কলকাতা 

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফাপত্র আকস্মিক গ্রহণ করল উচ্চশিক্ষা দফতর , প্রতিহিংসার শিকার বলছেন শোভন-বৈশাখী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করে নিয়ে রাজ্য রাজনীতি চাঞ্চল্য তৈরি করলেন উচ্চ-শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ।বৈশাখীর পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে শোভনের তৃণমূলের সম্পর্ক যে চূড়ান্তভাবে কেটে গেল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

গত ১৪ আগষ্ট কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভনের সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগেই মিল্লি আল-আমিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা পদ থেকে তথা চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি গিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পার্থ সে ইস্তফা গ্রহণ করেননি। যে সব অভিযোগ তুলে বৈশাখী পদত্যাগ করছিলেন, সেই অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বরং। কিন্তু পরিস্থিতি না বদলানোয় চলতি মাসের ৫ তারিখে ই-মেল করে ফের পার্থকে পদত্যাগপত্র পাঠান বৈশাখী। সে বারেও পার্থ জানিয়ে দেন যে, ইস্তফা তিনি গ্রহণ করছেন না। মিল্লি আল-আমিন কলেজের সমস্যার সমাধান দ্রুত করার আশ্বাস তিনি ফের বৈশাখীকে সে দিন দেন বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু তার ১২ দিনের মাথায় খবর এল, গৃহীত হয়েছে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা। নতুন টিচার ইনচার্জ নিযুক্ত করা হয়েছে পারভিন কউরকে।

এ দিন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা গৃহীত হওয়ার খবরে মুখ খুলেছেন শোভন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘গত সপ্তাহেও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হল যে, ইস্তফা গ্রহণ করা হবে না, কলেজের সমস্যার সমাধান দ্রুত করা হবে। তা হলে এই ক’দিনে কী পরিস্থিতি তৈরি হল বা অবস্থার কী এমন পরিবর্তন হল যে, আচমকা এ ভাবে কিছুই না জানিয়ে ইস্তফা গৃহীত হয়ে গেল?’’

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘রাজনীতি বা আমার শিক্ষকতা, অসম্মান নিয়ে কোনওটাই যে করা সম্ভব নয়, তা আমি তো একাধিক বার বলেছি। রাজনীতি থেকে আগেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম। কলেজের পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে সেখানেও যে আর থাকতে চাই না, তা-ও শিক্ষামন্ত্রীকে বার বার জানিয়েছিলাম। শিক্ষামন্ত্রীই আমার ইস্তফা নিতে চাননি। বার বার ইস্তফা ফিরিয়ে দিয়েছেন। বার বার আশ্বস্ত করেছেন যে, কলেজের সমস্যার সমাধান দ্রুত করা হবে। কিন্তু আজ আচমকা জানলাম, আমার ইস্তফা গৃহীত হয়েছে। সেটাও নতুন টিচার ইনচার্জের কাছ থেকে জানলাম।’’ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এ দিন অসৌজন্যের অভিযোগ তুলে বৈশাখী বলেন, ‘‘এত বার উনিই আমাকে আটকালেন। বার বার বললেন, কলেজের নতুন পরিচালন সমিতি বানিয়ে দেবেন, সব সমস্যা মিটিয়ে দেবেন। তার পরে হঠাৎ শুনলাম আমার চাকরি আর নেই। কিন্তু সেটা পার্থবাবুর কাছ থেকে আর শুনলাম না। তিনি যে সিদ্ধান্ত বদলেছেন, তিনি যে আমার ইস্তফা গ্রহণ করছেন, তা আমাকে জানানোর ন্যূনতম প্রয়োজনটাও তিনি অনুভব করলেন না।’’

শিক্ষা দফতরের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দেখছেন  শোভন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘‘আমার উপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার ইচ্ছা যদি থাকে, তা হলে ওঁরা তা করতেই পারেন। কিন্তু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন প্রতিহিংসার শিকার বানালেন? কলেজের চাকরিটা তো বৈশাখীকে তৃণমূল দেয়নি। ওটা তো তাঁর নিজের অর্জন। রাজনীতির সঙ্গে ওটার কী সম্পর্ক ছিল? কেন দিনের পর দিন ওঁর কলেজের সমস্যাটাকে ঝুলিয়ে রাখা হল, কেন আচমকা এ ভাবে ইস্তফা গৃহীত হল, বুঝলাম না।’’

শোভন আরও বলেন যে, ‘‘আমার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আমি নিজে নিই। কারও কথায় চলি না। আমার কোনও সিদ্ধান্ত কারও পছন্দ হচ্ছে না বলে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে যদি তার ফল ভোগ করতে হয়, তা হলে খুব দুর্ভাগ্যজনক।’’ অবশ্য এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে চাননি ।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment