থিতিতে দেশ-সমাজ সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।ইনস্টাগ্রামে স্টোরি হিসেবে পোস্ট করেছেন তরুনী সানা । তবে নিজে কিছু বলেননি । বা কোনো মন্তব্য করেননি ।  তিনি ২০০৩ সালে প্রকাশিত খুশবন্ত সিংহের ‘দ্য এন্ড অব ইন্ডিয়া’বইটিকে বেছে নিয়েছেন। সানা সেই বই থেকে তুলে ধরে লিখেছেন ,‘‘প্রতিটা ফ্যাসিস্ট সরকারের একটা দল বা গোষ্ঠীর প্রয়োজন হয়। নিজেদের বেড়ে ওঠার জন্য তারা ওই দল বা গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার করতে তাদের শয়তানেও পরিণত করে। দু’একটা দল দিয়ে এটা শুরু হয়। কিন্তু সেটা কখনওই সেখানে শেষ হয় না। ঘৃণার উপর নির্ভর করে যে আন্দোলন, সেই আন্দোল নিজেকে ধরে রাখতে পারে অবিরাম একটা ভয় বা দ্বন্দ্বের বাতাবরণ তৈরি করে।’’

ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে সানা এই উদ্ধৃতির মাধ্যমে আসলে বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারকেই নিশানা করেছেন। এখানেই থেমে থাকেননি সানা। খুশবন্তের লেখার আরও কিছু অংশ তিনি পোস্ট করেছেন। সেই অংশে লেখা হয়েছে, ‘‘আজ যারা আমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছি, ভাবছি আমরা তো মুসলমান বা খ্রিস্টান নই, তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছি। সঙ্ঘ ইতিমধ্যেই বামপন্থী ইতিহাসবিদ এবং পশ্চিমি সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী যুবসমাজকে টার্গেট করেছে। কাল তাদের ঘৃণা গিয়ে পড়বে স্কার্ট পরিহিত মহিলা, যাঁরা মাংস খান, মদ্যপান করেন, বিদেশি সিনেমা দেখেন, বছর বছর তীর্থে যান না, দাঁতনের পরিবর্তে টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, আয়ুর্বেদিকের বদলে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ পছন্দ করেন, দেখা হলে ‘জয় শ্রী রাম’ বলার বদলে হাত মেলান বা চুম্বন করেন, তাঁদের উপর। কেউ নিরাপদ নয়। ভারতকে বাঁচাতে হলে এগুলি আমাদের ভীষণ ভাবে অনুধাবন করতে হবে।’’

সোস্যাল মিডিয়ার দৌলতে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে সানার এই পোষ্ট আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে । আসলে এই পোষ্টে খুশবন্তের জবানিতে সানা ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা প্রশংসনীয়। কেউ কেউ আবার সানার বয়সকে উল্লেখ করে লিখেছেন, রাজনীতি বোঝার জন্য বড়ই অল্প বয়স। সেখানেই অপর পক্ষ মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতে ভোট দেওয়ার বয়স কিন্তু ১৮। সানার বয়স ১৮ পেরিয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তাঁদের একাংশ।

সানার এই পোষ্ট ঘিরে সমগ্র দেশ জুড়ে যে আলোচনা চলছে তা নিয়ে বাবা হিসাবে সৌরভ গাঙ্গুলি কী মন্তব্য করেন সেদিকেই তাকেই রয়েছে সাধারন মানুষ । তবে নতুন প্রজন্মের সন্তান হিসাবে সানার এই পোষ্ট ভবিষ্যত ভারত সম্পর্কে মানুষকে আরও বেশি আশাবাদী করে তুলেছে । তারা মনে করছে , আগামী দিনে এই দেশকে যারা ধর্মের মোড়ক দিয়ে ধরে রাখতে চাইছে সানাদের মত আধুনিক প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা তা মানবে না ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment